খোশ আমদেদ মাহে রমজান

আজ ৯ রমজান ও দ্বিতীয় জুমআ। জামে মসজিদগুলোতে আজ উপচেপড়া ভিড় দৃশ্যমান হবে। জুমআর খুত্বায় খতিব সাহেবগণ পবিত্র রমজানুল মুবারকের গুরুত্ব-তাত্পর্য, দান-সাদকার এবং যাকাতের ফজিলত, সাহারী ও ইফতারের মাহাত্ম্য উল্লেখ করে সাবলীল ভাষণ প্রদান করবেন। মুসল্লিগণ কায়মনোবাক্যে অশ্রুসিক্ত নয়নে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন প্রভু পরোয়ার দেগারের দরবারে। রমজান মাসে মহামহিম প্রথম পৃষ্ঠার পর আল্লাহ তায়ালা প্রতিটি নফল কাজের সওয়াব ৭০ গুণ বৃদ্ধি করে থাকেন। সে হিসাবে এক টাকা দান করলে এ সময় ৭০ টাকা দান করার সওয়াব হাসিল করা সম্ভব। তাই এখন ঈমানদার ও রোজাদারগণ অনাথ, আর্ত, সহায়-সম্বলহীন ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাবার জন্য তাদের দানের হস্তকে সম্প্রসারিত করবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আল্লাহর পথে ব্যয় করো, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর তোমরা মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করো। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদের ভালোবাসেন” (আল-বাকারা-১৯৫)। যারা আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ একটি বীজের মতো, যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায়। আবার প্রত্যেকটি শীষে একশো করে দানা থাকে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন। আল্লাহ অতি প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ (আল-বাকারা-২৬১)। যারা নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, রাতে ও দিনে গোপনে ও প্রকাশ্যে। তারা প্রতিদান পাবে তাদের রবের কাছে। সুতরাং তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না (আল-বাকারা-২৭৪)। হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদের যে রুজি দান করেছি তা থেকে তোমরা ব্যয় করো সেই দিন আসার পূর্বে যেদিন বেচা-কেনা, বন্ধুত্ব এবং সুপারিশ থাকবে না। আর অবিশ্বাসীরাই প্রকৃত অত্যাচারী (আল-বাকারা-২৫৪)। তোমাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করতে কিসে বাধা দেয়, যখন আল্লাহই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মালিক? (আল-হাদীদ-৯)। হে মু’মিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেনো তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এ কারণে গাফেল হয়, তারাই তো হবে ক্ষতিগ্রস্ত। আমি তোমাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় করো। অন্যথায় সে বলবে: হে আমার পালনকর্তা, আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলেন না কেনো? তাহলে আমি দান-সাদকাহ করতাম এবং সত্কর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হতাম? (আল-মুনাফিকুন ঃ ৯-১০)। রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, আল্লাহ তা’য়ালা মানব সন্তানকে লক্ষ্য করে বলেন: তুমি দান করো, তাহলে তোমার জন্যে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) দান করা হবে (বুখারী ও মুসলিম)। হযরত আসমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ (স.) তাঁকে বলেছেন, দান করো, কতো দান করলে তা বড় করে দেখার জন্যে হিসাব করতে যেওনা। তাহলে আল্লাহ তোমার বিপক্ষে হিসাব কষবেন (বুখারী ও মুসলিম)। রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, হে আদম সন্তান! যদি তোমরা অতিরিক্ত সম্পদ দান করো তাহলে তা তোমার জন্যে কল্যাণকর হবে। আর যদি তা সঞ্চয় করে রাখো, তাহলে তা হবে তোমার জন্যে অকল্যাণকর। তবে হ্যাঁ, তোমার জীবন ধারণের ন্যূনতম সম্পদের জন্যে তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না। এ দানের সূচনা করো তোমার (গরিব আত্মীয়-স্বজন) পরিবার থেকেই (মুসলিম)। হযরত আবু হুরাইরাহ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, দানকারী আল্লাহর নিকটতম, বেহেশতের নিকটতম এবং মানুষের নিকটতম হয়ে থাকে। আর দূরে থাকে জাহান্নাম থেকে। পক্ষান্তরে কৃপণ ব্যক্তি অবস্থান করে আল্লাহ থেকে, বেহেশত থেকে এবং মানুষ থেকে দূরে এবং জাহান্নামের নিকটবর্তী। অবশ্যই একজন জ্ঞানহীন দাতা একজন কৃপণ ইবাদতকারীর তুলনায় আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় (তিরমিযী)। রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, আমার যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকে, তাহলে তিন রাত অতিবাহিত হবার পরও তার সামান্য কিছু আমার কাছে অতিরিক্ত থাকুক তা আমি পছন্দ করি না। তবে হ্যাঁ, দেনা পরিশোধের জন্যে সামান্য যতটুকু প্রয়োজন (কেবল ততটুকু রেখে বাকী সম্পদ আল্লাহর রাহে দান করে দেবো) (বুখারী)। রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, দান-খয়রাতে সম্পদ কমে যায় না এবং ক্ষমা দ্বারা আল্লাহ বান্দাহর ইজ্জত-সম্মান বাড়িয়ে দেন। আর যে আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে সমুন্নত করেন (মুসলিম)। সুতরাং সওয়াব লাভের এই বরকতপূর্ণ মাসে আমরা অধিক ইবাদত-বন্দেগীর সাথে দান সাদকার পরিমাণও বৃদ্ধি করে রিক্তহস্ত মানুষদেরকে অন্তত কিছুটা হতদরিদ্রতা হতে চিন্তা মুক্ত করি, আল্লাহ আমাদের সেই তাওফীক দান করুন, আমীন। ই-মেইল ঃ mzhazadi@yahoo.com