সমতলে পাহাড়ি পেয়ারা
মোহাম্মদ ইলিয়াছ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৩, ২২:০৮
দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালীর পাহাড়ি অঞ্চলে উত্পাদিত হচ্ছে প্রচুর পেয়ারা। এসব এলাকার উত্পাদিত পেয়ারা পাওয়া যাচ্ছে চট্টগ্রামের বিভিন্নস্থানে। শুধু চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর, কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নের অধিকাংশ পাহাড়ি এলাকায় পেয়ারা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। চন্দনাইশের এ দু’ইউনিয়ন পেয়ারা গ্রাম নামে এলাকায় বেশ পরিচিতি রয়েছে। এখানকার পেয়ারা সুস্বাদু এবং বড় আকারের বলে গ্রহণযোগ্যতা বেশি। এ দু’এলাকার উত্পাদিত পেয়ারার চাহিদা শুধু দেশে নয়, বিদেশেও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এসব এলাকার পেয়ারা রপ্তানি হচ্ছে।
জানা যায়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের উল্লেখিত পাঁচ উপজেলায় ৪ হাজারের অধিক পেয়ারা বাগান রয়েছে। তন্মমধ্যে চন্দনাইশের হাশিমপুর ও কাঞ্চননগর গ্রামে রয়েছে প্রায় ২ হাজার পেয়ারা বাগান। এসব বাগানে প্রতিবছর উত্পাদিত হচ্ছে লাখ লাখ টাকার পেয়ারা। চন্দনাইশের, কাঞ্চননগর গ্রামে প্রচুর পেয়ারা উত্পাদিত হয় বলে পেয়ারার নামকরণ হয়েছে ‘কাঞ্চন পেয়ারা’। এ পেয়ারা আকারে বড় ও সুস্বাদু। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের যাত্রীরা যাত্রা বিরতি করে এখানকার পেয়ারা কিনতে। দেশের বিভিন্নস্থানে চলে যাচ্ছে এখানকার পেয়ারা। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের চন্দনাইশের বাদামতল, গাছবাড়িয়া, বাগিচা হাট ও রৌশন হাটে প্রতিদিন সকালে পেয়ারার হাট বসে। দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ চট্টগ্রামের বিভিন্নস্থানে পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে। চাষিরা বাগান থেকে পেয়ারা নিয়ে আসে লাল কাপড় মুড়িয়ে। মোড়ানো লাল কাপড়ে ২০০-৩০০টি পর্যন্ত পেয়ারা থাকে। প্রতিদিন শত শত লাল কাপড় মোড়ানো এসব পেয়ারা বিক্রির জন্য সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় সড়কের উভয় পাশে। ক্রেতারা এখানে এসে ভিড় জমান। পেয়ারা বিক্রেতারা জানান, চন্দনাইশের পেয়ারার দেশে-বিদেশে খুব কদর রয়েছে। ক্রেতাদের সুবিধা ও আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য রাস্তার পাশে পেয়ারা বিক্রির এই ব্যবস্থা। দেশের বিভিন্নস্থান থেকে ক্রেতারা এসে পাইকারী পেয়ারা কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ছোট সাইজের পেয়ারা ডজন প্রতি ৪০-৫০ টাকা, মাঝারি সাইজের পেয়ারা প্রতি ডজন ৬০-৭০ টাকা এবং বড় সাইজের পেয়ারা ডজন ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, পেয়ারা বিক্রয়ে তাদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। বিক্রয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোন জায়গা না থাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের পাশে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে পেয়ারা বাজার বসাতে হয়। অন্যদিকে পেয়ারা চাষীরা জানান, বেশিরভাগ পাহাড়ি জায়গা সরকার থেকে দীর্ঘমেয়াদী বন্দোবস্ত নিয়ে প্রতিবছর খাজনা পরিশোধ করে পেয়ারার চাষ করতে হয়।