শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রয়োজন
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৩, ২২:৪১
জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রয়োজন। উচ্ছৃংখল পরিবেশে কখনোই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হয় না। বিশৃংখল পরিবেশের কারণে অনেকবার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের মতো দরিদ্র উন্নয়নশীল দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন।
গতকাল শুক্রবার জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ঢাকা থেকে সড়কপথে ভান্ডারিয়া যাওয়ার পথে ঝালকাঠীর নলছিটি উপজেলার মগড় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ও রাজাপুর বাইপাস সড়কে জেপি আয়োজিত পৃথক দুটি সভায় বক্তৃতা করেন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর ও সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চায়। তবে কবে কখন কিভাবে নির্বাচন হবে তা নিয়ে অনেকেই সংশয় বোধ করছেন। এ সংশয় দূর হয়ে একসময় অবশ্যই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে জেপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরাই ঐক্যবদ্ধভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চেয়েছিলাম। তবে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে ৯০ দিনের পরিবর্তে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে মামলা ও মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়নের যে অপচেষ্টা চালিয়েছে তা কারো কাম্য নয়। তাই বলে আমি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে নই। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায় পুরনো ফাঁক-ফোকর বন্ধ করতে হবে। আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশে যে রাজনৈতিক জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে যাচ্ছে তার অবসান হওয়া দরকার। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সাথে কখনো রাজনীতি করিনি। এমনকি রাজনৈতিক আলোচনাও করিনি। আমি চেয়েছি বরিশাল থেকে পটুয়াখালী, বরগুনা, পাথরঘাটাসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন। এসব এলাকার রাস্তাঘাট, পুল, কালভার্ট হয়েছে ঠিকই। রাস্তা-পুল-কালভার্ট-ব্রীজ উন্নয়নের পূর্বশর্ত। এসব এলাকায় একসময় লঞ্চ ও নৌকায় করে মানুষকে যাতায়াত করতে হতো। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। এখন শিল্প-কলকারখানা গড়ে তুলতে পারলেই উন্নতি হবে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। আমরা এগুলো সম্পন্ন করতে না পারলেও আমাদের নতুন প্রজন্ম তা সম্পন্ন করবে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, উন্নয়ন বৈষম্যে পিছিয়ে পড়া নদীবেষ্টিত এ অঞ্চলের ২টি নির্বাচনী আসন বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার কমিয়ে দিয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এ অঞ্চলের উন্নয়ন বরাদ্দ কমে গেছে। আমাদের রাজনীতি হবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে। সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই আমাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও আদর্শ হওয়া উচিত।
রাজাপুর-কাঁঠালিয়ার মানুষ আগামী নির্বাচনে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে প্রার্থী হওয়ার জন্য দাবি জানালে তিনি উত্তরে বলেন, নির্বাচন যখন হবে তখন দেখা যাবে। তিনি আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করে বলেন, সারাদেশে যে উন্নয়ন হয়েছে তার সামান্য হলেও রাজাপুর-কাঁঠালিয়ার মানুষের জন্য আমি করতে পেরেছি। এজন্য আল্লাহর কাছে আমি শোকরিয়া আদায় করছি।
রাজাপুর উপজেলা জাতীয় পার্টি (জেপি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন মজিবর রহমান মাতুব্বর। বক্তৃতা করেন ঝালকাঠী জেলা আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এনামুল ইসলাম রুবেল, নাজমুল হাসান খসরু, নাসির উদ্দিন তালুকদার প্রমুখ।
নলছিটির মগড় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তৃতা করেন ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির (এ) সাধারণ সম্পাদক হেলালউদ্দিন তালুকদার। পথিমধ্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ঝালকাঠী জেলা জাতীয় পার্টি জেপি’র সাবেক আহ্বায়ক দিবস তালুকদারের ভাইয়ের কবর জেয়ারত করেন। কবরস্থানে দিবস তালুকদারসহ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।
রাজাপুরে জাতীয় পার্টির
(জেপি) কার্যালয় উদ্বোধন
রাজাপুর (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা জানান, ঝালকাঠির রাজাপুরে জাতীয় পার্টির (জেপি) উপজেলা প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকাল পাঁচটায় জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে উপজেলা বাইপাস মোড়ে এ কার্যালয় উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা জেপি নেতা মজিবর রহমান মাতুব্বরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেপি কেন্দ্রীয় নেতা এনামুল হোসেন রুবেল, গালুয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান খশরু ও রাজাপুর ডিগ্রি কলেজ সাবেক জিএস নাছিরউদ্দীন জুয়েল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, নির্বাচন কোথায় এবং কেমন করে অনুষ্ঠিত হবে তার সঠিক কোন হদিস নেই, তবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ব্যবস্থার বিকল্প নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জেপি চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচন যে ব্যবস্থায়ই হোক না কেন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও শুদ্ধ গণতন্ত্রের জন্য সকল বেআইনি ফাঁক-ফোকর বন্ধ করতে হবে। এর আগে জেপি চেয়ারম্যান ঝালকাঠিতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাংবাদিক দিবস তালুকদারের ভাই পলাশ তালুকদারের কবর জিয়ারত করেন।