শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত

শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের অবশ্যই পূর্বশর্ত ‘Politics controls Economics’-কথাটি প্রাচীন এ্যারিস্টটল থেকে আধুনিক স্যামুয়েলসন কিংবা মিরড্যাল পর্যন্ত স্বীকৃত। মূলত, অর্থনৈতিক অগ্রগতি বা সমাজ কল্যাণ উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করেই রাজনীতির উদ্ভব হয়েছে। তাই একটির স্বতঃস্ফূর্ত চলা যেমন অপরটির উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে, তেমনি একটির বিকৃত অবস্থা অপরটির উন্নয়নকে ব্যাহত করবেই। আর গণতন্ত্রের যুগে রাজনীতির প্রধান মাপকাঠি হল ‘নির্বাচন’। অন্য কথায় ‘ক্ষমতা হস্তান্তর’। এই ক্ষমতা হস্তান্তর যদি শান্তিপূর্ণ হয় তবে এটা শুধু অর্থনীতি কেন রাষ্ট্রের যে কোন নীতিরই উন্নয়নের পূর্বশর্ত হবে। অনিশ্চিত সুষ্ঠু নির্বাচনকে নিশ্চিত করতে হরতাল-জ্বালাও-পোড়াও-এর মত সংস্কৃতি বন্ধ হলে অব্যশই এটা হবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন মাত্রা। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আমাদের স্বীয় কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে এক দলের ক্ষমতা হস্তান্তর, অন্য দলের ক্ষমতা গ্রহণ আজ ধ্রুব সত্য। একই দলের দুই মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়া যেন কিছুটা অমাবস্যার চাঁদের মত বিষয়। তবে মজার দিক তা আমাদের প্রধান দুই দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই আসুন না আমরা অর্থনৈতিক ও জাতীয় স্বার্থে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিশ্ব রেকর্ড গড়ি, নতুন কিছু অর্জন যোগ করি মহান একাত্তরের বিজয়ে। বেশি কঠিন কী! কেবল দু’টি দলের সত্ ও সাহসী উদ্যোগই হতে পারে কিছুটা ঈশ্বরী পাটনীর প্রার্থনার মত-‘আমাদের অর্থনীতি যেন থাকে সমৃদ্ধিতে’। কামরুন্নাহার শাপলা ৮ম সেমিস্টার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের রাজনীতি যেদিকে যাচ্ছে তার ফল শুভ হবে না বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। তাই স্বাধীন রাষ্ট্রের জনগণ যদি স্বাধীনতাই ভোগ করতে না পারে তাহলে এরকম স্বাধীন দেশ কাম্য নয়। রক্ত দিয়ে স্বাধীন হয়েছে এই দেশ কিন্তু স্বাধীন হয়নি এ দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, আইনের মত বিভিন্ন কার্যক্রম। শান্তিপূর্ণ ভোটের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত ব্যক্তিকে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। ভোট দিয়ে জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে সেই নির্বাচিত হবে। ক্ষমতার দাপট দিয়ে বা জনগণকে জিম্মি করে ক্ষমতায় আসা যাবে না। তাহলেই দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি উন্নতি লাভ করবে। আমি মনে করি দেশের এই অর্থনৈতিক দৈন্য আর ক্রান্তিলগ্নে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের গঠনমূলক আলোচনা কিংবা শান্তিকামী জনসাধারণের প্রত্যাশিত এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটা মাধ্যম হতে পারে। অসুস্থ ও বিশৃঙ্খল রাজনীতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আবদুল হান্নান টিএন্ডটি ইউনিভার্সিটি কলেজ BBS (Bachelor Honours Degree) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ অর্থনৈতিক উন্নয়নে ত্যাগ ও সমঝোতার বিকল্প নেই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণই সকল ক্ষমতার উত্স, যেখানে জনগণ গোপন ব্যালটে ভোট প্রদানের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবিতে প্রধান বিরোধী দল যেখানে সোচ্চার, সেখানেই সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ঘোর বিরোধী। ক্ষমতার লোভে মত্ত রাজনৈতিক দলগুলোর রোষানলের শিকার হয় দেশের শান্তিকামী নিরীহ জনগণ। উন্নয়নশীল এদেশের খাদ্য, জীবনমান তথা সর্বত্র স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিকল্প নেই। আর এই অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় ঘোলাটে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ক্ষমতা কারোরই চিরস্থায়ী নয়, তবুও এই ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে রাখার নিরন্তর প্রয়াস অতীতেও চলেছে, বর্তমানেও চলছে। এছাড়া বিরোধীদলের প্রতি অগণতান্ত্রিক আচরণ সবসময়ই লক্ষণীয়। অপরদিকে নিজেদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিরোধীদল প্রতিবাদমুখর হয়ে হরতাল,অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও, ককটেল, বোমা বিস্ফোরণ, ভাংচুর ও প্রাণহানির মতো ভয়ংকর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এতে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় সম্পদ ধ্বংসের পাশাপাশি জনগণের সম্পদও ধ্বংসের মুখে পড়ে, স্থবির হয়ে যায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকা। তাই দেশ ও দেশের জনগণের স্বার্থে, গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা অব্যাহত রাখতে ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বেগবান করতে সরকারে উচিত সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। এ কে এম সালাহ্উদ্দিন (জজ) শিক্ষার্থী, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা শান্তিই অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত মানুষ শান্তিপ্রিয়। তাই যেখানেই যাক না কেন শান্তি খুঁজে বেড়ায়। একটু শান্তির আশায় বুক বাঁধে। অশান্তির আশংকা হলেই নানা ধরনের শান্তির পথ খোঁজে, ব্যবস্থা নেয়। আর যদি তা হয় অর্থনৈতিকভাবে অশান্তি তাহলে আরো গুরুত্ব দেয়। যেমন- ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় যদি অশান্তি সৃষ্টি হয় তা সরাসরি আমাদের অর্থনীতিকে আঘাত করে। ক্রমে ক্রমে তা আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। তাই বলা যায় শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। মানব জাতি, দেশ, বিদেশ এমনকি সারা বিশ্বের প্রায় দেশই অর্থনৈতিক মুক্তি লাভে আপোষহীন। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে আমাদের বা সারাবিশ্বের যে কোন দেশ ও জাতি অর্থনৈতিক মুক্তি বা উন্নয়ন আসবে। তাই আমি বলব শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় নয় যে কোন সময় দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পারলে অর্থনৈতিক মুক্তি বা উন্নয়ন অবশ্যই আসবে। তাই দৃঢ়কণ্ঠে বলতে চাই “শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত”। শাহজাহান আলী মূসা সমাজকর্ম, মাস্টার্স (ফাইনাল) সরকারি বাঙলা কলেজ, ঢাকা