ঈদে সোনামনিদের চাই রঙিন পোশাক

ঈদে শিশুদের চাই রঙিন জামা । তাই হরতাল থাকুক, রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকুক শিশুদের চাই রঙিন পোশাক। রামপুরা থেকে মৌচাক মার্কেটে আসা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, হাতে একটু কম টাকা থাকলেও শিশুদের পোশাক কিনে দিতেই হবে। কারণ ঈদের দিনে নতুন জামা পরে ছেলেমেয়েরা ঘুরে বেরাবে দেখলেই ভালো লাগে। এরকম আনন্দ আমরাও ছেলেবেলায় উপভোগ করেছি। শিশুদের রঙিন জামা পরে ঈদে ঘুরে বেরানো বড়দের আনন্দ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। সেই আনন্দকে পুঁজি করে নগরির শপিংমল, মার্কেট আর বুটিক হাউজগুলো সাজিয়ে বসেছে শিশুদের বাহারি পোশাকের পসরা। যেখানে প্রাধান্য পাচ্ছে উজ্জ্বল রঙ আর সুতি কাপর। কারণ এবছর ঈদটা গরমেই হচ্ছে। গতকাল মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে অভিভাবকদের হাত ধরে পোশাক কেনায় ব্যস্ত শিশুরা। শিশুরা এখন আর বড়দের পছন্দমত পোশাক কিনে তৃপ্ত হয় না। তারা পোশাকের বিষয়ে নিজের মতকে প্রাধান্য দেয় বলে জানান বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্স এর ‘টম এন্ড জেরির’ স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম শামিম। কেমন পোশাক চলছে :আগেই বলেছি শিশুরা এখন পোশাক সচেতন। শিশুর পছন্দকে গুরুত্ব দিতেই অন্যান্য বছরের মতো এবারও বিক্রয় প্রতিষ্ঠানগুলো আকর্ষণীয় ও বর্ণিল পোশাক নিয়ে এসেছে। আরামের পাশাপাশি নানা রঙের বর্ণিলছটা পাওয়া যাবে ছোটদের পোশাকে। ‘আড়ং’ এর মার্কেটিং ম্যানেজার আব্দুর রউফ জানান, ফ্লোরাল মোটিফের ফ্রক, নানা নকশার ঘাগরা-চোলি, সালোয়ার-কামিজ রয়েছে মেয়েদের পোশাকের তালিকায়। অন্যান্য পোশাকের মধ্যে থাকছে ঈদের নামাজ পড়ার জন্য পায়জামা-পাঞ্জাবি সেট। নয়াপল্টন পলওয়েল শপিং মলের টার্গেট ফ্যাশনের ফজলুল করিম বলেন, আরও আছে পশ্চিমা স্কার্ট, টপস গেঞ্জিসেট। আর ছেলেদের জন্য রয়েছে মজার মজার সব থিম নিয়ে শার্ট ও টিশার্ট, ফতুয়া, প্যান্ট। প্যান্টের ক্ষেত্রে কেউ কেউ থ্রি কোয়ার্টার প্যান্টকে গুরুত্ব দিচ্ছে হাল ফ্যাশন হিসেবে। সেক্ষেত্রে গেঞ্জির সাথে ছেলে ও মেয়ে উভয় শিশুদের জন্য থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট চলছে এবছর। সুতি কাপড়ের প্রাধান্য : শিশুর পোশাক মানেই উজ্জ্বল রঙের সমারহ বললেন ‘রঙ’ এর প্রধান নির্বাহী এবং ডিজাইনার বিপ্লব সাহা। তিনি আরও বলেন রঙের ক্ষেত্রে এই ঈদে তারা ব্লু, মেজেন্টা, অরেঞ্জ, লাল, মেরুন, লেমনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এবার যেহেতু গরমে ঈদ হচ্ছে সেক্ষেত্রে ম্যাটেরিয়েল হিসেবে সুতি কাপড় প্রাধান্য পাচ্ছে। সুতি ছাড়া কিছু হাতে বোনা কাপড়, অ্যান্ডি, শিফন ও সিল্কের ওপর করা হয়েছে এবারের শিশুপোশাক। ফ্রকের রঙের নকশার সঙ্গে রঙ মিলিয়ে করা হয়েছে লেঙ্গিসগুলো। ফুল, ছাপা, লেইস আর হালকা এমব্রয়ডারি মিলিয়ে সেজে উঠেছে মেয়েদের নানা রকমের পোশাক। ছেলেদের জন্য রয়েছে চেক ও স্ট্রাইপের শার্ট, হুডেড শার্ট, ডেনিম প্যান্ট, জিন্স প্যান্ট ইত্যাদি। বিদেশি পোশাক : নগরির নয়াপল্টন, এলিফ্যান্ট রোড, ধানমন্ডির শপিং মল, বসুন্ধরা সিটি, কর্ণফুলি গার্ডেন সিটি এবং গুলশান, বনানী, উত্তরা প্রভৃতি জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে শিশুদের বিদেশি পোশাক। এলিফ্যান্ট রোডের লোপা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের আব্দুল করিম বলেন, অভিভাবক এবং শিশু উভয়ের বিদেশি পোশাক প্রীতি বেশি। তাই এইসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড় থাকে বেশি। এলিফ্যান্ট রোডে পোশাক কিনতে আসা রিফাত জানায়, অন্য পোশাকের পাশাপাশি তার একসেট ব্যাট ম্যান এর ড্রেস চাই। মা সাবরিনা তা সংগ্রহের জন্য বেরিয়েছেন ছেলেকে নিয়ে। রিফাতের মতো অনেকের এমন পোশাক কেনার আগ্রহ থাকে, আর তা পাওয়া যায় এই সকল দোকানে। দরদাম : কাপড়, ডিজাইন, মোটিভ আর দোকানের অবস্থানের উপর নির্ভর করে শিশুদের পোশাকের দরদাম। সাধারণত ৪শ টাকা থেকে শুরু করে তিন/চার হাজার টাকায় কেনা যাবে শিশুদের রঙিন ঈদের পোশাকগুলো। মেয়েদের সুতির একসেট সালোয়ার-কামিজ পাওয়া যাবে ৬শ থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে। সিল্ক, অ্যান্ডি, শিফন ও সিল্কের মেয়েদের পোশাকের দাম হবে ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। একবছরের নিচে শিশুদের পোশাকের দাম ৩শ’ টাকা থেকে শুরু হয়ে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত হবে। আর ছেলেদের শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি পাওয়া যাবে ৪শ টাকা থেকে ২ হাজার টাকায়। আর একটু কম দামে শিশুর পোশাক কিনতে চাইলে যেতে হবে গুলিস্তান, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, মিরপুরের দোকানগুলোতে। এসব দোকানে ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫/৭শ টাকার মধ্যে শিশুদের নানা রকম পোশাক পাওয়া যাবে।