শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত

সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামত যাচাই করতে হবে আব্রাহাম লিংকনের গণতন্ত্রের সংজ্ঞাটা নিশ্চয় আমরা ভুলে যাইনি। কিন্তু আজ আমরা আমাদের এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে যা দেখছি তা এই সংজ্ঞাটার সাথে অনেকাংশে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। এই গণতন্ত্র বর্তমানে আমাদের দেশে বিকৃত রূপ ধারণা করেছে। স্বৈরশাসক এবং রাজাকাদের সাথে সরকার ও বিরোধীদলগুলো আপোষের রাজনীতি করছে। শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, পদ্মা সেতু দুর্নীতি, হলমার্ক ও ডেসটিনির দুর্নীতিসহ আরো অনেক কারণে বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তা কমে এসেছে। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের যে রীতি তাতে ক্ষমতাসীনদের আধিপত্য দেখা যায়। কিন্তু একটা দেশকে উন্নতির দোরগাড়ায় পৌঁছতে হলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন হতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে ক্ষমতাসীনদের জনপ্রিয়তা যাচাই করা উচিত। নির্বাচনের মূল লক্ষ্যই হলো জনগণের মতামত যাচাই। তাই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করলে একদিকে যেমন দেশের উন্নতি অব্যাহত থাকবে অন্যদিকে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তিও অক্ষুণ্ন থাকবে। দীপ্ত বড়ুয়া নটরডেম কলেজ বিজ্ঞান, ব্যাচ: 2011-12 ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন একটি মুদ্রার এপাশ-ওপাশ আমরা আশা করেছিলাম স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাংলাদেশ নামক দেশটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হবে এবং ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশ পৃথিবীতে একটি সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত হবে। মানুষের মৌলিক অধিকার বিশেষ করে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিত্সার ব্যবস্থা হবে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সেই স্বপ্ন আজও বাস্তবায়িত হয়নি। মৌলিক অধিকার পূরণ করতে হলে অবশ্যই অর্থের প্রয়োজন। একটি দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে অর্থনীতির উপর। অর্থের প্রয়োজনে মানুষ ছুটোছুটি করে কাজের দিকে। কাজের সফলতা থেকে আসে সম্মান। ব্যক্তি সম্মানিত হলে পেতে চায় ক্ষমতা। এক সময় কোন উপায়ে হয়তবা ক্ষমতা পেয়ে থাকে। যারা ক্ষমতায় থাকেন তাদেরকে দেশের জনগণকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে। বৃহত্ সড়কে লেখা আছে, নদী বাঁচাও দেশ বাঁচবে। আমি আমার দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে চাই, আগে নদীর পাড়ের মানুষগুলোকে বাঁচাও তাহলে দেশ বাঁচবে। দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের জন্যে মানুষ দিন-রাত পরিশ্রম করে, মাথার ঘাম পায়ে ঝরায়। কিন্তু যারা ঐ ক্ষমতার আসনে বসে আছেন তারা কি সাধারণ মানুষগুলোকে নিয়ে ভাবে? একটু চোখ বুলান একটু গভীর চিন্তা করুন তাহলেই বুঝতে পারবেন ঐ মানুষগুলোই তাদের ভোটের মাধ্যমে আপনাদের ক্ষমতায় বসান। সরকার দলীয় লোকেরা তাদের ক্ষমতা ধরে রাখতে চায় আবার বিরোধী দলও ক্ষমতা ফিরে পেতে চায়। এখান থেকে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। এর রেশ সাধারণ মানুষের কাঁধে এসে বর্তায়, আজ একটা মহাসংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতি নির্ভর করে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলার উপর। তাই শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করুন— এটাই আমাদের প্রাণের দাবি। ইলিয়াছ হোসেন (সাগর) অনার্স ২য় বর্ষ ইসলামিক ইতিহাস বিভাগ ঢাকা কলেজ, ঢাকা বর্তমান পরিস্থিতিতে দু’নেত্রীর একসাথে বসা উচিত, তা না হলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে, দু’পক্ষের সংঘাত বেড়ে যাচ্ছে। সাধারণ জনগণ বিপাকে পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত, কারণ বর্তমানে যেখানেই যাই না কেন ঘুষ ছাড়া কিছুই নেই। বখশিস না দিলে কাজ হয় না, এটা দিতেই হবে তাদের বাধ্যতামূলক। তাই বলবো আমাদের দেশ দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। সরকারের টাকা মেরে খেয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আয় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে, সেদিকে খেয়াল রেখে দুর্নীতিমুক্ত করতে পারলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে। জাহানারা ফেরদাউস সাথী ওমান কলেজ, চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতি সবল হবে দু’নেত্রীর সমঝোতার মাধ্যমে অনিন্দ্য সুন্দর এই আমাদের বাংলাদেশ। এ দেশের প্রতিটা মানুষের কাম্য সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা। শান্তিতে বসবাস করা। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেটা দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে। চারদিকে সংঘাত, হানাহানি আর গুমের রাজনীতিতে আমরা হাঁপিয়ে উঠেছি। জাতি আস্তে আস্তে অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এ থেকে উত্তরণ দরকার। আর এজন্য চাই সবার মধ্যে সমঝোতা। সবাই যার যার ক্ষমতা নিয়ে ব্যস্ত। দেশের কথা, জাতির কথা ভাবার যেন সময় তাদের নেই। যে দলই সরকার গঠন করে তারা সারা জনম থাকার পাঁয়তারা করে। অন্যদিকে বিরোধী পক্ষ ক্ষমতায় আসার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। দেশে শুরু হয় সংঘাতময় পরিস্থিতি। এরফলে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। আর এর ফল ভোগ করি আমরা সাধারণ জনগণ। যারা রাত-দিন পরিশ্রম করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দিনাতিপাত করে তাদের কথা ভাবার সময় হয় না কারো। আমাদের দেশ আজ রাজনৈতিক কারণে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন। তাই এ থেকে উত্তরণের জন্য আমাদেরকে সমঝোতার মাধ্যমে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সকল রাজনৈতিক দলকে একত্র হয়ে দেশের কথা ভেবে সংঘাতময় রাজনীতি পরিহার করে এগিয়ে আসতে হবে। মো.শাকিল মাহ্মুদ স্নাতক (সম্মান), ইতিহাস বিভাগ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়