চট্টগ্রাম ভার্সিটিতে সিএনজি চালকদের উপর ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের হামলা
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৩, ২২:১৮
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএনজি চালকদের ওপর দুই দফা হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের একাংশ। এ ঘটনায় আহত হয়েছে স্থানীয় দুই সিএনজি চালক। জড়িতদের শাস্তি দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সড়ক দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে এলাকাবাসী। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় এক নম্বর গেট ও স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন:নূরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হাসান।
শহরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিএনজি চালক নূরুল ইসলামের সাথে দরকষাকষি হয় চবি ছাত্রলীগের চার নেতার। তারা হলেন:চবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পীযূষকান্তি বর্মণ, কম্পিউটার সায়েন্সের মেহরাজ, নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের রবি ও শায়েত। দরদাম ঠিক হয়ে যাওয়ার পর তাদের কাছে থাকা ব্যাগে ভারি কিছু থাকতে পারে এ ধারণায় ভাড়া নিতে অস্বীকার করে নূরুল ইসলাম। এতে উত্তেজিত হয়ে নিজেদের ব্যাগ থেকে রড বের করে সিএনজি চালককে বেধড়ক মারধর করে ছাত্রলীগ নেতারা। এদিকে দুই কর্মীকে আটকে রাখার ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে শাহজালাল হল থেকে রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশনে জড়ো হয় ছাত্রলীগের ভি-এক্স গ্রুপের নেতাকর্মীরা। সেখানে তারা উপস্থিত সিএনজি চালকদের ওপর হামলা চালায়। এতে হাসান নামে এক সিএনজি চালক আহত হয়। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায় বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে আহত সিএনজি চালক হাসান।
ছাত্রলীগের অবস্থানের খবর পেয়ে সিএনজি চালক ও স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা নিয়ে এক নম্বর এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশনের দিকে আসতে থাকে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা কর্মীরা ক্যাম্পাসের মূল গেট আটকে দেয়। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের ভিতর ও এলাকাবাসী গেটের বাইরে অবস্থান নেয়। পরে হাটহাজারী থানা পুলিশ এলাকাবাসীকে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়ে রেলক্রসিং এলাকায় পাঠিয়ে দেয়। ঘটনা প্রসঙ্গে হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ লিয়াকত বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং গ্রামবাসীদের বুঝিয়ে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে বলে তিনি জানান।