রৌহানির জয়লাভ ইরানের জন্য একটি সুযোগ

ইরানের পরমাণু ইস্যুতে নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হাসান রৌহানির সঙ্গে ছয় বিশ্ব শক্তি একটি যুক্তিসঙ্গত সমঝোতায় পৌঁছতে পারে বরে আশা করছে পশ্চিমা বিশ্ব। ইরানের পরমাণু কর্মসূচির কারণে পশ্চিমা বিশ্বের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধের ফলেই এটি সম্ভব হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন। পশ্চিমা বিশ্ব সন্দেহ করছে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পরমাণু বোমা তৈরির উদ্দেশ্যেই চলছে। কিন্তু ইরান বলছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে। উদারপন্থী হাসান রৌহানি গত ১৪ জুনের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। অর্থনৈতিক অবরোধে কোনঠাসা দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। অন্তত অর্থনৈতিক অবরোধ কিছুটা হলেও লাঘব করতে না পারলে আগামীতে যে তার জনপ্রিয়তা হ্রাস পাবে তা তিনি ভাল করেই জানেন। তার বিজয় ইরানের জন্য একটি সুযোগ এবং বিশ্ব শক্তি পরিবর্তনের আশা করছে বলে জানালেন এক পশ্চিমা কূটনীতিক। ইরানের নির্বাচনের পর পরমাণু কর্মসূচির কৌশল ঠিক করতে গত সপ্তাহে ছয় দেশের বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকের পরই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ কূটনীতিক তাদের প্রত্যাশার কথা জানালেন। প্রতিবেশী মিসর ও সিরিয়ায় কী হচ্ছে তা ইরান ভাল করেই দেখছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, ব্রিটেন জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র —এই ছয় বিশ্ব শক্তি গত সপ্তাহেই বলেছে, তারা আশা করছে, যত শিগগির সম্ভব তারা ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে বৈঠকে বসবেন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের আগে আগামী সেপ্টেম্বরে বৈঠক হতে পারে। সর্বশেষ গত এপ্রিলে তাদের বৈঠক হয়। তখন ইউরোনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানোর বিনিময়ে কিছু অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন পশ্চিমারা। হাসান রৌহানি ইরানের পরমাণু কর্মসূচির আলোচক ছিলেন। তাই তিনি তার পূর্বসূরী মাহমুদ আহমাদিনেজাদের চেয়ে বেশি কূটনৈতিক আচরণ করবেন বলেই পশ্চিমা কূটনীতিক মনে করেন।