দুই নেত্রীর কাছে বিনীত নিবেদন
দেশের মানুষ সুস্থ ধারার রাজনীতি দেখতে চায়
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৩, ২১:৩৬
দেশের চারটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পরাজয়ের পর গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনেও আওয়ামী লীগের শোচনীয় পরাজয় তাদেরকে ‘ওয়াটার লো’-এর যুদ্ধে নেপোলিয়নের শোচনীয় পরাজয়ের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। গাজীপুর-টঙ্গী শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা। বলা হয়ে থাকে যে, গোপালগঞ্জের পরই গাজীপুর-টঙ্গী হচ্ছে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি। এখানে তাদের জয় মোটামুটি নিশ্চিত ছিল। কিন্তু নির্বাচনের ফলে সকলেই হতবাক। এতো বিপুল ভোটে মহাজোট সমর্থিত আওয়ামী লীগের বেদনাদায়ক পরাজয় দেশের রাজনীতির অঙ্গনে নতুন চিন্তার মাত্রা তৈরি করে দিয়েছে। সন্দেহ নেই যে, সিলেট ছাড়া রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনগুলোতে আওয়ামী লীগের মেয়রগণ নিজ নিজ এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করে গেলেও স্থানীয় ভোটারগণ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগের ওপর যে ব্যাপকভাবে ক্ষুব্ধ তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। জাতীয় অনেক ইস্যুতে আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা স্থানীয় উন্নয়নে তাদের সফলতাকে একেবারেই ম্লান করে দিয়েছে। জনগণ তাদের ভোটের রায়ের মধ্যে দেশ শাসনে আওয়ামী লীগের সামষ্টিক ব্যর্থতা বিবেচনায় এনে এ নির্মম বার্তা দিয়েছে। এখন দলনেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উচিত হবে কালবিলম্ব না করে এ পরাজয়ের বস্তুনিষ্ঠ ও বাস্তবধর্মী মূল্যায়ন করে যে কয়েক মাস সময় হাতে আছে তার মধ্যে দলটিকে ব্যাপকভাবে সংগঠিত করে নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছে তা দূর করে তাদের আস্থা পুনঃস্থাপন করা। সন্দেহ নেই যে, স্বল্প সময়ের মধ্যে এ ব্যাপক ড্যামেজ রিপেয়ার করা একটি কঠিন কাজ। তবে মোটেই অসম্ভব নয়। এর জন্য প্রতিটি জেলায় ব্যাপক সাংগঠনিক সফর ও সভা করে প্রতিটি জেলায় যেসব সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে সেগুলোকে চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা নিরসন করা। দলের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতিবাজদের নিউট্রেলাইজ করা দরকার।
কথায় বলে মানুষের স্মৃতিশক্তি খুবই ক্ষণস্থায়ী। দশ বছর আগে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার কি কি অপকর্ম করেছে তার অনেকটাই মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে গেছে। চোখের সামনে যেটি দেখছে সেটাকে মূল্যায়ন করে তাদের রায় দিচ্ছে। মানুষের রায়কে শ্রদ্ধা করতে হবে। ওটাকে চ্যালেঞ্জ করা বা কটাক্ষ করা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। আওয়ামী লীগের বিপর্যয়ের পেছনে কি কি ফ্যাক্টর কাজ করেছে, কি কারণে এতো কাজ করার পরও দলটির এ মহাবিপর্যয় তা ইতিমধ্যে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়, টক শো ও আলাপচারিতায় ব্যাপকভাবে আলোচিত-সমালোচিত হচ্ছে। সুতরাং এগুলো নিয়ে পত্রিকার কলেবর বৃদ্ধি করতে চাই না। শুধু বিনয়ের সাথে বলতে চাই যে, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিদের সীমাহীন দুর্নীতি, আবুল-তাবুল নেতাসহ তথাকথিত সাদা বিড়াল, কালো বিড়াল ও তথাকথিত দেশপ্রেমিক নেতা-নেতৃত্ব এবং ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি মানুষের মনকে বিষিয়ে তুলেছে। এছাড়াও প্রশাসনের সর্বস্তরে অব্যবস্থা, অদক্ষতা ও দুর্নীতি মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, পদ্মা সেতুর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অপেশাদারিত্ব ও অব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং খাতে মারাত্মক দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা, হলমার্ক, বিসমিল্লা গ্রুপ, ইউনি-পে-১, ইউনি-পে-২, ডেসটিনি গ্রুপ, বেসিক ব্যাংকের সর্বশেষ ৪৫০০ কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং সর্বোপরি ড. ইউনূস ইস্যু নিয়ে দেশের ভাবমূর্তি যেভাবে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে তা দেশের সাধারণ মানুষ সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। তাই ভোটের মাধ্যমে মানুষ তাদের অনুভূতি ও ক্ষোভ যথার্থভাবে প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন কেলেঙ্কারির জন্য যেসব মন্ত্রী, উপদেষ্টা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে সরকার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এর পুরো দায়ভার পার্টি তথা সরকার প্রধানের উপর পড়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলমন্ত্র হচ্ছে ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন’। বিগত প্রায় সাড়ে চার বছর দেশের মানুষ এর সফল প্রয়োগ কোথাও খুব একটা দেখতে পায়নি।
অনেকে বলছেন যে, গাজীপুরসহ পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে স্থানীয় ইস্যুর পরিবর্তে জাতীয় পর্যায়ে ব্যর্থ ও নিন্দিত ইস্যুগুলো সম্পৃক্ত হওয়ায় আওয়ামী লীগের এ শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এ নির্বাচনগুলো ছাড়াও চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও নরসিংদীতে যে নির্বাচন হয়ে গেল সেগুলোতেও আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়েছে। বিগত সাড়ে চার বছরে দেশে অনেক ভাল ভাল কাজ হয়েছে সন্দেহ নেই। গড় বৃদ্ধির ধারা ৬ শতাংশের ওপর রয়েছে। ২০০৮ সালে আমেরিকাসহ ইউরোপে যে মহামন্দা দেখা দেয় তার বিরূপ প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পড়লেও বাংলাদেশ সেটি সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। উন্নয়নের ধারা প্রতি বছর বেশ অগ্রসরমান ছিল। আমদানি ব্যয় কমেছে। রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রানা প্লাজার ভয়াবহ ধসের পরও বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এর ধকল সফলতার সাথে মোকাবিলা করে যাচ্ছে। বিদেশি রেমিট্যান্সসহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ১৫ বিলিয়ন ডলার। সামাজিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস, শিক্ষার হার সমপ্রসারণসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে শিক্ষার মান উন্নয়ন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন অর্জনসহ সেশনজট নিরসন, কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন এবং সর্বোপরি বিদ্যুত্ খাতের ঈর্ষণীয় সাফল্য সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে। এ সরকার ক্ষমতা নেয়ার সময় বিদ্যুতের উত্পাদন ছিল মাত্র ৩ হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট। বর্তমানে তা ৫ হাজার ৬৪৪ মেগাওয়াট। লোডশেডিং যথেষ্ট সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। যেসব বিদ্যুত্ কেন্দ্র উত্পাদনের অপেক্ষায় আছে সেগুলো আগামী এক বছরের মধ্যে চালু হয়ে গেলে লোডশেডিং শুধুমাত্র অতীত দিনের একটি বিষয়ে পরিগণিত হবে। বিশ্বব্যাংক বলছে বাংলাদেশ যেভাবে এগুচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালের দুই বছর পূর্বেই বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (MDG) অর্জন করতে সক্ষম হবে। মোট কথা হচ্ছে যে, ভাল ভাল কাজ অনেক হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু বড় ধরনের মন্দ ও গর্হিত কাজ, বিশেষ করে ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ কিছু এমপি ও মন্ত্রীর লাগামহীন সন্ত্রাস ও দুর্নীতি সেগুলোকে একেবারেই ম্লান করে দিয়েছে। দশ সের দুধের মধ্যে এক ফোঁটা বিষ মিশিয়ে দিলে যে অবস্থা হয় এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
সামপ্রতিককালে রাজনীতিতে ধর্মের মাত্রাতিরিক্ত অনুপ্রবেশ ও ধর্মকে রাজনীতিতে অপব্যবহার করে সমাজের সর্বত্র এর বিষবাষ্প ছড়ানো হচ্ছে। একে মোকাবিলা করার জন্য তৃণমূল পর্যায়ের যে চারিত্রিক স্বচ্ছতা ও দৃঢতা থাকা প্রয়োজন তা সরকার ও বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের অনেকের মধ্যে নেই। ফলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি প্রসার পাচ্ছে। দেশের জন্য এটি মোটেই কোন শুভ বার্তা নয়। দেশের রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বিশেষ করে নতুনভাবে আবির্ভূত হেফাজত-ই-ইসলাম একটি নতুন সংযোজন। রাজনীতির অঙ্গনে হেফাজত-ই-ইসলামের আবির্ভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ধর্মের নামে তারা দেশের সরলপ্রাণ মানুষকে সহজেই প্রভাবিত করছে এবং তারাসহ অন্যান্য ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলো যাদের সাথে এক কাতারে জড়ো হবে, রাজনীতির দাবা খেলায় তাদের পাল্লা ভারী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যা সমপ্রতি অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোতে প্রতিভাত হয়েছে। তবে এটাও ঠিক যে, রাজনীতিতে ধর্মের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি দেশের মানুষ মোটেই পছন্দ করে না। তারা ধর্মভীরু হলেও ধর্মের ধ্বজাধারীর ও ধর্ম ব্যবসায়ী মৌলবাদীরা দেশ শাসন করুন এটা তারা কখনোই চায় না।
উল্লেখ্য যে, জামায়াতের রাজনীতি স্বাধীনতাবিরোধী হওয়ায় এবং তাদের শীর্ষস্থানীয় নেতারা যুদ্ধাপরাধের বিচারের কাঠগড়ায় থাকায় তাদের রাজনীতি জনসম্মুখে বড় আকারে দৃশ্যমান নয়। যদিও বিরোধী দলের আহূত হরতালে তাদের একটি মুখ্য ভূমিকা পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু হেফাজতের আবির্ভাব নতুন হলেও এবং তারা যেহেতু জামায়াতের মতো অতোটুকু বিতর্তিক হয়নি, তাই রাজনীতিতে নতুনভাবে ধর্মীয় অনুভূতি জাগ্রত করতে এবং প্রধানত আওয়ামী লীগকে টার্গেট করে তাদের রাজনীতির প্রতি এন্টি ইসলামিক ও নাস্তিকদের লালনের একটি নতুন অভিযোগ উঠেছে। বলতে দ্বিধা নেই যে, আওয়ামী লীগের বামপন্থি রাজনীতির প্রতি বেশি মাত্রায় লিনিং সাধারণ মানুষ খুব ভাল চোখে গ্রহণ করতে পারেনি। আসলে বামপন্থিদের রাজনীতি এ দেশে কখনোই সুবিধা করতে পারেনি। এরা কথার ঠাকুর। এরা সব সময়ই জনতার আড়ালে থেকে রাজনীতি করেছে। ভোটে দাঁড়িয়ে কেউ কখনো খুব এটা জয়ী হয়ে আসতে পারেনি। এক্ষেত্রে এদেরকে দলের মধ্যে ভরে এবং দলে প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতিকভাবে আওয়ামী লীগ কতোটুকু সফল হয়েছে তা শুধু ভবিষ্যত্ বলে দিতে পারবে।
আওয়ামী লীগ তার দলের সিনিয়র ও মধ্য শ্রেণির ত্যাগী ও জননন্দিত নেতাদের সাইড লাইনে রেখে বামপন্থিদের নিয়ে শূন্য স্থান পূরণের যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তা ইতিমধ্যে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। বামপন্থিদের চিন্তাধারা বর্তমান বিশ্বে অচল ও পরিত্যক্ত। বাম রাজনীতির তীর্থস্থান খোদ রাশিয়া, চীন ও ভিয়েতনাম প্রভৃতি দেশের দিকে দৃষ্টিপাত করলে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী, অসামপ্রদায়িক ও জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলে বামদেরকে কোলে নিয়ে রাজনীতি করার যুক্তিসংগত কারণ অনেকের কাছে বোধগম্য হচ্ছে না। আর যাই হোক, নাস্তিক ও ধর্মবিরোধী বলে ৬৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ দলের বিরুদ্ধে এতো বড় অপবাদ ইতিপূর্বে আর কখনোই আসেনি। সুতরাং সময় থাকতে দলের মূল কাঠামোকে সুদৃঢ করে বাস্তবতার আলোকে অবিলম্বে দলকে নতুনভাবে ঢেলে সাজিয়ে আগামী নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি গ্রহণ করাই সমীচীন বলে মনে হয়।
এখন যে বিষয়টি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে তা হলো মেগাজোট বা আরো কিছু করে হয়তো ১৮ দলীয় জোট ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট জোট দেশ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে কতোটুকু সফল হবে তা দেখার বিষয়। বিভিন্ন মতাদর্শের লোক দিয়ে আর যাই হোক দেশ সুষ্ঠুভাবে চালানো যায় না। এর পেছনে থাকা চাই একটি সুনির্দিষ্ট রাজনীতিক দর্শন। কথায় বলে “Frogs do not actually turn into princes with a kiss.” আমাদের দেশের এক শ্রেণির সুবিধাভোগী ও প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতিবিদের এই সহজ কথাটি মনে রাখলেই ভাল।
সকল দলের প্রতি বিনীত অনুরোধ দেশে সুস্থ রাজনীতির ধারা চালু করুন। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও মাস্তানদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করুন। এমন মহত্ পেশা আর যেন অর্থশক্তি ও পেশিশক্তির কবলে পড়ে কলুষিত না হয় তার প্রতি সচেষ্ট হোন। দেশের মানুষ সুস্থ রাজনীতির ধারা দেখতে চায়। অনেক হয়েছে। আর কতো? নতুন প্রজন্মের কথা চিন্তা করে আলোর শিখা প্রজ্বলিত করুন। যে আলোয় আলোকিত হবে একবিংশ শতাব্দীর এক নতুন সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ। দেশের সর্বত্র পরিবর্তনের ঢেউ এসেছে। এই পরিবর্তনের সাথে সকলকে একাত্ম হতে হবে। এই অমিত সম্ভাবনাময় দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সৌভাগ্যবান অধিকারী হচ্ছেন আপনারা। বিশেষ করে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের কাছে অনুরোধ পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি রোধ এবং একে অন্যের প্রতি হিংসা ও জিঘাংসা পরিহার করে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে আমরা যাতে পৃথিবীর মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি তার ভিত রচনা করুন। মনে রাখতে হবে বুলি দিয়ে বা কথার ফুলঝুরি দিয়ে কেউই বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। `You can be fool all people for sometime, some people for all time, but not all people for all time.”
লেখক :অর্থনীতি বিশ্লেষক ও কলামিষ্ট।
email:aquadirchoudhury@gmail.com