মোবারক মাহে রমজান

আজ ১২ রমজান। প্রতি বছর এই রমজান দিয়ে আল্লাহ রাববুল আলামীন ঈমানদারগণকে নিষ্পাপ, নিষ্কলুষ করতে চান। উন্নত চরিত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে চান। অসত্য ও ভ্রষ্টতার সব অমানিশা ভেদ করে সত্য ও হেদায়েতের আলোর উন্মীলনে উদ্ভাসিত করতে চান। তাকওয়া বা পরহেজগারিতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে চান। যাঁরা হবেন চির শান্তির নিবাস জান্নাতের উপযুক্ত বাসিন্দা; রাইয়ান নামক দরজার যোগ্য উত্তরাধিকারী। পৃথিবীর জীবনের চেয়ে পরকালের জীবনকে তাঁরা প্রাধান্য দেবেন। তাদের প্রতিটি কাজ প্রতিটি মুহূর্ত অতিবাহিত হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির অভিষ্ট লক্ষ্যে। কুরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা বলেছেন-সেদিন আমি অপরাধীদের সমবেত করবো নীল চক্ষু অবস্থায়। তারা চুপিসারে পরস্পরে বলাবলি করবে, তোমরা মাত্র দশ দিন (পৃথিবীতে) অবস্থান করেছিলে। তারা কি বলে, আমি তা ভালোভাবে জানি। তাদের মধ্যে যে অপেক্ষাকৃত উত্তম পথের অনুসারী সে বলবে, তোমরা মাত্র একদিন (পৃথিবীতে) অবস্থান করেছিলে (সূরা ত্ব-হা-১০২-১০৪)। আবু মাসউদ (রা.)-এর বর্ণনায় নবী করীম (স.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন আদম সন্তান দু’পা (স্বস্থান থেকে) এক কদমও নড়াতে পারবে না। যতোক্ষণ তাকে পাঁচটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা না করা হবে। তা হলো- (১) সে তার পার্থিব জীবন কোন কাজে অতিবাহিত করেছে? (২) যৌবনের শক্তি সামর্থ্য কোন কাজে ব্যয় করেছে? (৩) ধন-সম্পদ কোথা থেকে কোন পথে উপার্জন করেছে? (৪) কোথায় কোন কাজে তা ব্যয় করেছে? (৫) সে দ্বীনের (ধর্মের) জ্ঞান যতটুকু অর্জন করেছে সে অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছে? (তিরমিযী)। আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (স.)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, বিচার দিবসে পরিণাম কেমন হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন ‘‘যেদিন মানুষ বিশ্বের প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে” সেদিন কে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে? (কারণ সেদিনের একদিন দুনিয়ার পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান হবে।) রসুলুল্লাহ (স.) বললেন, সে দিন আল্লাহ বিরোধী ও পাপীদের জন্যে খুবই কঠিন ও দীর্ঘ হবে কিন্তু মুমিনদের জন্যে সে দিনটি হবে খুবই হালকা, যা (একটি) ফরজ নামাজ আদায় করারই মতো (মেশকাত)। রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, আমি ‘‘হাউজে কাওসার”-এর পাড়ে (পানির ঝর্ণার ধারে) তোমাদের আগেই পৌঁছে যাবো। অতঃপর যে আমার কাছে আসবে তাকে পানি পান করানো হবে এবং যে একবার সে পানি পান করবে তার আর কোনোদিন পিপাসা লাগবে না। সেদিন এমন অনেক মানুষ আমার দিকে এগিয়ে আসবে তাদেরকে আমি চিনবো এবং তারাও আমাকে চিনবে। কিন্তু তাদেরকে আমার কাছে আসতে দেয়া হবে না। আমি (ফেরেশতাদের) বলবো, তারাতো আমার লোক (আসতে দাও)। উত্তরে বলা হবে, আপনি জানেন না আপনার পরে তারা আপনার দ্বীনের (শরীয়তের) মধ্যে কতো বিদয়াত (বা নতুন প্রথা) যোগ করেছে। অতঃপর আমি বলবো, ‘দূরে যাক’ ওসব লোক যারা আমার পরে দ্বীনের মধ্যে বিদয়াত বা নতুন বিধান ঢুকিয়েছে (বুখারী-মুসলিম)। সুতরাং দুনিয়ার জীবন সীমাহীন নয়। যে কোন মুহূর্তে এই জীবনের পরিসমাপ্তি সূচিত হতে পারে। পরবর্তী সময়ে গোনাহ মাফের এমন অবাধ সুযোগ আর জীবনে কখনো আসবে কি-না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই সেই অনন্ত জীবনের চিরন্তন শান্তির প্রত্যাশায় আজ থেকেই আমরা সকল অন্ধকারাচ্ছন্ন বাঁকা পথ পরিহার করে আলোকিত সহজ-সরল-সোজা পথে নিজেদেরকে পরিচালিত করতে সচেষ্ট হই। আল্লাহ আমাদেরকে সেই তাওফীক দান করুন, আমীন। ই-মেইল: mzhazadi@yahoo.com