রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি-নবীনগরের রোজিনার সন্ধান মেলেনি

রানা প্লাজার নিউওয়েভ স্টাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সাতমোড়া ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের কামালউদ্দিনের মেয়ে রোজিনা আক্তারের (আইডি কার্ড ২৫.১) লাশের সন্ধান আদৌ মেলেনি ( সরকারি নিখোঁজ তালিকায় যার নং-৩২০)। সরকারি বা বেসরকারি কোন সাহায্য-সহযোগিতা পায়নি নিহতের পরিবার। একদিকে সন্তান হারানোর ব্যথা অন্যদিকে বেঁচে থাকার লড়াই। স্ত্রী, ৩ ছেলে, ২ মেয়ে নিয়ে ছিল কামালউদ্দিনের পরিবার। রোজিনা সবার বড়। সংসারের সচ্ছলতার জন্য কামাল বিদেশে পাড়ি জমান। সেখানেও ভাগ্য ফেরাতে পারেনি, চলে আসতে হলো দেশে। বড় মেয়ে রোজিনা সংসারের হাল ধরতে চাকরি নেয় রানা প্লাজার ঐ কোম্পানীতে। বাপ মেয়ের সামান্য আয়ে মোটামুটি চলে যাচ্ছিল সংসার, এরই মাঝে বিয়ে হয় রোজিনার কিন্তু কপালে স্বামীর সংসার জুটলো না, গত চার বছর হয় বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তাদের। এরপর রোজিনা নিজের কথা না ভেবে বাবা-মা, ভাই-বোনদের দিকে তাকিয়ে সংসারটিকে আগলে রেখেছিল। রানা প্লাজা কেড়ে নিল তাদের সুখের সংসার। গত আড়াই মাস হতে চললো প্রিয় সন্তানের লাশের জন্য বাবা-মা যেন বিরামহীন ছুটাছুটি করছে। ডিএনএ পরীক্ষাও নেয়া হয়েছে (যার নং-৪২৯)। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের “ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে লাশের সন্ধান মিললে ফোন করে জানাবে” এই আশ্বাস বুকে নিয়ে বাবা কামালউদ্দিন, মা সালমা বেগম পথের দিকে চেয়ে আছে— এই বুঝি মেয়ের লাশের খবর এলো।