[ রা জ নী তি ]

ঈদ পরবর্তী রাজনীতির সম্ভাব্য গতিপ্রকৃতি

আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে। বর্তমান ৯ম সংসদেরও মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। সম্ভবত ২৫ অক্টোবর এই সংসদ ভেঙে দেয়া হতে পারে। আগামী ২৫ জানুয়ারি ২০১৪-এর মধ্যে দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচনে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করবে তারাই সরকার গঠন করবে। এটি হচ্ছে সংবিধান নির্দেশিত পথ। সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধানের এই ধারা অনুসরণ করবে এটিই প্রত্যাশিত। অতীতে সরকারে যারা ছিল তারা তা মানেনি, ক্ষমতায় থেকে কারচুপির নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করতে তাদের কোনো লজ্জা-শরম ছিল না। কোটি কোটি মানুষকে প্রতারিত করে তারা যেকোনো উপায়ে ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিল। ফলে মানুষ এক সময় গোটা নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়েছিল। যথেষ্ট আন্দোলন করেছিল তাতে অসংখ্য মানুষের প্রাণ গেছে, সংঘাত-সংঘর্ষে জানমাল ও সম্পদের হানি হয়েছে। এরপর ১৯৯১ সালে সকল পক্ষের সমঝোতার ফলে দেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেটিকে অনেকটাই অবাধ বলা হয়েছে। তবে জাল ভোট কারসাজি, জোরজবরদস্তি হয়নি। এমনটি বলা যাবে না। তারপরও মন্দের ভালো নির্বাচন দিয়ে বাংলাদেশ এক ধরনের যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু এরপরের অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখের হয়নি। বলতে দ্বিধা নেই, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি আন্দোলনকারী দলই ক্ষমতায় বসার পর অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনীহা দেখায়। বরিশাল, ঢাকা-মিরপুর, মাগুরাসহ বিভিন্ন পৌর ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারি দল আগের মূর্তিতেই আবির্ভূত হয়। ফলে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিশ্বাসে বড় ধরনের চিড় ধরে। সেখান থেকেই ১৯৯০-৯১ সালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ধাঁচের একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ধারণা জন্ম নেয়। এ নিয়ে আন্দোলন এবং সংসদ থেকে পদত্যাগ করে বিরোধী দলীয় সমস্যগণ। তারপরও সরকার ১৫ ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠান করে। কিন্তু জনমত সম্পূর্ণরূপে বিপক্ষে চলে যাওয়ায় অসহযোগ আন্দোলন শুরু হওয়ায় সরকার বাধ্য হয় অবৈধ সংসদে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল’ উত্থাপন ও পাস করার। বিলুপ্ত হয়ে যায় একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সবচাইতে সংক্ষিপ্ত সংসদ এবং সরকার। যাত্রা শুরু হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পথ চলা। প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারকেই বড় ধরনের ধাক্কা খেতে হয়। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টার মধ্যে এক ধরনের দূরত্ব সৃষ্টি হয়, প্রধান উপদেষ্টার প্রজ্ঞা সেই সংঘাত থেকে দেশকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়ীরা খুশি, পরাজিতরা অখুশি হয়। ২০০১ সালে ২য় তত্ত্বাবধায়ক দায়িত্ব নিলেন নির্বাচিত সরকারের হাত থেকে। কোনো সমস্যা করা হয়নি। ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে নিজেদের হাতের মুঠোয় রেখে সদ্য বিদায়ী সরকার একটা ‘ইলেকশান ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে এগুচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠে। রাষ্ট্রপতিকে একের ভেতর দুইয়ের আসনে বসানো হলো। গোটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে খেলো করে ফেলা হলো। শেষ পর্যন্ত ৪ জন সদস্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে পদত্যাগ করে চলে যান, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা বিরোধীদের মতামতের তোয়াক্কা না করে ৪ জন উপদেষ্টা কোত্থেকে ধরে এনে বসালেন তা কেউ বলতে পারেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এমন বিবর্ণ ও অসহায় রূপ এতো অল্প সময়ে দেশে দেখা হবে তা কেউ ভাবতে পারেনি। এর পরও একদলীয় নির্বাচনের পথে সরকার ও নির্বাচন কমিশন হাঁটলো, দেশ হাঁটেনি। অবরোধ, হরতাল, সংঘাত-সংঘর্ষ ও নির্বাচন কমিশনের জালিয়াতির নির্বাচন, প্রার্থীদের একে একে বিজয় ঘোষণা করা হয়েছিল। এসবই ২০০৭ সালের জানুয়ারির প্রথম দিকের ঘটনা। এ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। তা থেকে ১/১১ এর মতো পরিবর্তন ঘটে। জনসমর্থিত হলেও এর নেপথ্যের সংঘটকগণ বিভ্রান্ত ছিলেন। তারা নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠিত করে স্বাধীনভাবে একে কাজ করতে দিলেন। এটি তাদের সঠিক উদ্যোগ। কিন্তু সরকার ও রাজনীতি নিয়ে তারা ছিলেন দ্বৈতচারী। এক দিকে নতুন পার্টির জন্মদান, সংস্কারের নামে প্রধান দুই দলকে ভাঙ্গা, নেতৃবৃন্দকে দুই নেত্রী থেকে আলাদা করা যা মাইনাস ট্যু থিওরি নামে পরিচিত ছিল, আবার ক্ষমতায় বসা না বসা নিয়েও তারা ছিলেন দ্বিধাগ্রস্ত। এক বছর যেতে না যেতে সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টাকে ‘পত্রপাঠে বিদায় নিতে হয়। আসলে উটের জকি হলে যা হবার তাই হয়েছিল। তবে ততোদিনে দেশি-বিদেশি নানা চাপে সরকারের পেছনের শক্তি পিছু হটতে বাধ্য হয়। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের কৃতিত্ব নিয়ে বিদায় নেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে ২০০৮ সালের আগস্ট থেকে নির্বাচনের মহড়া হিসেবে প্রথম ৪ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, অবশেষে ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়। বলা চলে এ ক্ষেত্রে ঐ সরকার সফল হয়েছিল। বিশেষত উটের পিঠে চড়া প্রধান জকি ড. ফখরুদ্দীন আহম্মদ ঐ আসন থেকে নেমে যাওয়ার জন্যে অনড় ছিলেন, তার উপদেষ্টা পরিষদও অনেকটা তাই ছিলেন। নির্বাচন কমিশনটি ছিল বেশ দক্ষ এবং অভিজ্ঞ। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের একটি ভিত্তি দাঁড় করাতে সফল হলেন—যা নানা সংকট, বিপর্যয় ও দুর্যোগের মধ্যেও জাতীয় জীবনে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। দুর্ভাগ্যজনক সত্য হলো, আগের কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকারই নির্বাচন কমিশনকে সেভাবে ঢেলে সাজাতে উদ্যোগ নেয়নি। নিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এমন সব বিপর্যয়কর পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেশকে করতে হতো না। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থায় গত ৭ বছরের ধারাবাহিক অবস্থাকে আরো শক্তিশালী, আরো ত্রুটিমুক্ত, স্বাধীন এবং প্রকৃত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে বিরোধী দলগুলো একবারও দাবি করেনি। তবে সরকার কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ করেনি এটি উল্লেখ করার মতো বিষয়। বিগত বছরগুলোতে নির্বাচন কমিশন একটি বিশ্বাসযোগ্য অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে, আরো যাওয়ার সম্ভাবনা হয়তো এর ছিল। তবে তা বাস্তবায়নে কোনো পক্ষই অগ্রসর হয়নি। এরি মধ্যে সরকার সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তুলে দিয়েছে। বিরোধী দল এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার এবং বিরোধী দল ঐকমত্যের ভিত্তিতে তা করতে পারতো কী? পারাটাই যুক্তিসঙ্গত ছিল। কিন্তু পারেনি। কেন পারেনি তার উত্তর সরকারের এক ধরনের, বিরোধী দলের অন্যরকম হবে। এখানে কারো অবস্থানই যুক্তি বা বাস্তবতা অনুযায়ী হবে না। বিরোধী দল জানে, বাংলাদেশে এখন আর কারচুপির নির্বাচন করা কোনো সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয়। তারপরও বিরোধী দলের পক্ষে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ইস্যু হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি ধরে রাখা রাজনৈতিকভাবে বেশ লাভজনক। এখানে জনমনে এক ধরনের ধারণা তৈরি করা সম্ভব যে, সরকার অতীতের মতো একদলীয় নির্বাচন করতেই সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা তুলে দিয়েছে। জনমনোস্তত্ত্বে বিষয়টি গত ২ বছর সেভাবেই অবস্থান করছে। এ ক্ষেত্রে সরকার এবং সরকারি দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিরোধী দল লাভবান হয়েছে। সরকার হয়তো আদৌ কোনো কারচুপির নির্বাচনের কথা ভাবছে না। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ পুরাতন ধ্যান-ধারণা ও অভিজ্ঞতা থেকে বের হতে পারছে না। জনগণকে এমন বিশ্বাস থেকে বের করতে না পারাটি সরকার এবং আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা। এর ফল পাওয়া গেছে ৫ সিটিসহ সাম্প্রতিককালে অনুষ্ঠিত সকল নির্বাচনে। জনগণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, অথচ মনে মনে ভেবেছে সরকার বোধ হয় ফলাফল উল্টে দেবে। এমন ভোটারের সংখ্যা খুব কম নয়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরেও একই রকমের সন্দেহ সরকার সম্পর্কে। এই সন্দেহ থেকে সরকারের বিরুদ্ধে ভোট পড়ছে, বিরোধী দল লাভবান হচ্ছে। এরপরও সরকার অনড় তত্ত্বাবধায়কবিহীন, দলীয় সরকারের অধীন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার। বস্তুত, বাংলাদেশের বেশির ভাগ ভোটার আদৌ মানসিকভাবে প্রস্তুত কিনা দলীয় সরকারের অধীন কোনো নির্বাচনে ভোটদান বা ফলাফল দেখার জন্য তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুর্বলতা অনেকের কাছেই স্পষ্ট নয়, বোধগম্যও নয়, আবার দলীয় সরকারের অধীন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন তাদের কাছে এখনো বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে না। ফলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্নে তারা বর্তমান সরকারের ভূমিকাকে ভীষণভাবে সন্দেহের চোখে দেখছে। এখান থেকেই ভোট প্রদানে তাদের ভোট বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে গেছে, আগামীতেও যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন একটি উভয় সংকটে আছে সরকারি দল, আবার সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বর্তমান ১৮ দলীয়ে বিরোধী জোট। সে কারণে তারা তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুটি মোটেও হাতছাড়া করতে চাইছে না এটি নিয়ে তারা সরকারের মেয়াদ শেষ করাতে সক্ষম হলে তাদের ধারণা জনমত বিরোধী দলের পক্ষে আরো বেশি সংঘবদ্ধ হবে, তা থেকে তারা সরকার বিরোধী বড় ধরনের কোনো আন্দোলন দাঁড় করাতে সক্ষম হবে। সেটিই ফুটে উঠছে বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দের বক্তৃতায়। বিরোধী দল সরকারের শেষ মুহূর্তে একটি গণবিদ্রোহ সংঘটিত করতে চায়। সেই বিদ্রোহের মূল ইস্যু হবে তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা যা সরকার না মানলে জনমত বিরোধী দলের পক্ষে যাবে, মানলে সরকারের রাজনৈতিক পরাজয় ঘটবে। দুইভাবেই বিরোধী দল লাভবান হবে বলে বিরোধী দল ধারণা করছে। এ থেকেই ঈদের পর বিএনপি তথা ১৮ দল তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে একটি সর্বাত্মক আন্দোলনের চেষ্টা করবে। সে ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াত এবং হেফাজতের কর্মীবাহিনী সম্মিলিতভাবে রাস্তায় অবরোধসহ সহিংস তাণ্ডব চালাতে পারে, দেশ অচল করে দিতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংঘাত সংঘর্ষ থেকে লাভবানও হবে বিরোধী দল। এর প্রমাণ ৫ সিটি কর্পোরেশন থেকেই পাওয়া যায়। সরকার থেকে বলা হচ্ছে যে, তাদের কর্মীবাহিনী ঈদের পরে মাঠে নামবে। সেটা কতোটা সম্ভব হবে, হলে তার পরিণতি কী হবে তা বেশ দুশ্চিন্তার বিষয় সরকার সে ধরনে পরিস্থিতি সৃষ্টিতে আদৌ যাবে কিনা, যাওয়া উচিত হবে কিনা— গভীরভাবে ভাববার বিষয়। তবে ট্রাইব্যুনালের রায়ের কারণে জামায়াত শিবির সরকারের বিরুদ্ধে মরণ কামড় দিতে চেষ্টা করবে।সেটি তাদের পক্ষে সহজ হবে যদি বিএনপি ও হেফাজতের কর্মীরা তাদের সঙ্গে মাঠে থাকে। তেমন সুযোগ সরকার তাদের দেবে কিনা, দেয়া উচিত হবে কিনা তাও ভেবে দেখা দরকার। বর্তমান সরকার গণতন্ত্রের যে আদর্শিক জায়গা থেকে দেশকে নিয়ে ভাবছে বলে মনে হচ্ছে বাস্তবতা সেখানে পৌঁছাতে এখনো যথেষ্ট বাকি আছে। তার নজির বিভিন্ন নির্বাচনে খুঁজলে পাওয়া যাবে। তবে এমন একটি জটিল পরিস্থিতিতে দেশে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে বড় ধরনের কোনো সংঘাত সৃষ্টি গণতন্ত্রকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। কেননা, যারা এমন ইস্যুতে সংগঠিত হচ্ছে তাদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরে আসার সঙ্গে এবার ২০০১-এর চাইতেও ভয়াবহ বিপর্যয়কর পরিস্থিতি দেশে সৃষ্টি হতে পারে, এমনটি পূর্বাভাষ পাওয়া যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক শক্তির রাজনীতিকে বাংলাদেশে ১৯৭৫-এর পরবর্তী সময়ে যেভাবে কঠিন ও জটিল করা হয়েছিল যা অতিক্রম করতে ২১ বছর লেগেছিল বলে বলা হচ্ছে, ভবিষ্যতে তা আরো সংকটময়পূর্ণ করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুতরাং, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে আগামী কয়েক মাসের রাজনৈতিক রোডম্যাপ যথাযথভাবে বুঝে শুনেই তৈরি করতে হবে, ঈদের পরবর্তী সংঘাতকে পরিহার করে একটি কম বিতর্কিত অবস্থায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনে যাওয়ার কথা ভাবতে হবে, ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সময়টা সরকারের কিছুটা অনুকূলে, সবটা নয়। সরকারকে বাস্তবোচিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংঘাতে ১৮ দলের লাভ বেশি হবে, সরকার, আওয়ামী লীগ, ১৪ দল বা মহাজোটের রাজনীতি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ভবিষ্যত্ নির্বাচন ব্যবস্থা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার জন্যে একটি দীর্ঘ ও স্থায়ী সমাধানে উপনীত হতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। লেখক :অধ্যাপক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক