ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনসহ ১৬ আসামি হাইকোর্টে খালাস
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৩, ২৩:১৮
প্রায় দশ বছর আগে বগুড়ার ধুনট উপজেলার বড় চাপড়া গ্রামের আবদুল বাকী ও তার দুই পুত্রের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জন এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৪ আসামিকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণ (ডেথ রেফারেন্স) এবং আসামিদের জেল আপিলের শুনানি শেষে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি ইমদাদুল হক আজাদকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ রায় দেন।
ধুনট (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ২০০৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে খুন হন বগুড়ার ধুনট উপজেলার বড়চাপড়া গ্রামের আব্দুল বাকী এবং তার দুই ছেলে ইয়াছিন ও আব্দুল আজিজ। এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় নিহত আবদুল বাকীর ভাই আবদুল কাফী ওইদিন ভোরে বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে ধুনট থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০০৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৪০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করে পুলিশ। এ মামলায় বিচার শেষে ২০০৭ সালের ৬ নভেম্বর রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ১২ জনকে ফাঁসি ও চারজনকে যাবজ্জীবন দণ্ড প্রদান করেন। নিম্ন আদালত যে ১২ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন তারা হলেন আব্দুর রশিদ, সাইফুল ইসলাম, খত জামাল, ফারায়েজুল, নিপুন, গণি, বাসেত, লাল মিয়া, অফফার আলী, শফিকুল, আশরাফ আলী মালেক ও বাচ্চু। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন জাহিদুল, ওয়াজেদুল, সফের ও মহসীন। এছাড়া অপর ২৪ জন আসামিকে খালাস দেয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ২০০৭ সালে জেল আপিল করেন আসামিরা। পাশাপাশি নিম্ন আদালত থেকে ফাঁসির রায় অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) হাইকোর্টে আসে। উভয় আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট গতকাল এ রায় ঘোষণা করে।
আদালতে আসামিদের পক্ষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও ব্যারিস্টার আনোয়ারুল ইসলাম শাহীন ও রাষ্ট্রপক্ষে সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিনুর রহমান চৌধুরী শুনানি করেন।
রায়ের পর ব্যারিস্টার আনোয়ারুল ইসলাম শাহীন সাংবাদিকদের বলেন, এ মামলায় নিহত আবদুল আজিজ মারা যাবার আগে কয়েকজন আসামির নাম উল্লেখ করে বক্তব্য দিয়ে (ডায়েং ডিক্লারেশন) যান। তাতে যেসব আসামির নাম বলা হয়েছে নিম্ন আদালত তাদের সকলকেই খালাস দিয়েছেন। এছাড়া ৫ জন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আছে। নির্যাতন করে তাদের কাছ থেকে জবানবন্দি আদায় করা হয়। তিনি বলেন, এ মামলায় নিহত পরিবারের প্রতিবেশী কাউকে সাক্ষী করা হয়নি। এসব ত্রুটিসহ আরো বেশ কিছু ত্রুটি বিচার বিশ্লেষণ করে হাইকোর্ট আসামিদের খালাস দিয়েছেন।