বাংলাদেশে ক্ষমতার বদল হলেও ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাবে না

আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যদি ক্ষমতার পালাবদল হয় সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গির কোন পরিবর্তন হবে না। ভবিষ্যতে শেখ হাসিনার জায়গায় খালেদা জিয়া ক্ষমতায় গেলেও ভারত বর্তমানের মতই এগিয়ে যাবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারত সরকারের এমন মনোভাবের ইঙ্গিত দিয়ে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, ‘দিল্লি বলেছে ঢাকায় পরিবর্তন হলেও চিন্তা নেই’। নিরাপত্তা থেকে বাণিজ্য। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর নয়াদিল্লি এবং ঢাকার মধ্যে সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা বেড়েছে। বিভিন্ন কূটনৈতিক মঞ্চে সে কথা অকপটে জানিয়েছে ভারতীয় নেতৃত্ব। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে ঢাকায় ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঘটলে কী হবে? আনন্দবাজার লিখেছে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি হচ্ছে, বাংলাদেশে বর্তমান বিরোধী দল আগামীতে ক্ষমতায় এলেও বাংলাদেশের সাথে ভারতের সহযোগিতা হোঁচট খাবে-তেমনটি মনে করার কোন কারণ নেই। এ বিষয়ে দিল্লির সাউথ ব্লকের এক কর্মকর্তার বক্তব্য হচ্ছে, কোনও নির্দিষ্ট সরকার নয়, নয়া দিল্লি বরাবরই বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়নের কথা বিবেচনা করেই দ্বিপাক্ষিক পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জায়গায় ভবিষ্যতে নেতা খালেদা জিয়া যদি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন তাহলেও বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সহযোগিতা অব্যাহতই থাকবে। সাউথ ব্লক সূত্র আরো জানিয়েছে, ভারতের পক্ষ থেকে যিনি যখনই বাংলাদেশ সফরে গিয়েছেন, তারা শুধু মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেই কর্তব্য সারেননি। বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সংবাদমাধ্যম এবং সর্বোপরি বিরোধী নেতৃত্ব তথা খালেদা জিয়ার সঙ্গেও তারা বৈঠক করেছেন। দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র নীতির প্রশ্নে বাংলাদেশকে সবসময় পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ। আর ভারত সে দৃষ্টিভঙ্গিতেই বাংলাদেশকে দেখে থাকে। বাংলাদেশকে ভারত কখনোই তাদের ‘করদরাজ্য’ বলে মনে করে না, এমন বার্তা সব জনপ্রতিনিধিকেই দেয়া হয়েছে। এদিকে ভারতীয় কূটনীতিকদের বাংলাদেশ সম্পর্কে আরও একটি আশা রয়েছে। সেটি হলো আগামী সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের ভোটে ভারত-বিরোধী তাস তুলনায় কম খেলা হবে। নয়া দিল্লী মনে করে, গত তিন বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত যেভাবে বাংলাদেশের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, তা নিয়ে বিতর্কের কোন অবকাশ নেই। সিগারেট ও অ্যালকোহল ছাড়া সমস্ত বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ভারত যেভাবে নিজেদের বাজার খুলে দিয়েছে তার সুফল তো তারা পাচ্ছে। বাংলাদেশে অধিকাংশ ভোটারের বয়স ২৫ বছরের আশেপাশে। তারা অর্থনৈতিক সুযোগ চান। জীবন গড়তে চান। কোনও গোঁড়া ধর্মীয় বিদ্বেষের দৃষ্টিভঙ্গিতে তারা সমাজ বা রাষ্ট্রকে দেখেন না। সরকারে যে দলই থাকুক, ভারত যুবশক্তির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিতে আগ্রহী।