শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়ন চায় জেলাবাসী
শেখ মহিউদ্দিন আহাম্মদ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৩, ২১:১০
সরকার আসে, সরকার যায়। প্রতিশ্রুতির দোলাচলে বৃহত্তর ময়মনসিংহবাসী। বৃহত্তর ময়মনসিংহ (ময়মনসিংহ, জামালপুর শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল) মিলে ৩৮টি সংসদীয় আসন ও প্রায় ২ কোটি অধিবাসী নিয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল। ময়মনসিংহ জেলা সারা দেশের মধ্যে অতি প্রাচীন ও বৃহত্তম জেলা হিসেবে পরিচিত। বৃহত্তম জেলা হিসেবে কাগজে-কলমে স্বীকৃতি দেয়া হলেও বাস্তবে স্বীকৃতি দেয় হচ্ছে না। বিভিন্ন সময়ে বিভাগ বাস্তবায়ন, আনন্দ মোহন কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজসহ নির্বাচনী নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও আজো বিভাগ বাস্তবায়নসহ অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। এক সময় ভারতবর্ষের সর্ববৃহত্ জেলা হিসেবে পরিচিত ছিল ময়মনসিংহ। স্বাধীনতাত্তোর শম্ভুগঞ্জ ব্রহ্মপুত্র নদের উপর চায়না ব্রীজ, পাওয়ার স্টেশন স্থাপন ও ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতাল ভবন ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোন উন্নয়ন নেই। স্বাধীনতাত্তোর ৪২ বছরে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি। এ নিয়ে ময়মনসিংহের সর্বসাধারণের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমরা আর কতদিন প্রতিশ্রুতির রাজনীতির ভেড়াজালে আবদ্ধ থাকবো ? আগামী সরকারের কাছে ময়মনসিংহবাসী আর প্রতিশ্রুতি নয়, বিভাগসহ বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ও এর প্রতিফলন দেখতে চায়।গত ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি’র চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ময়মনসিংহের বিশাল জনসভায় তাদের স্ব-স্ব প্রার্থীদের বিজয়ী ও ক্ষমতা যাওয়ার লক্ষ্যে ময়মনসিংহকে বিভাগ ঘোষণা, আনন্দ মোহন কলেজকে পূর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ স্থাপন, কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল স্থাপন, বাইপাস সড়ক নির্মাণ, টাউন হল নির্মাণ, মেডিকেল কলেজকে ১০০০ বেডে উন্নীতকরণ, শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্লোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, স্থল বন্দরের উন্নয়ন ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, যমুনা সেতুর সঙ্গে ময়মনসিংহের সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু, বিসিক শিল্প নগরীতে শিল্পকারখানা স্থাপনসহ বিভিন্ন রাস্তাঘাট, ব্রীজ স্থাপনের ঘোষণা দিলেও আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এছাডাও ভালুকায় ইপিজেড স্থাপন, নতুন নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপন করা, ত্রিশালে বিমান বন্দর করা, হালুয়াঘাটে পরিপূর্ণ স্থলবন্দর করা, নান্দাইল-বালিপাড়া ব্রীজ নির্মাণ, নান্দাইলে শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজে অনার্স চালু করা, গফরগাঁও-ভালুকা রাস্তা সংস্কার, হালুয়াঘাট-ধোবাউড়ার সমস্যা-ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও স্থল বন্দরের উন্নয়ন, নেতাই নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, পৌরসভাসমূহ আধুনিকায়ন, ফুলবাড়িয়ার মৌসুমী ফল সংরক্ষণাগার নির্মাণ, গফরগাঁওয়ের নদীভাঙ্গন সমস্যা প্রতিরোধ, ঈশ্বরগঞ্জে অডিটরিয়াম নির্মাণ, গ্যাস সংযোগসহ বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ময়মনসিংহের বাইপাস সড়কের একাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র। অন্যদিকে চলতি বছর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ভবনটি শেখ হাসিনা উদ্বোধন করে গেলেও ভবনটির যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি’র চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজের বিশাল জনসভায় একাধিকবার ময়মনসিংহকে বিভাগ ঘোষণা, আনন্দ মোহন কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ স্থাপন, কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল স্থাপন, ব্রহ্মপুত্র নদ খনন, শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনসহ বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ময়মনসিংহবাসী এখন আর প্রতিশ্রুতির রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। ময়মনসিংহবাসী চায় দ্রুতই ময়মনসিংহ বিভাগ বাস্তবায়ন।