আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়ে ৩৯ দলের কাছে ইসির চিঠি

নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমার তাগিদ দিয়ে পত্র দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হিসাব জমাদানের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। তবে কমিশনের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দেয়ার নজির কম। এদিকে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক জোট ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টকে (বিএনএফ) নিবন্ধন দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে কমিশন। এর মধ্যে বিএনএফকে ‘গমের শীষ’ প্রতীক দেয়ার গুঞ্জন চললেও কমিশন ওই প্রতীক কাউকে বরাদ্দ দেবে না। দলগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রতিবছরের ন্যায় এবারো আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়ে দলগুলোর কাছে পত্র দেয়া হয়েছে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে।’ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের আর্থিক লেনদেনের হিসাব কমিশনে জমা দেয়া বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে রেজিস্টার্ড চার্টার্ড একাউন্টিং ফার্ম দ্বারা দলের হিসাব অডিট করাতে হবে। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ ইত্তেফাক’কে বলেন, গত ১১ জুন কমিশন থেকে দলগুলোর কাছে এই পত্র দেয়া হয়। ইতিমধ্যে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে। আশা করছি অন্য দলগুলোও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দেবে। ২০০৮ সাল থেকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং প্রতি বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব কমিশনে জমা দেয়ার বিধান বাধ্যতামূলক করা হয়। এক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম দ্বারা দলের হিসাব অডিট করাতে হবে। এ হিসাবে সদস্য সংগ্রহসহ কোন খাত থেকে কত টাকা আয় হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, বিল-ভাউচারসহ তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশনে জমা দিতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ১৯৭২-এর ৯০-এইচ (১) (সি) ধারায় বলা হয়েছে, কোন নিবন্ধিত দল পরপর তিন বছর তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে কমিশন ওই দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে। ২০১১ সালে কমিশনের নিবন্ধিত ৩৮টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩১টি নির্ধারিত সময়ে আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়। এর আগে ২০১০ সালে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ২১টি দল হিসাব জমা দিতে পেরেছিল। গমের শীষ পাচ্ছে না বিএনএফ: এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারী বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) কে গমের শীষ প্রতীক দেয়ার গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এখনো নির্বাচন কমিশন দলটিকে নিবন্ধন না দিলেও তাদেরকে গমের শীষ প্রতীক দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিতর্ক এড়াতে বিএনএফকে গমের শীষ প্রতীক দেয়া হচ্ছে না। কমিশনের নীতি নির্ধারক ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। গত ১১ জুলাই এমকে আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে গিয়ে বিএনএফের বিরুদ্ধে বিএনপির লোগো, কর্মসূচি, জিয়াউর রহমানের ছবি ব্যবহার এবং ধানের শীষের আদলে গমের শীর্ষ প্রতীক ব্যবহারে আপত্তি জানিয়েছিল। তাদের আপত্তি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে নির্বাচন কমিশন। একজন নির্বাচন কমিশনার ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, ‘তারা বিএনএফকে গমের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেবেন না।’