লণ্ডনে সংবাদ সম্মেলনে টিউলিপ
দেশে হলে আপনারাই একে পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি বলতেন
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৩, ২২:৪২
প্রবাসে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পক্ষে নিজের যুক্তি দেখিয়ে বঙ্গবন্ধুর নাতনী টিউলিপ সিদ্দিক বলেছেন, মানুষের সেবা করা যায় যে কোনো স্থানে থেকেই। আমি যদি বাংলাদেশে গিয়ে দাঁড়াতাম, আপনারাই কিন্তু বলতেন, ডাইন্যাস্টি পলিটিকস। নিজে পেরেছ করতে, না কি তোমার পরিবারের সহায়তায় করছ। যুক্তরাজ্যের আগামী সাধারণ নির্বাচনে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে লেবার পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত করার পর বৃহস্পতিবার প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন টিউলিপ। কিলবার্নের একটি রেস্তোরাঁয় সদ্য বিবাহিতা টিউলিপের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন তার মা শেখ রেহানাও, যাকে সচরাচর এই ধরনের কোনো অনুষ্ঠানে দেখা যায় না।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে কিলবার্নে তার নির্বাসিত জীবনের স্মৃতিচারণ করে মেয়ের জন্য প্রবাসী বাঙালিদের ভোট চান। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত রবিবার লেবার পার্টির মনোনয়নযুদ্ধে জয়ী ৩১ বছর বয়সী টিউলিপ বাংলা সংবাদ মাধ্যমগুলোকে নিয়ে অনুষ্ঠিত এই সাংবাদিক সম্মেলনে সপ্রতিভভাবে নিজের রাজনীতি এবং ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।
টিউলিপ বলেন, ‘আমার উদ্দেশ্য মানুষকে সাহায্য করা। মানুষের সমস্যা সব জায়গায় থাকে। তাই মানুষের সাহায্য সব জায়গাতেই লাগে।’ প্রবাসে রাজনীতিতে লেবার পার্টির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্ত টিউলিপ ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডন থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ধীরে ধীরে নিজের আসন তৈরি করে এখন হাউস অফ কমন্সে প্রবেশের অপেক্ষায় বঙ্গবন্ধুর নাতনী।
টিউলিপ বলেন, আমি এখানে এসে প্রথমে কাউন্সিলর হলাম। লেবার পার্টিতে আমি গর্ডন ব্রাউনের জন্য কাজ করেছি। তারপরে পলিসি অ্যাডভাইজর হিসেবে কাজ করেছি। এরপর আস্তে আস্তে নমিনেশনটা পেয়ে এখন পার্লামেন্টে ঢুকছি। আমি নিজেই করেছি, আমি চাচ্ছি যে আমি নিজের চেষ্টায় পার্লামেন্টে ঢুকি।’
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী বর্তমানে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য, তিনিও বিরোধী দল লেবার পার্টির। টিউলিপ নির্বাচিত হলে তিনি হবেন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে দ্বিতীয় বাংলাদেশি।
সাংবাদিক সম্মেলনে শেখ রেহানা বলেন, টিউলিপ নিজের প্রচেষ্টায় এত দূর এসেছে, এখানে আমার কোনো সাহায্য নেই। আমি মা হিসেবে দোয়া করি, যতটুকু সাহায্য করার আমি করি, আপনারা ওকে দোয়া করবেন। যেন নানার নাম রাখতে পারে।
মনোনয়ন নিশ্চিত করলেও নির্বাচিত হওয়ার কাজটি যে কঠিন, তা উপলব্ধি করতে পারছেন টিউলিপ। তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচন হবে ২০১৫ সালে। আমার অনেক কাজ করতে হবে। এই লক্ষ্যে এলাকার বাঙালিদের সহযোগিতা ও সমর্থন চান বঙ্গবন্ধু পরিবারের এই সদস্য। তিনি বলেন, আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমি পার্লামেন্টে যেতে পারব না।