গোলাম আযমকে ফাঁসি না দেয়ায় পুরো জাতি ক্ষুব্ধ
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৪
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির রায় না দেয়ায় দেশের তরুণ সমাজ হতাশ বলে মন্তব্য করেছেন গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠকরা। এ রায়ের বিরুদ্ধে সরকারকে আপিল করার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, সরকার আপিল না করলে তারাই আপিল করবেন।
গতকাল শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণজাগরণ মঞ্চের বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়। আজ শনিবার সকাল ১১টায় এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে গিয়ে গোলাম আযমের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের দাবি জানাবে মঞ্চ। একই দাবিতে ২৬ ও ২৭ জুলাই প্রজন্ম চত্বরে মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হবে বলে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।
সমাবেশে ইমরান এইচ সরকার বলেন, বয়সের অযুহাত দেখিয়ে রাজাকারের শিরোমনি গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছে তা জনগণের কাছে অপ্রত্যাশিত। এ রায়ে পুরো জাতি ক্ষুদ্ধ ও হতাশ। বিশ্বের কোন ট্রাইব্যুনাল বয়সকে বাধা মনে করে না।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ যদি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করে তাহলে আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব। কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের কাজ সমাপ্তি করে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ ও যুদ্ধপরাধের দায়ে দণ্ডিতদের রায় কার্যকর করতে হবে।
ফেরদোসী প্রিয়ভাষিণী বলেন, গোলাম আযমের রায় পুনর্বিবেচনা করে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হোক। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি এবং তাদের প্রতিষ্ঠানসমূহ নিষিদ্ধ করা হোক, যাতে তারা আর্থিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়ে।
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কোনো আজেবাজে কথা বলে আমাদের কষ্ট দেয়। যারা সংসদে বসে আছেন তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে আজেবাজে কথা বন্ধ করতে হবে। নইলে কেউ পালানোর রাস্তা পাবেন না।
নিজেরাই করি’র সমন্বয়ক খুশী কবির বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত রাজাকারদের বিচার শেষ না হয়, ততক্ষণ আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। গোলাম আযম একাত্তরের সকল কুকর্মের হোতা হওয়া সত্ত্বেও তাকে ট্রাইব্যুনাল বয়সের কারণে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। সংসদে এমন বিল পাস করা হোক যেন, যাদেরকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত করা হয়েছে তারা কোনোভাবেই যেন রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পেতে না পারে।
ডাকসু’র সাবেক জিএস মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামান বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার জন্যই তরুণ সমাজ বর্তমান সরকারকে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু সরকার তার সে অঙ্গীকার সঠিকভাবে পালন করতে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হচ্ছে। এ অঙ্গীকার যদি কার্যকর না হয়, তাহলে নির্বাচনে ভোট অন্যদিকে চলে যাবে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, কবি অধ্যাপক মুহাম্মাদ সামাদ, মুক্তিযোদ্ধা সাঈদ রাজু, নারী মুক্তিযোদ্ধা আমেনা সুলতানা বকুল, নারী নেত্রী বীণা সিকদার, সঙ্গীতা ইমাম, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিম আরা মিনু।