বিপণী বিতান মিল-কারখানায় এক কাতারে মিলিছে সবাই

ইফতার। এমন একটি ধর্মীয় রীতি যা সকলকে এক কাতারে নিয়ে আসে। এসময় ধনী-গবির, মালিক-শ্রমিক-কর্মচারী ভেদ থাকে না। ইফতার নামাজের মতই এক কাতারে নিয়ে আসে সকলকে। মাগরিবের আজান দেয়ার সাথে সাথে সকল ভেদাভেদ ভুলে এক সাথে এক পাত্রে বসে যায় ইফতারিতে। এই চিত্র বিপণী বিতানগুলোতেই বেশি। অনেক বড় কারখানা বা অফিসেও এ দৃশ্য দেখা যায়। আগে থেকেই শুরু হয় ইফতারির আয়োজন, খাবার কেনা, মাখানো তারপর ঠিক ইফতারির আগে আগে সব আয়োজন শেষ। এরমধ্যে কোন ক্রেতাও যদি এসে যান তবে তিনিও বাদ যান না। একটু শরিক হওয়ার আমন্ত্রণ তাকে করা হবেই। মুখে একটু পানি দেয়া অথবা মাখানো মুড়ি। রমজান মাসে মুসলমানরা সারাদিন রোজা রাখার পর সূর্যাস্তের সময় খাবার খায়, তাই ইফতার। রমজান মাসে সবাই একত্রে বসে ইফতার করেন। খেজুর খাওয়ার মাধ্যমে ইফতার শুরু করা সুন্নত। সাধারণত বাংলাদেশে অনেক স্থানে পানি খাবার মাধ্যমে, আবার অনেক স্থানে ভেজা চাল মুখে দেয়ার মাধ্যমে ইফতারি শুরু করা হয়। হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (দঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করাল সে রোজাদারের মতোই সওয়াব পেল, আর রোজাদার ব্যক্তির ছাওয়াব কোন অংশে কম হল না। সালাফে সালেহীনরা ও রোজাদারকে ইফতার করাতে খুবই উত্সাহী ছিলেন, তারা এটাকে উত্তম ইবাদত বলে ভাবতেন। রাজধানীর কয়েকটি বড় বড় বিপণী বিতান ঘুরে দেখা গেছে ইফতারির চিত্র। এই একমাস ইফতারি করাতে কোন আপত্তি নেই । নেই কোন কার্পণ্য। ধানমন্ডি ৫ নম্বর রোডের একটি দোকানে মালিক-কর্মচারীদের একই পাত্রে এমনই ইফতারি সাজাতে দেখা গেল। আজানের একটু আগে বিছানা বিছিয়ে দেয়া হলো। সেখানে গোল হয়ে বসে পড়লেন দোকানের মালিক, কর্মচারী সবাই। দুইজন কর্মচারী সবকিছু কিনে এনে আগে থেকে তৈরি করতে লাগলেন ইফতার। একটি বড় গামলাতে মুখরোচক একাধিক খাবার। ছোলা, আলুর চপ, পিঁয়াজু, বেগুনি, সবজি-বড়া ইত্যাদি ভেঙ্গে দেয়া হলো। তারপর মেশানো হলো মুড়ি, সরিষার তেল দিয়ে। গামলা থেকেই খাওয়া শুরু করলেন সবাই। শেষে বাটিতে বাটিতে হালিম। সাথে ইসুফগুলের সরবত। প্রায় একশ জন কর্মচারী নিয়ে একসাথে ইফতার করেন ধানমন্ডির একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের মালিক। তিনি বললেন, বছরে তো একটা মাসই। এই মাসে চেষ্টা করি এক হয়ে থাকতে। আমার যতগুলো বিক্রয়কেন্দ্র আছে সব গুলোতে দোকানের সবাই একসাথে ইফতার করে। আমি যে দিন যেখানে থাকি সেই দিন সেখানেই সবার সাথে ইফতার করি। রাজধানীর বড় বড় সব বিপণী বিতান ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। মৌচাক, নিউমার্কেট, ইস্টার্ন প্লাজাসহ কয়েকটি দোকানে কয়েকদিন ইফতারির সময় দেখা গেছে, সবাই মিলে একসাথে ইফতার করছেন। এসময় আর কারো কোন ভেদাভেদ নেই। ইফতারের সময় যেন এমন একটি সময়, এই সময় কেউ খালি হাতে ফেরেন না।