তিউনিসিয়া বিচলিত

আরব বসন্ত নামে পরিচিতি পাওয়া আরব দেশগুলোর সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল ২০১০ সালের শেষের দিকে। তিউনিসিয়া থেকে শুরু এই বিক্ষোভের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে দেশে দেশে। এরপর একে একে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে তিউনিসিয়া, মিসর (দু’বার), লিবিয়া ও ইয়েমেনে। আরো কয়েকটি সরকার পতনের মুখে। এ মাসের গোড়াতে মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির পতনের পর সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতিতে যে দেশটি সবচেয়ে বেশি বিচলিত সেটি হচ্ছে তিউনিসিয়া। সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কাছের মানুষ ও দীর্ঘ ৩০ বছরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক ২০১১ সালে গণবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এর একমাস আগেই পতন হয়েছিল তিউনিসিয়ার ২৪ বছরের একনায়ক জয়নুল আবিদিন বেন আলির। এখন আবার মিসরের মতো পরিস্থিতি তিউনিসিয়ায় হয় কিনা তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিউনিসিয়ার ক্ষমতাসীন দল। তিউনিসিয়ার ক্ষমতাসীন ইসলামী দল এন্নাহদার রাজনৈতিক ব্যুরো সদস্য মোহাম্মাদ ওমর বলেন, আমরা নির্বাচিত ও বৈধ প্রেসিডেন্টের পতন দেখেছি। আমি ভাবতে পারছি না মিসরে যা ঘটছে, তা থেকে কোন দেশই প্রকৃতপক্ষে নিরাপদ কিনা। মিসরে ২০১১ সালে বিক্ষোভ শুরুর কয়েকদিন পর তিউনিসিয়ার বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমান শ্রদ্ধা জানাতে মিসরের তাহরির স্কয়ারে তিউনিসিয়া সাদা-লাল রংয়ের পতাকা উড়িয়েছিল। দু’দেশের মধ্যে একটি ছোট এবং অন্যটি আরব বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ যারা মাত্র একে অপরের ঘনিষ্ঠ হয়েছিল। তিউনিসিয়ায় এরপর গণতান্ত্রিক নির্বাচনে ইসলামিক দল এন্নাহদা জয়লাভ করেছিল। ওমর বলেন, আমরা তিউনিসিয়ার ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোকে যে কোন বিষয়ে আলোচনা করার সুযোগ দেব, যেখানে সেনাবাহিনী বা অন্য কোন তৃতীয় পক্ষের অবস্থান থাকবে না। তিউনিসিয়ার ইসলামি দল এন্নাহদার নেতা রচিড গানৌচি যতদিন পর্যন্ত মুরসিকে মুক্তি দেয়া হবে না ততদিন অবধি মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্যদের কায়রোর রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মিসরের জনসাধারণ এই সেনা অভ্যুত্থ্যানকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তারা একটি সুষ্ঠু ও বৈধ গণতন্ত্রের দাবি নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। যদিও গান্নুসির এই প্রতিবাদ মিসরের বর্তমান পরিস্থিতিতে সামান্যই প্রভাব ফেলবে। আগামী ২৫ জুলাই তিউনিসিয়ার স্বাধীনতা দিবসে সরকার-বিরোধী আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়েছে, যে কারণে তিউনিসিয়ার ইসলামি সরকার অনেকটা চিন্তিত। গত একবছরে দ্রুত বেড়ে ওঠা নতুন ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক সংগঠন নিদ্দা টাউনেসকে নিয়ে সরকার অনেকটা চাপের মুখে রয়েছে। এই দলটি তিউনিসিয়ার বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করে মিসরের মত নতুন সরকার গঠনের জন্য তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। নেসমা টিভির প্রধান নাবিল কারৌই বলেন, মিসর এবং তিউনিশিয়ার অবস্থা অনেকটা পিংপং বলের মত। মিসরের বর্তমান পরিস্থিতি ইসলামপন্থিদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ধর্মনিরপেক্ষ আইনপ্রণেতা মৌলদি রিআহি বলেন, মিসর আমাদের অন্তরে মিশে আছে, কিন্তু আমরা তিউনিসিয়ানরা মিসরের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে চাই না।