নির্বাচনী রাজনীতি নিয়ে ভালুকা সরগরম

বৃহত্তর ময়মনসিংহের ৫টি জেলার প্রবেশদ্বার ও অন্যতম শিল্পাঞ্চল হিসাবে খ্যাত ভালুকা আসনটি নানান দিক থেকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ন। ফলে এই আসনটি ধরে রাখতে মহাজোটের নেতা-কর্মীরা সোচ্চার। অপরদিকে হারানো এ আসনটি পূনঃ উদ্ধারে মরিয়া ১৮ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা। স্থানীয় ভাবে আসনটি নিয়ে বড় দু’দলের নেতা-কর্মীরা জয় লাভের ব্যাপারে নতুন মুখ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ইতিমধ্যে মনোনয়ন পেতে বড় দু’দলেই একাধিক প্রার্থী নিজ দলীয় হাই কমান্ডে দৌড়-ঝাপ অব্যাহত রেখেছে। ১৮ দলীয় জোট থেকে মনোনয়নের জন্য বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ভালুকা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু, বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হবিরবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম, জিয়া ব্রিগেডের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য আবুল হোসেন এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি দলীয় হাই কমান্ড ও স্থায়ী কমিটির একাধিক মেম্বারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে নিজ নিজ কৌশলে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। অপর দিকে অধ্যাপক ডা. এম আমান উল্যাহ এমপি, ভালুকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহাম্মেদ ধনু, উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিপ্লব, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ সদস্য শাহ্ মোঃ আশরাফুল হক জজ মহাজোটের প্রার্থী হিসাবে এলাকায় গণসংযোগ চালাচ্ছেন। আলহাজ্ব আমান উল্যাহ চৌধুরী ১৯৮৬ সালে মুসলীমলীগ থেকে ও ১৯৯১ সালে বিএনপি থেকে এমপি নির্বচিত হন। স্থানীয় বিএনপির ত্রি-ধারায় বিভক্তির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভালুকায় বিএনপি’র রাজনৈতিক মাঠে প্রবেশ করেন সাবেক ছাত্রদল নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু। ২০০৮ সালে বিএনপির মনোনয়ন লাভ করে ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু ভালুকা আসনে ১৮ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসাবে মহাজোটের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. এম আমান উল্যাহ’র কাছে পরাজিত হন। আওয়ামী সরকারের হয়রানিমুলক মামলাসহ নানা নির্যাতন সহ্য করে দল পরিচলনা করে আসছেন। অপরদিকে অধ্যাপক ডা. এম আমাউল্যাহ মহাজোট থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর পরই দলে বিভেদ সৃষ্টি হয়। ভালুকা উপজেলা আওয়ামীলীগ স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এম আমান উল্যাহ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহাম্মেদ ধনু ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।