মালালার ওপর হামলা হয় তালেবান বিরোধী প্রচারণার কারণে

পাকিস্তানের নারী শিক্ষা আন্দোলনের কিশোরী কর্মী মালালা ইউসুফজাইয়ের ওপর হামলা করা হয় তালেবানবিরোধী প্রচারণার কারণে। শিক্ষা আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে নয়। গত বুধবার তালেবান এক চিঠিতে এ কথা জানায়। তবে গোষ্ঠীটি মালালার ওপর হামলার জন্য দু:খ প্রকাশ করেনি। দেশে ফিরে এসে একটি মাদ্রাসায় যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠী তালেবান। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্সের। জাতিসংঘে মালালা শিশু শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য দেয়ার পর আদনান রশিদ নামে এক তালেবান নেতা এক চিঠিতে এ আহবান জানান। প্রায় দুই হাজার শব্দে লেখা চিঠিটি লেখা হয়েছে। চিঠিটি বুধবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ওই চিঠির ভাষা অত্যন্ত মার্জিত এবং বিভিন্ন দার্শনিক, রাজনীতিকের উদ্ধৃতিতে পূর্ণ। ইংরেজিতে লেখা চিঠিতে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৫ জুলাই। তালেবানের পক্ষ থেকেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত করা হয়েছে। চিঠিতে রশিদ বলেন, একজন ভাইয়ের মতোই আমার সব আবেগ তোমার প্রতি, কেননা আমরা একই ইউসুফজাই গোত্রভুক্ত। তিনি আরো বলেন, তোমার আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা আমার জন্য ছিল এক আঘাত। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর কখনোই হবে না, আমি তোমাকে আগেও এ ব্যাপারে বলেছি। পরিশেষে তোমাকে বলব, দেশে ফিরে এসো। ২০১২ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় সোয়াত উপত্যকায় নারীশিক্ষাকর্মী মালালার ওপর গুলি চালায় তালেবান। উন্নত চিকিত্সার জন্য তাকে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়। এরপর থেকে মালালা সেখানেই অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি স্কুলেও ভর্তি হয়েছেন। সমপ্রতি ১২ জুলাই জাতিসংঘে ভাষণ দেন মালালা। সেখানে তিনি বলেন, কলম তরবারি থেকেও শক্তিশালী। পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা আদনান রশিদ জেনারেল পারভেজ মোশাররফকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে একবার জেলেও গিয়েছিলেন। তালেবান নারীশিক্ষার বিরোধী বলে প্রচারণা চালানোর কারণেই মালালা হামলার শিকার হয়েছেন বলে যে অভিযোগ রয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে ওই চিঠিতে। রশিদ বলেন, দয়া করে মনে রেখো, তালেবান কিংবা মুজাহিদিন তারা কেউই কোন পুরুষ অথবা নারীশিক্ষার বিরোধী নয়। তালেবান মনে করে তুমি সচেতনভাবে তাদের বিরুদ্ধে লিখছিলে এবং সোয়াত উপত্যকায় ইসলামী ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে তাদের কর্মকাণ্ডকে বিদ্বেষপূর্ণভাবে বর্ণনা করছিলে। তোমার লেখা ছিল উস্কানিমূলক। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমারা তাদের মানদণ্ড অন্য জাতিগোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার, ইংরেজ এবং ইহুদিদের সমালোচনা করেন। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা আদনান রশিদ মালালার ওপর হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে অভিযোগ করেন মালালা তালেবানবিরোধী প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত ছিল।