রা জ নী তি
ভারতে গোলাম আযমের যমজ ভাইয়ের তত্পরতা
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৩, ২১:৩৭
বাংলাদেশে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাদের জন্য দায়ী জামায়াত নেতা গোলাম আযমের বিতর্কিত দন্ডাদেশ নিয়ে যখন তুলকালাম চলছে, তখন প্রতিবেশী গণতান্ত্রিক ভারতে গোলাম আযমেরই স্বগোত্রীয় এক নরপিশাচ যে সকল অভিযোগ-তদন্ত ইত্যাদিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেই প্রাধান্য বিস্তার করতে চলেছেন, এমনকি ভারতের ভাবী প্রধানমন্ত্রী পদে রাহুল গান্ধীর চ্যালেঞ্জার হতে যাচ্ছেন, সেদিকে এই উপমহাদেশের গণতান্ত্রিক শিবির কতটা সচেতন ও সতর্ক তা এখনো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না।
এই ব্যক্তির নাম নরেন্দ্র মোদী। ভারতের সাম্প্রদায়িক বিজেপি’র রাজ্য-নেতার স্তর থেকে তিনি এখন কেন্দ্রীয় নেতা। তার পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের উগ্র ধর্মান্ধ জামায়াত-শিবিরের মতো উগ্র হিন্দুত্ববাদী শিবসেনা ও আর.এস.এসের সমর্থন। তিনি দীর্ঘকাল ধরে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী। এখন ভারতের ভাবী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য বিজেপি’র প্রভাবশালী অংশকে নিজের পেছনে এনেছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী লালকৃষ্ণ আদভানীকে কোণঠাসা করে ফেলেছেন।
এই নরেন্দ্র মোদী ভারতের বাম গণতান্ত্রিক শিবিরের অনেকের কাছেই এগারো বছর আগের ভয়াবহ গুজরাট দাঙ্গার হোতা এবং নারী-শিশু নির্বিশেষে কয়েক হাজার সংখ্যালঘু হত্যার জন্য নরপিশাচ হিসেবে পরিচিত। তার এই মানবতা-বিরোধী অপরাধের জন্য তদন্ত হয়েছে, তদন্তে গুজরাটের গণহত্যায় তার সংশ্লিষ্টতার সুস্পষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার এই অপরাধের জন্য আমেরিকাসহ ইউরোপের বহু দেশ তাকে ইতিপূর্বে অচ্ছুত্ ঘোষণা করে তাদের দেশে ঢুকতে দেয়নি।
বাংলাদেশে ’৭১ সালে জামায়াতীরা পাকিস্তানের হানাদারদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে হিন্দু-মুসলমান ও নির্বিশেষে সকল বাঙালিকে হত্যায় মেতে উঠেছিল। আর এগারো বছর আগে ২০০২ সালে ভারতে নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসে পুলিশ ও সরকারি প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে নির্বিচার সংখ্যালঘু (মুসলমান) নিধনের ব্যবস্থা করেছিলেন। গুজরাটের গোধরা নামক একট রেলস্টেশনে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী ক্যাডাররা নিজেরাই আগুন ধরিয়ে দিয়ে এই দাঙ্গার সূচনা করেছিল। এই দাঙ্গায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দান দূরের কথা, তাদের নির্বিচার হত্যায় অনুমোদন ও উসকানি দেন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদী।
এই ব্যাপারে সরকারের তদন্তেও দাঙ্গায় নরেন্দ্র মোদীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ বেরিয়ে এসেছে। তাতেও ভারতের মতো এতো বড় গণতান্ত্রিক দেশে তার কেশাগ্র কেউ স্পর্শ করতে পারেনি। গুজরাটে তার অথনৈতিক উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাফল্যের নামে ভারতের বিগ মিডিয়ার এক বড় অংশেই চলছে তার বন্দনা। তিনি রাজ্য-রাজনীতি থেকে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে উঠে এসেছেন। আদভানীকে হটিয়ে বিজেপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কার্যত: এখন তার দখলে।
এখন প্রকাশ্যেই বলা হচ্ছে, নরপিশাচ নরেন্দ্র মোদীই ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। তিনিই হবে ভারতের ত্রাণকর্তা। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাহুল গান্ধী তার সঙ্গে পেরে উঠবেন না। আগামী সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস হারলে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে এবং তাহলে নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রীর পদলাভ আর আটকায় কে? আমাকে এক ভারতীয় সাংবাদিক-বন্ধু ঠাট্টা করে বলেছেন, ভারতের আগামী নির্বাচনের পর যদি গুজরাটের গণহত্যার নায়ক নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হন এবং বাংলাদেশের নির্বাচনের পর খালেদা জিয়া তার পুত্র তারেক রহমান কিংবা ‘জামায়াত-পছন্দ’ কোনো ব্যক্তিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসান, তাহলে উপমহাদেশের অবস্থা কী দাঁড়াবে বলো তো? আমি রবীন্দ্রনাথের কথা অনুকরণ করে বলেছি ‘মানব সভ্যতার ইতিহাসে সেই দিনটি বহু দূরবর্তী থাকুক।’
তবু বলবো, সাম্প্রদায়িক শক্তি ও মানবতার শত্রুদের দমনে ভারতের চাইতে বাংলাদেশ বেশি কৃতিত্বের দাবি করতে পারে। বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় স্বৈরাচারী ও সামরিক চক্র দ্বারা শাসিত হয়েছে। তাদের বদৌলতে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী জামায়াত এবং তাদের নেতা নরপশু গোলাম আযম দীর্ঘকাল বিচার এড়িয়ে থাকতে পেরেছেন এবং বিএনপির কাঁধে চড়ে জামায়াত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাতেও পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকতে পেরেছে। জনগণ তাদের ক্ষমতায় বসায়নি এবং দীর্ঘকাল তারা ক্ষমতায় থাকতেও পারেনি। চার দশক পরে হলেও মানবতার শত্রু হিসেবে জামায়াতীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। দন্ড পেতে হচ্ছে। গোলাম আযমেরও নব্বই বছর কারাদন্ডের শাস্তি ঘোষিত হয়েছে।
অন্যদিকে ভারতের মতো দীর্ঘ প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রের দেশে সকল বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তির বিরোধিতা উপেক্ষা করে ঘোর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি’র অভ্যুত্থান ঘটেছে। তারা শুধু কতিপয় রাজ্যে নয়, দিল্লিতেও একাধিকবার কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় বসেছে এবং আসন্ন সাধারণ নির্বাচনেও তাদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনার কথা অনেকেই বলছেন। তা যদি হয় তাহলে ভারতের গোলাম আযম, বুচার অব গুজরাট নামে কুখ্যাত নরেন্দ্র মোদী হতে পারেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তাতে কি ভারতের মতো উন্নত গণতান্ত্রিক দেশের মাথা লজ্জায় ধুলোয় লুটাবে না?
বাংলাদেশের গোলাম আযম এবং ভারতের নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে কথাবার্তা, আচরণে বিস্ময়কর মিল। বয়স ও ধর্মে ব্যবধান থাকলেও মনে হয় দু’জনে যমজ ভাই। দু’জনেই ধার্মিক নন, ধর্মান্ধ। বিবেকহীন এবং ঘাতক চরিত্রের। বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবী হত্যা ও গণহত্যার দোসর হয়ে গোলাম আযমের যেমন কোনো অনুতাপ ও বিবেকপীড়া নেই, বরং উঁচু গলায় নির্লজ্জভাবে বলেন, ‘একাত্তরে কোনো ভুল করিনি’? তেমনি গুজরাটে হাজার হাজার সংখ্যালঘু নিধনের হোতা নরেন্দ্র মোদীর এই মাস-মার্ডারের জন্য কোনো অনুশোচনা নেই; বরং ‘বুচার অব গুজরাট’ হিসেবে তিনি গর্বিত।
নরেন্দ্র মোদী এখন বিজেপি’র নির্বাচন প্রচারণার কর্তা হিসেবে দলকে আগামী সাধারণ নির্বাচনে জয়ী করা এবং নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসানোর তত্পরতায় ব্যস্ত। কিন্তু গুজরাট দাঙ্গা তার পিছু ছাড়েনি। তিনি যেখানেই যান, সেখানেই গুজরাটে সংখ্যালঘু হত্যায় তার সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন ওঠে। তিনি অনুতাপ বা দুঃখ প্রকাশ করেন না। বরং সদম্ভে বাংলাদেশের গোলাম আযমের মতো বলেন, ‘এগারো বছর আগে আমি কোনো ভুল করিনি।’ নিজের এবং দলের পক্ষে প্রোপাগান্ডা জোরদার করা এবং গুজরাট-কিলিংয়ের কথা তার দেশবাসীর মন থেকে মুছে ফেলার জন্য তিনি ইসরায়েলের একটি শক্তিশালী প্রচার সংস্থাকে বিপুল অর্থব্যয়ে নিযুক্তি দিয়েছেন। ভারতের সংবাদপত্রেই এই খবর বেরিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দুষ্টগ্রহ ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো প্রকার সম্পর্ক রক্ষা না করার নীতি ছিলো ভারতের নেহরু সরকারের। পরবর্তী কংগ্রেস সরকারগুলো (ইন্দিরা সরকারসহ) এই নীতি মেনে চলেছে। বিজেপি দিল্লিতে ক্ষমতায় এসে এই নীতি বদল করে এবং ইসরাইয়েলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে। কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরে এসে বিজেপি’র এই নীতিই অনুসরণ করে চলেছে। ফলে ভারতের সামরিক ও অসামরিক প্রশাসনেও ইসরায়েলের ঘাতক গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এখন অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এই অনুপ্রবেশ এতোদিন চলছিলো ভারতের সরকারি ব্যবস্থায়। এখন নরেন্দ্র মোদীর কল্যাণে ভারতের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ইসরায়েলের অনুপ্রবেশের পথ সুগম করে দেওয়া হলো। ভারতেরই গণতান্ত্রিক শিবিরের কেউ কেউ বিজেপি’র বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে বলেছেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদ ও জায়োনিজমের মধ্যে উদ্দেশ্য ও চরিত্রের মিল প্রচুর।
বাংলাদেশে তবু মানবতার শত্রু গোলাম আযমের বিচার হয়েছে এবং শাস্তিও ঘোষিত হয়েছে। ভারতে গুজরাট-কিলিংয়ের মাস্টার-মাইন্ড নরেন্দ্র মোদীর যথেষ্ট সমালোচনা ও নিন্দা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে বটে, কিন্তু তার কোনো বিচার ও শাস্তি এখনো হয়নি। বরং গুজরাট-দাঙ্গার তদন্তে তার বিরুদ্ধে যে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, তা কেন্দ্রীয় সরকারের তদন্তেও মুছে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে বলে ভারতের মিডিয়াতেই খবর প্রকাশিত হয়েছে। চল্লিশ বছর যাবত্ বিচার ও দন্ড এড়াতে পারায় বাংলাদেশে গোলাম আযমের দম্ভ এবং বাড় যেমন বেড়ে গিয়েছিল, তেমনি ভারতে এগারো বছর যাবত্ শুধু বিচার এড়িয়ে চলা নয়, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী পদে সমাসীন থাকতে পারায় নরেন্দ্র মোদীরও দম্ভ এবং দুর্বিনীত ভাব বহুগুণ বেড়ে গেছে। তার প্রকাশ ঘটছে তার বর্তমানের কথাবার্তাতেও।
গত ১২ জুলাই শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার নরেন্দ্র মোদীর একটি সাক্ষাত্কার গ্রহণ করে। স্বাভাবিকভাবেই সেই সাক্ষাত্কারে গুজরাটে সংখ্যালঘু নিধনের কথা উঠে আসে। এই নরপশু নিহত সংখ্যালঘুদের কুকুরের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “গাড়ির সামনে কুকুর চলে এলে আমি কি করবো?” তার এই ধৃষ্ট মন্তব্য ভারতের অধিকাংশ মিডিয়া প্রকাশ করেছে। আমি ‘দৈনিক স্টেটসম্যানের’ ১৩ জুলাই শনিবারের সংখ্যা থেকে এ সম্পর্কিত রিপোর্টের কিছুটা অংশ তুলে ধরছি।
“দৈনিক স্টেটসম্যানের” খবরে বলা হয়, “গুজরাট দাঙ্গার জন্য বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নন বিজেপি’র বিকাশ পুরুষ নরেন্দ্র মোদী। তিনি তৃপ্ত এবং কার্যত: ভাবলেশহীন। সগর্বে এবং দৃপ্ত কণ্ঠে মোদী বলেছেন, তিনি কিছু ভুল করেননি। তার যা করার ছিল তিনি সেটাই করেছেন এবং যা করেছেন ঠিক করেছেন। রয়টার্সের প্রতিনিধি মোদীকে বলেছিলো, গুজরাট কিলিং ঘটেছিল এগারো বছর আগে। কিন্তু এখনও মানুষ যেমন ভুলতে পারেনি ওই ঘটনার কথা, তেমনি আপনার দিকে আঙুল তুলতেও দ্বিধা করে না। কিন্তু ওই ঘটনার জন্য আপনার মনে তো কোনো অনুশোচনা নেই!”
এই প্রশ্নে কিছুমাত্র বিচলিত হননি মোদী। বরং নিজের অবস্থান সঠিক প্রমাণ করার জন্য তিনি তুলে ধরেন চলন্ত গাড়ির সামনে কুকুর চলে আসার উপমা। ওই অবস্থায় কুকুরের মৃত্যু নিশ্চিত সেটা গাড়ির ড্রাইভার জানলেও তার কিছু করার থাকে না। তাছাড়া তিনি একজন হিন্দু এবং সেজন্যে তিনি গর্বিত। মানবতার এই আত্মস্বীকৃত শত্রুর ধৃষ্টতার বিরুদ্ধে কংগ্রেসসহ বাম ও গণতান্ত্রিক দলগুলো অবশ্যই নিন্দায় সরব। কিন্তু গণতান্ত্রিক ভারতে এই উগ্র সাম্প্রদায়িক নেতার অভ্যুত্থানকে ঠেকানোর জন্য গণতান্ত্রিক শিবিরে ঐক্যবদ্ধ কার্যক্রম গ্রহণের তেমন কোনো উদ্যোগ লক্ষণীয় নয়।
রয়টার্সের সঙ্গে সাক্ষাত্কারে নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের সংখ্যালঘুদের কুকুরের সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং সদর্পে বলেছেন, “আমি জন্ম থেকে হিন্দু এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদী। বুক ফুলিয়ে বলতে পারি আমি হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা এবং এই পরিচয় দিতে আমি গর্ববোধ করি।” সন্দেহ নেই মোদীর এই দম্ভোক্তি ভারতের গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতের দলমত নির্বিশেষে সকল গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু ভারতে সেই উদ্যোগ কোথায়? মামুলি প্রতিবাদ দ্বারা কি এই নরদানবের উত্থান রোধ করা যাবে?
বিহারের সমাজবাদী পার্টি ও মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার বিজেপি’র সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর প্রশ্নেই কেবল সম্পর্ক ছেদ করেছেন। এই পার্টির কামাল ফারুকি বলেছেন, “মোদী কুকুর বলতে যে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে বুঝিয়েছেন সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক।” কংগ্রেসের প্রচার সেলের অজয় মাকেন বলেছেন, “গুজরাট দাঙ্গায় যেহারে লোক মারা গেছে তার হোতার সঙ্গে কোনো সমঝোতাই হয় না। বিশ্বে ভারতের মতো সভ্য দেশের মাথা নত হয়ে গেছে।”
এখন ভারতেই প্রশ্ন উঠেছে, কেবল কাগুজে বিবৃতি ও প্রতিবাদ দ্বারাই কি দেশটিতে ফ্যাসিস্ট হিন্দুত্ববাদী নেতা ও তার দলের অভ্যুত্থান রোধ করা যাবে? ইউরোপে কয়েক বছর আগে নািসবাদের আবার অভ্যুত্থান প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। ফ্রান্সে নব্য ফ্যাসিস্ট নেতা লে পেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। এই অবস্থায় ব্রিটেনসহ সারা পশ্চিম ইউরোপের সরকার এবং গণতান্ত্রিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল ফ্রান্সে ও জর্মানীতে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানোর জন্য। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দ্বারা এই ফ্যাসিবাদী দানবকে ঠেকানো হয়েছিল।
ভারতে, শুধু ভারতে নয়, গোটা উপমহাদেশের ডান-বাম নির্বিশেষে গণতান্ত্রিক সরকার ও দলগুলোর আজ রাষ্ট্রীয় ও ভৌগোলিক সীমারেখার বাইরে এসে উগ্র হিন্দুত্ববাদ, ইসলামিক টেরোরিজম ইত্যাদি নামের আড়ালের ভয়ানক ফ্যাসিবাদী দানবের অভ্যুত্থান রোখার জন্য ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি গ্রহণ করা দরকার। বাংলাদেশে এই ফ্যাসিবাদকে একা রুখতে গিয়ে হাসিনা সরকার হিমশিম খাচ্ছেন। ভারতেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এখন খুবই দুর্বল এবং অনৈক্যে জর্জরিত। তারাও একা ধর্মীয় ফ্যাসিবাদকে রুখতে পারবেন না। তাদেরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং ঐক্যের সীমানা সারা উপমহাদেশে সম্প্রসারিত করতে হবে। নইলে বাংলাদেশে মধ্যযুগীয় হেফাজতি-তান্ডব, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা-নিধন, পাকিস্তানে শিয়া-কাদিয়ানি ও সেক্যুলারিস্টদের হত্যা অভিযান এবং ভারতে হিংস্র হিন্দুত্ববাদের অভ্যুত্থান ঠেকানো যাবে না।
\ লন্ডন ২০ জুলাই, শনিবার, ২০১৩ \