রাজধানীতে আরেকটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল

রাজধানীতে আরেকটি অত্যাধুনিক বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। খিলগাঁও- মুগদাপাড়ায় স্থাপিত ৫শ শয্যার এই হাসপাতালটি আজ শুক্রবার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের বেড, অপারেশন থিয়েটার, আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি এবং রোগ পরীক্ষার ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের। জরুরি বিভাগ, হাসপাতালে প্রবেশের গেট, রোগী গ্রহণের বিভাগটিও বিদেশের নামিদামি হাসপাতালের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে। রোগীদের জন্য লিফটের বাইরে সিঁড়ি (র্যাম সিঁড়ি) রয়েছে। এতে করে মুমূর্ষু রোগীদের ট্রলি কিংবা হুইল চেয়ারে করে দ্রুত হাসপাতালে আনা যাবে। হাসপাতালের ওয়ার্ড, বেড এবং অভ্যন্তরীণ পরিবেশ দেখলে মনে হবে এটি একটি পাঁচতারকা হোটেল। রাজধানীর শাহজাহানপুর, মানিকনগর, মুগদাপাড়া, সবুজবাগ, খিলগাঁও, বাসাবো, মাদারটেক, নন্দীপাড়াসহ আশপাশের এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি অত্যাধুনিক সরকারি হাসপাতাল। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার থাইল্যান্ডের ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর ও ভারতের নামিদামি অত্যাধুনিক হাসপাতালের আদলে এই হাসপাতালটি স্থাপন করেছে। ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়। এতে কেবিন রয়েছে দেড়শ। দ্রুত হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পেছনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মোঃ সিফায়েত উল্লাহর অবদান অনেক বলে জানান স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। ২০০৬ সালে হাসপাতালটি নির্মাণে উদ্যোগ নেয়া হলেও জমি নিয়ে মামলা হয়। বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পের কাজ। পরে বর্তমান সরকার এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে বলেন, হাসপাতাল নির্মাণে সরকারকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য। ৫শ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান মিয়া বলেন, সকল ধরনের চিকিত্সা সেবা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার অত্যাধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। রোগীদের চিকিত্সা সেবার জন্য এখন আর বিদেশে যেতে হবে না। এক কর্মকর্তা বলেন, এত সুন্দর হাসপাতালটির রক্ষণাবেক্ষণ সঠিকভাবে করা না হলে অন্যান্য সরকারি হাসপাতালের মতোই অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠবে। তাই এর রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনাও আধুনিক মানের হওয়া উচিত। তেরো তলার এই হাসপাতালের মোট জনবল ৬৫০। এর মধ্যে ডাক্তার-নার্স, কর্মকর্তা, টেকনিশিয়ান ও তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারীর পদ ৫১১টি। অত্যাধুনিক লিফট রয়েছে ৬টি। হাসপাতালটি নির্মাণ করেছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। গ্রাউন্ড ফ্লোরে ৫০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এর আগে কুর্মিটোলায় অত্যাধুনিক ৫শ বেডের হাসপাতাল, আগারগাঁও নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউট ও তেজগাঁও ইএনটি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে সরকার। শ্যামলীতে ২৫০ বেডের যক্ষ্মা রোগীদের জন্য অত্যাধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার কাজ শেষের পথে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, এ সরকারের স্বাস্থ্য খাতে সাফল্য অনেক। অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা থাকলেও স্বাস্থ্যখাতে সরকার শতভাগ সফল। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ বলেন, মুগদাপাড়ার ৫শ বেডের অত্যাধুনিক হাসপাতালটি চালু হওয়ার পর শুধু এলাকাবাসী নয় নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, কুমিল্লা, চাঁদপুরসহ পূর্বাঞ্চলের রোগীরা দ্রুত সুচিকিত্সা পাবেন। এত দ্রুত দেশে অত্যাধুনিক চিকিত্সাসেবা সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান সবচেয়ে বেশি। তার দিক-নির্দেশনায় স্বাস্থ্য খাত এতো সাফল্য অর্জন করেছে।