বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘কর্মপরিকল্পনা’ ঘোষণা

জিএসপি ফিরে পেতে একগুচ্ছ প্রস্তাব বাস্তবায়নের তাগিদ

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) আবারো দেয়ার জন্য একটি ‘কর্ম পরিকল্পনা’ ঘোষণা করেছে দেশটি। জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে বাংলাদেশকে একগুচ্ছ পদক্ষেপের এই কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, শ্রম মন্ত্রণালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস ট্রেড রেপ্রেসেন্টিটিভস? অফিস (ইউএসটিআর) এক যৌথ বিবৃতিতে গত শুক্রবার এই কর্ম পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। কর্ম পরিকল্পনায় অগ্নিকাণ্ড ও ভবনের নিরাপত্তা পরিদর্শনে জনবল বৃদ্ধি, শ্রমিকদের জন্য একটি হটলাইন স্থাপন, কর্মপরিবেশ উন্নয়নে ব্যর্থতায় জরিমানার অঙ্ক বাড়ানো এবং অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ একগুচ্ছ পদক্ষেপ বান্তবায়নের তাগিদ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জনের ও এপ্রিলে সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১১শ’র বেশি শ্রমিকের প্রাণহানির পর গত ২৭ জুন বাংলাদেশের জন্য জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। জিএসপি সুবিধা স্থগিতের সময়ই এ বিষয়ে সুপারিশগুলো বাংলাদেশের কাছে পেশ করা হয়। আর গত শুক্রবার তা জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রশাসন। বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত করতে আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তা ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলো। ইউএসটিআর এর কর্মপরিকল্পনায় বাংলাদেশ সরকারকে কারখানাগুলোয় আরো ঘন ঘন অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও ভবন পরিদর্শনের কাজ করতে এবং পরিদর্শকদের সংখ্যা বাড়াতে বলা হয়েছে। পরিদর্শন কার্যক্রম স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য করতে কারখানা পরিদর্শকদের প্রশিক্ষণের মান বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে। শ্রমিকদের জন্য একটি হটলাইন স্থাপন করতে বলা হয়েছে যাতে তারা তাদের নিরাপত্তাহীনতা ও অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে পারে। এই কর্ম পরিকল্পনায় অগ্নিকাণ্ড, শ্রমিক ও ভবনের বিষয়ে পরিদর্শনের পর গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলোর একটি ডাটাবেজ তৈরি করতে বলা হয়েছে। শ্রম আইন, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বা পরিদর্শন পদ্ধতি মানা না হলে আমদানি-রপ্তানির লাইসেন্স বাতিলসহ জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এই কর্মপরিকল্পনায় বাংলাদেশে ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার এবং সংঘবদ্ধভাবে দর-কষাকষির প্রক্রিয়া নিয়ে যেসব উদ্বেগ আছে তা নিরসনে সরকারকে শ্রম আইন সংস্কার ও তার বাস্তবায়ন করার আহবান জানানো হয়েছে। শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আহবান জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র আশা করে, জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে বাংলাদেশ এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে। কারণ মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের বাণিজ্য সুবিধা ফিরে পেতে এসব পদক্ষেপের বাস্তবায়ন জরুরি। এছাড়া কাজের পরিবেশ উন্নত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাকে (আইএলও) একসঙ্গে কাজ করার আহবান জানিয়েছে ইউএসটিআর। তৈরি পোশাক কারখানার কাজের পরিবেশ ও শ্রমিকের স্বার্থ সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে ওবামা প্রশাসন। পোশাক খাতে কাজের পরিবেশের উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে বলে জানানো হয়। ১৯৭৬ সাল জিএসপি সুবিধা চালুর পর থেকে বাংলাদেশ এ সুবিধা ভোগ করে আসছে। তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এই সুবিধার আওতাভুক্ত নয়। গ্লোবাল ওয়ার্কস ফাউন্ডেশনের বাণিজ্য বিষয়ক বিশ্লেষক এড গ্রেসার জানান, গত বছর বাংলাদেশ সাড়ে তিন কোটি টাকা মূল্যের তাঁবু, গলফ খেলার সরঞ্জাম, প্লেট যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি করেছে। এর ওপর জিএসপি-সুবিধা অনুযায়ী ২০ লাখ ডলার শুল্ক ছাড় পেয়েছে।