চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করছেন জার্গেনসেন

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির কারণে ক্রিকেটারদের একসাথে অনেকদিন ক্যাম্প করানোর সুযোগ খুব কম কোচই পান। এবার অনেকটা সৌভাগ্যক্রমেই এই সুযোগটা পেয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ শেন জার্গেনসেন। আর দীর্ঘসময়ে পরিকল্পনা মতো কাজ করতে পেরে বেশ সন্তুষ্ট এই অস্ট্রেলিয়ান কোচ। এবার পরিকল্পনার চূড়ান্ত বাস্তবায়নের পালা। শ্রীলঙ্কা আর জিম্বাবুয়ে সফরের পর থেকে আর খেলার মধ্যে নেই বাংলাদেশ। তাই গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই মিরপুরে একনিষ্ট অনুশীলনে ব্যস্ত দল। ফিটনেস ক্যাম্প দিয়ে শুরু, আর সর্বশেষ কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়। প্রায় একমাসের প্রস্তুতির পর কোচ এখন প্রস্তুতির চূড়ান্ত রূপায়ন দেখতে পাচ্ছেন, ‘আগামী তিন-চারদিন আমরা চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য মাঠে নামছি। সামনের অক্টোবরে নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশে আসছে। এর আগে আমরা নিজেদেরকে খেলার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে চাই। ক্যাম্পের শুরু থেকেই একটা পরিকল্পনাকে সামনে রেখে আমরা কাজ করেছি। মোটামুটি এর সবটাই আমরা কাজে লাগাতে পেরেছি। এখন একে চূড়ান্ত রূপ দিতে হবে।’ প্রিমিয়ার লিগ এখনও ঝুলে আছে। আগামী অক্টোবরের আগে আন্তর্জাতিক কোন ম্যাচও নেই জাতীয় দলের সামনে। তাই এতো অনুশীলনের পরও এই কমতি থেকে যাচ্ছেই। তবে এই সমস্যাকে খুব বেশি বড় করে দেখতে চাইলেন না কোচ, ‘আর আমরা যে একদমই খেলার মধ্যে নেই এমনটাতো নয়। আমরা নিজেদের মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছি। আর নির্বাচকরা ইংল্যান্ডে এ দলের হয়ে দলের একটা বড় অংশকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেখানে খেলোয়াড়রা ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।’ ক্যাম্পের শুরু দিকে খেলোয়াড়দের কারও কারও ওজন দেখে বোঝারই উপায় ছিল না যে এরা মূলত ক্রিকেটার। তবে, এখন ফিটনেস ফিরে পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। আর তাই নিজের দলকে এখন যথেষ্ট ব্যালান্সড মনে করছেন কোচ জার্গেনসেন, ‘এতোদিন আমাদের চেষ্টা ছিল খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে কাজ করা। অনেকেরই ওজন অনেক বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু তারা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করেছে। মোটামুটি অধিকাংশ খেলোয়াড়েরই আর ফিটনেস নিয়ে খুব একটা সমস্যা নেই। তাই সব মিলিয়ে দলটা অনেক ব্যালান্সড।’ তবে কোচের সাথে সাংবাদিকদের আলোচনাটা আর শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলো না। তাকে কথা বলতে হল প্রিমিয়ার লিগে চলমান সঙ্কট নিয়েও, ‘আসলে এই ব্যাপারটা নিয়ে আমাদের বলার খুব বেশি কিছু নেই। তবে, ঘরোয়া ক্রিকেটটা সব দেশের জন্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর ক্রিকেটের স্বার্থেই সবাইকে একযোগে কাজ করা উচিত্। আর এই ধরনের খেলার সুযোগ যতো বাড়বে আন্তর্জাতিক ম্যাচে দলের পারফরম্যান্সেও সেটার প্রভাব পড়বে।’