রাজাকারদের মুক্তি দিয়ে জিয়া জাতির সঙ্গে বেঈমানী করেছেন :ইনু

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, জিয়াউর রহমান সাম্প্রদায়িক শক্তি, জামায়াত ও জঙ্গিদের পুনর্বাসিত করেছেন। পাকিস্তানিরা যদি জামায়াত-রাজাকারদের জন্মদাতা পিতা হয়, তবে জিয়া ছিলেন দ্বিতীয় জন্মের পিতা। আর খালেদা জিয়া এখন রাজাকারদের মাতার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কর্ণেল তাহের আজীবন রাজাকার-আলবদর-আলশামসদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে গেছেন, কিন্তু জেনারেল জিয়াউর রহমানের কাছে আমরা পরাজিত হয়েছিলাম। তিনি বাংলাদেশে একটি স্বৈরশাসন সংঘটিত করেছিলেন এবং তা চাপিয়ে দিয়েছিলেন। গতকাল রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ (টিএসসি) মিলনায়তনে ‘সামরিক আদালতে কর্ণেল তাহের ও অন্যদের গোপন বিচারকে অবৈধ ঘোষণাকারী উচ্চ আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়: ঐতিহাসিক তাত্পর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্ণেল তাহের সংসদ এ সভার আয়োজন করে। তিনি বলেন, জিয়া শুধু ঠাণ্ডা মাথার খুনিই ছিলেন না, তিনি বাঙালি জাতির সাথে বেঈমানি করেছিলেন। কারণ তিনি স্বাধীনতার বিরোধী রাজাকারদের এবং বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মুক্ত করে দিয়েছিলেন। তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, কর্ণেল তাহেরকে মেজর জিয়ার নেতৃত্বে পূর্বপরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছিল। এখন এটি প্রমাণিত হয়েছে। তাহেরের বিচার যে একটা সাজানো নাটক ছিল তা এখন আইনিভাবে প্রতিষ্ঠিত। তথ্যমন্ত্রী বলেন, জিয়া শুধু তাহেরকে হত্যা করেননি, প্রতিপক্ষকে হত্যা করতে ক্যান্টনমেন্টকে কসাইখানায় পরিণত করেছিলেন। তিনি ৫ হাজারের বেশি সেনাকে হত্যা করেন। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, খালেদা জিয়া মাতা হিসাবে শুধু রাজাকারদের পাশেই নেই, নীরবতা পালন করে যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি চাইছেন। বিচার কাজ ঠেকিয়ে দিতে চাইছেন। একাধিকবার দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হয়েও জিয়ার রাজাকারি রাজনীতি তিনি ছাড়তে পারেননি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার হাতে রক্তের দাগ, পিঠে দুর্নীতির ছাপ। তিনি রাজনীতিতে ততদিন অনুপযুক্ত থাকবেন, যতদিন অশ্লীল তেঁতুল তত্ত্বের শফীকে, জামায়াতকে বর্জন না করবেন। শফীর কথার বিরুদ্ধে মুখ না খুলবেন। নইলে দেশবাসীই তাকে প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদকে মোকাবেলা করতে শেষ লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যেই নির্বাচন হবে, জনগণই ফয়সালা করবে, তারা রক্তাক্ত জনপদ পাকিস্তান, আফগানিস্তান নাকি গণতন্ত্রের পথে হাঁটবে। কর্ণেল তাহের সংসদের সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো বলেন, কর্ণেল তাহেরকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হয়েছিল। তাহেরের বিচার যে একটা সাজানো নাটক ছিল তা এখন আইনিভাবে প্রতিষ্ঠিত। ক্ষুদিরাম, সূর্যসেনের মতো ইতিহাস কর্নেল তাহেরকেও চিরকাল মনে রাখবে। যারা তাহেরকে খুন করেছিল তারা পাকিস্তানি প্রেতাত্মা ভিন্ন অন্যকিছু ছিল না। তাহের চেয়েছিলেন নতুন ধরনের সেনাবাহিনী গড়ে তোলার জন্য। কর্ণেল তাহের ছিলেন প্রগতির ধারক, প্রতিক্রিয়াশীল জিয়াউর রহমান তাই তাকে বাঁচিয়ে রাখেনি। রনো বলেন, সামরিক আদালত কখনো বৈধ আদালত হতে পারে না। সামরিক আদালত একটি জঙ্গি আদালত। গোপন বিচার কোনদিন বিচার হতে পারে না। জিয়াউর রহমান তাহেরকে হত্যা করেছিলেন পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের ফিরিয়ে আনার জন্য। তাদের এই অপচেষ্টা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। সরকারের প্রতি আহ্বান রইলো-দ্রুত জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ করা হোক, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক আর যাদের লঘু শাস্তি হয়েছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও তাহের সংসদের সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন সভাপতির বক্তব্যে বলেন, পাঁচ সিটিতে নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি ভাবছে তারা আবারো ক্ষমতায় আসছে, তাদের জন্য ক্ষমতা চিরস্থায়ী। তারা ভুল করছে। ভুলে গেছে, দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে দেশের আদালত খুনি ও বিশ্বাসঘাতক হিসাবে ঘোষণা করেছে। সংসদ ভবন এলাকায় জিয়ার কবরও থাকবে না। এই বাংলাদেশে তার জায়গা হবে না। তিনি নিশ্চিহ্ন হবেনই। তিনি বলেন, দেশে জামায়াত, হেফাজত ও বিএনপি ক্ষমতায় চলে আসবে সেটি হবে না। জনগণ তা হতে দেবে না। সেনাবাহিনী তা হতে দেবে না। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাসদের স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য শিরিন আক্তার, ডাকসুর সাবেক ভিপি ডা. মুসতাক আহমেদ, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা.ইমরান এইচ সরকার প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন কর্ণেল তাহেরের সহধর্মিণী লুত্ফা তাহেরসহ পরিবারের সদস্যরা। সভায় কর্ণেল তাহেরকে নিয়ে পুনর্নির্মিত ওয়েবসাইট www.col-taher.com/www.col-taher.org উদ্বোধন করা হয় এবং শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।