৯০ বছরের বৃদ্ধ এখনও রিকশা চালক

আব্দুল গফ্ফার লাঠিয়াল। বয়স ৯০ বছর। মাথায় ঝাঁকড়া চুল। দিনভর রিকশা চালান ক্লান্তিহীন ভাবে। দৈনিক রোজগার করেন ১শ’ থেকে দেড়শ’ টাকা। চোখে কম দেখার কারণে সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফেরেন। খরচের তালিকায় অসুস্থ স্ত্রীর ওষুধ আর চাল-ডাল তো আছেই। ১১ সন্তানের জনক এ বৃদ্ধের নিরন্তর সংগ্রাম সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। বৃদ্ধ গফফারের সাথে দেখা হয় উলিপুর প্রেসক্লাবের সামনে। তার জীবনকাহিনী জিজ্ঞাসা করতেই মুচকি হাসি দিলেন এবং দীর্ঘশ্বাস বললেন, শৈশবে কৃষক বাবার সংসারে ভালই কাটছিল। শৈশব পেরিয়ে যৌবনে পা দিয়েই জড়িয়ে পড়েন,লাঠিখেলায়। যেখানেই মেলা বসতো, সেখানেই ছুটে যেতেন গফ্ফার লাঠিয়াল। বাউন্ু্ভ্রলে জীবনের ইতি টানতে বাবা বিয়ে দিয়ে দেন তার। কিন্তু তারপরও থেমে যায়নি তার লাঠিখেলা। তারপর একে একে ১৩ বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। কিন্তু কোন স্ত্রীকেই তালাক দেননি তিনি। সব স্ত্রী তাকে ছেড়ে গেলেও প্রথম স্ত্রী এখনও তার সাথেই বসবাস করছেন। ১১ সন্তানের জনক গফ্ফার লাঠিয়াল ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়ে এখন সর্বস্বান্ত। বাবার রেখে যাওয়া ধানি জমি বিক্রি করে বর্তমানে ১৫ শতক জমির উপর তার বসবাস। ছেলেরা তাদের দায়িত্ব না নিলেও অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে নেমে পড়েন জীবন সংগ্রামে। সকাল থেকে বিকেল অবধি রিকশা চালান। যা রোজগার হয় তা দিয়ে স্ত্রীর ওষুধ আর বাজার সওদা চলে। এখনও মাঝে মাঝে ছুটে যান লাঠি হাতে মেলায়। এভাবেই চলছে ৯০ বছর বয়সের বৃদ্ধ আব্দুল গফ্ফার লাঠিয়ালের নিরন্তর জীবন সংগ্রাম।