কাদের মোল্লাতে প্রযোজ্য হবে না :টিএইচ খান \ প্রযোজ্য হবে :রোকন
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৩, ২৩:১৯
যে কোন রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের সুযোগ দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে আনীত সর্বশেষ সংশোধনী জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি-না এ প্রশ্নে পৃথক মত দিয়েছেন দুই অ্যামিকাসকিউরি।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রবীণ আইনজীবী টিএইচ খান বলেছেন, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গত ৫ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করে। এরপর তার মৃত্যুদণ্ড চেয়ে শাহবাগে আন্দোলন শুরু হয়। যে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল আইনে সংশোধন এনে যে কোন দণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারকে আপিল দায়েরের সুযোগ দেয়া হয়; কিন্তু এর আগেই কাদের মোল্লার মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়ে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ সংশোধনী প্রয়োগের সুযোগ নেই। অপরদিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ বলেন, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের যে কোন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা রয়েছে। কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে এই সময়সীমার মধ্যেই আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। এ কারণে এ সংশোধন তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ শুনানি গ্রহণ করে।
অসুস্থতার কারণে গতকাল আদালতে আসতে পারেননি টিএইচ খান। তবে তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট ফয়সাল এইচ খান। লিখিত বক্তব্যে টিএইচ খান বলেন, আদালত দুইটি প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে। একটি হচ্ছে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস আইনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন প্রযোজ্য হবে কি-না শুধু ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ এর মধ্যে এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া কঠিন। তবে এটা প্রতিষ্ঠিত নীতি যে, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে বিভেদ দেখা দিলে দেশীয় আইনই প্রাধান্য পাবে। সাধারণত দেশীয় আদালত দেশীয় আইন অনুসরণ করে; কিন্তু যেসব ক্ষেত্রে দেশীয় আইন পূর্ণাঙ্গ নয়, অস্পষ্টতা রয়েছে সেসব ক্ষেত্রে দেশীয় আদালত আন্তর্জাতিক অঙ্গনের মীমাংসিত সিদ্ধান্ত অনুসরণ করবে। তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের’ কোন সংজ্ঞা নেই। বাংলাদেশের অন্য কোন আইনেও এ অপরাধ সংজ্ঞায়িত হয়নি। এ ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল এবং আপিল বিভাগকে প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগ করতে হবে।
ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ১৯৭৩ সালে প্রণীত আইনে প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিফলন রয়েছে। ট্রাইব্যুনালস আইনের সর্বশেষ সংশোধনীকে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেয়া হয়েছে। আমাদের সংবিধানে কোথাও বলা নেই যে, আইনে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেয়া যাবে না। এছাড়া এই আইনটিকে সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ দ্বারা সুরক্ষা দেয়া হয়েছে। এ আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তির কোন মৌলিক অধিকার নেই। অভিযুক্ত ব্যক্তি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন রিটও দায়ের করতে পারেন না।