লোকজ নকশা ও ঐতিহ্যের ধারায় দেশীয় পোশাক
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৩, ২১:৫৭
চারদিকে যখন বিদেশি পণ্যের ছড়াছড়ি, তখন রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটের কয়েকজন আশাবাদী তরুণ বাজারে আনেন লোকজ নকশা-নির্ভর দেশি পোশাক। এ মার্কেটের পোশাকের একটি নিজস্ব ধারা ও বৈশিষ্ট্য ক্রেতারা এখন জানেন। বাংলার লোকজ সংস্কৃতির ঐতিহ্য দেশীয় পোশাকে ধারণ করেছে আজিজ সুপার মার্কেট। এই মার্কেটের দোকানগুলো প্রমাণ দেয় যে—পোশাকেও দেশিয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অনুুপ্রেরণায় নকশা করা যায়। এ কারণে যারা এ মার্কেটে পোশাক কিনতে আসেন, তারা আগেই ঠিক করে আসেন—কী ধরনের পোশাক কিনবেন।
দেশি পণ্য বাজারজাত করে সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট। তাদের নিজেদের নকশা, রং, বুটিক, বাটিক, তাঁত সবকিছুর সংমিশ্রণে তৈরি হচ্ছে দেশিয় পণ্য। দেশকে ভালোবেসে দেশি পণ্য কিনতে যারা আগ্রহী তারা অনায়াসে চলে আসতে পারেন আজিজ সুপার মার্কেটে। তাইতো তরুণ-তরুণীদের পছন্দের প্রথম সারিতে রয়েছে আজিজ মার্কেটের দেশিয় পোশাক। মার্কেটের সবগুলো তলা গতকাল সোমবার ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সম্মিলনে জমে উঠছে ঈদের পোশাকের বাজার। এই মার্কেটের ক্রেতাদের বেশিরভাগই তরুণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী।
উত্সবপ্রিয় বাঙালির বিভিন্ন পার্বনকে ঘিরে এই মার্কেটটি সাজে বিভিন্ন রূপে। বাঙালির উত্সব পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বন্ধু দিবস, মা দিবস, বিজয় দিবস কিংবা স্বাধীনতা দিবসে আজিজ মার্কেটের দোকানগুলো বিশেষ আয়োজন করে। এবার ঈদকে ঘিরে পাওয়া যাচ্ছে পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শর্ট-শার্ট, টি-শার্ট, দেশি জিন্স প্যান্ট, শাল, উত্তরীয়, শাড়ি, ফতুয়া, সালোয়ার কামিজ, সিঙ্গেল কামিজ, ওড়না, লং কামিজ ইত্যাদি। আছে শিশুদের শার্ট, টি-শার্ট, ফতুয়া ও পাঞ্জাবি। আরো আছে সাইড ব্যাগ, মেয়েদের মাটির গহনা, পিতল ও পুঁতির গহনা।
এই মার্কেটের বেশিরভাগ দোকানের নামকরণও করা হয়েছে বাংলায়। বাংলা অভিধানের নান্দনিক শব্দে দোকানগুলো সাজানো। যেমন—বুনো, ব্যতিক্রম, বাঙ্গালিয়ানা, রূপকথা, বাঁশিওয়ালা, দেশাল, মাটিয়াল, গাঁওগেরাম, মেঠোপথ, নিত্যউপহার, কাশবন, মেঘ, ধানশালিক, রঙিন ফুল, শালমহুয়া, স্বপ্নবাজ, আরশি, ক্যানভাস, কারখানা, ফেরিঅলা, কাপড়ি-ই-বাংলা, বিসর্গ, ঘাসফুল, দেশীয়া, তারা মার্কা, পংক্তি, ইহ, নন্দন কুটির, সুইসুতা, কৃষকলি, সৌম্য, লাল-সাদা-নীল-হলুদ ইত্যাদি।
পংক্তির স্বত্বাধিকারী তরুণ ব্যবসায়ী আলআমিন বলেন, ঈদ বাজার এই মুহূর্তে মন্দা গেলেও আমরা আশা করছি আজ অথবা আগামীকাল থেকেই পুরোদমে ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়ে যাবে। ঈদকে ঘিরে আমাদের হাউজের দুইশ-র উপরে ডিজাইন এসেছে। এর মধ্যে শাড়ির ২০টি, টপসের ডিজাইন ৩০টির মতো করা হয়েছে। তিনি জানান, পংক্তি উত্সবের উজ্জ্বল রংগুলোকেই প্রাধান্য দিয়েছে। যেমন লাল, নীল, বেগুনি, কমলা ইত্যাদি। আর কাপড়ের মধ্যে সুতি, খাদি, এন্ডি সিল্ক, এন্ডি কটনের পোশাকই বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া শাড়িতে লাল রং বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।
রূপকথার স্বত্বাধিকারী কমল পাল বলেন, এবার গরমে ঈদ হওয়ায় আমরা সাদা-অ্যাশ রংগুলোতে বেশি প্রাধান্য দিয়েছি। তবে উজ্জ্বল সবগুলো রঙের পাঞ্জাবি ও টি-শার্ট পাওয়া যাচ্ছে। তারামার্কা দোকানের ম্যানেজার সোহাগ বলেন, আমরা আশা করছি, খুব শীঘ্রই জমে উঠবে ঈদের বাজার। ঈদকে ঘিরে আমাদের হাউস পাঞ্জাবির ২৫টি নতুন ডিজাইন এনেছে। ২০টির মতো নতুন ডিজাইনের টপস, ২৫টির মতো টিশার্ট এসেছে এবং আরো বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক তৈরি হচ্ছে। এবার ঈদকে ঘিরে সব উজ্জ্বল রংকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। লাল, নীল, কালো তরুণদের পছন্দের রং। যদিও গ্রীষ্মে কালো রংটা যায় না, তারপরেও ছেলেদের এই রংটির ওপর একটা দুর্বলতা কাজ করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৌসুমী, নয়ন ও ইভা শপিং করতে এসেছেন আজিজ সুপার মার্কেটে। তারা বলেন, আমরা নিয়মিত এ মার্কেট থেকে নিজেদের এবং বাড়ির সবার জন্যে পোশাক কিনি। এখানকার পোশাক পরলে আলাদা একটা ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে। নয়ন বলেন, দেশের প্রতি যাদের মনোযোগ একটু বেশি তাদের সবাই এই মার্কেটের পোশাক পরতে পছন্দ করেন। আমি গত তিন বছরে আজিজ মার্কেট ছাড়া অন্য কোন মার্কেটের পোশাক পরেছি বলে মনে পড়ে না।