চাপে আছেন আল্লামা শফী

গত ৫ মের অবরোধরোধ কর্মসূচি, শাপলা চত্বরে অবস্থান ও সম্প্রতি ইন্টারনেটে প্রকাশ হওয়া নিজের একটি ভিডিও নিয়ে বেশ চাপে আছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী। তাকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তার চলাফেরার ওপর আরোপ করা হয়েছে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা। এ কারণে তিনি হেফাজতের প্রধান কার্যালয় হাটহাজারি বড় মাদ্রাসা ছাড়া বাইরের কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারছেন না বলে সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হেফাজত নেতা বলেন, নানাভাবে শফীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। গত ৫ মে’র ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির পর শফীকে তার মাদ্রাসার বাইরে যেতে দেয়া হচ্ছে না। এমনকি ওমরাহ পালন করতে তাকে সৌদি আরব যেতে দেয়া হবে কিনা তা নিয়েও সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। সৌদি যাওয়ার আগে বাবুনগরীকে দেখতে একদিন তিনি ঘন্টাখানেকের জন্য নগরীর একটি ক্লিনিকে যান। এর বাইরে গত আড়াই মাসে তাকে তেমন কোনো অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। গত শনিবার হাটহাজারী উপজেলার মীরের হাট এলাকায় হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিল তার। কিন্তু আসর নামাজের পর হঠাত্ তিনি ওই অনুষ্ঠানে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন। আয়োজকরা অনীহার কারণ জানতে চাইলে শফী কোনো উত্তর দেননি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, শফীকে সভা সমাবেশে যোগ দেয়ার সুযোগ দিলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ফের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে তার কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ আছে। তবে কোনো ধরনের চাপ করা হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন। এদিকে নারীদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে হেফাজতে ইসলামকে জড়িয়ে একটি মহল দেশে নেতিবাচক প্রচারণা শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আহমদ শফী। তাকে উদ্ধৃত করে গতকাল তার প্রেস সচিব মাওলানা মুনীর আহমেদ বলেন, হেফাজতের ১৩ দফা দাবির মধ্যে নারীর মর্যাদা, ইজ্জত আব্রু রক্ষা ও সম্মানজনক উপায়ে জীবিকা নির্বাহের বিষয়ে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ রয়েছে। শফী আরও বলেন, ইসলাম নারীদেরকে কষ্টসাধ্য কাজের দায়িত্ব দিতে চায় না। শ্রমনির্ভর ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ব্যাপারে নারীদেরকে নিরুত্সাহিত করা হয়েছে। পুরুষদেরকে এসব কাজ করতে বলা হয়েছে। অপপ্রচারের অভিযোগ :এদিকে ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, আহমদ শফীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে হেফাজতের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। গতকাল রবিবার রাজধানীর গুলশান বারিধারায় জামিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে ইফতার মাহফিলে নেতৃবৃন্দ একথা বলেন। তারা বলেন, রমজানে সরকারি দলের নেতৃবৃন্দ এবং বুদ্ধিজীবীরা যে ভাষায় কথা বলছেন, তার প্রতিবাদ জানানোর কোন ভাষা আমরা খুঁজে পাচ্ছি না ।