‘ইউডিআরএস ফিক্সিংয়ের চেয়েও ভয়ঙ্কর’

সামপ্রতিক সময়ে ক্রিকেট বিশ্বের সমস্যার কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসবে ফিক্সিং আর ইউডিআরএস’। আর এই দুইয়ের মধ্যে ‘ইউডিআরএস-সমস্যা’কেই এগিয়ে রাখছেন সাবেক পাকিস্তানী অধিনায়ক রশিদ লতিফ। এমনকি ‘ইউডিআরএস’ বা ডিসিশন রিভিউ সিস্টেমকে ‘আনাড়ি’ বলেও উল্লেখ করেছেন এই ক্রিকেটার। পদ্ধতিগতভাবে ত্রুটিমুক্ত হয়ে ইউডিআরএস ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) উচিত হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন তিনি। এ সিস্টেমের সমস্যাগুলো সংস্কার না করে এই পদ্ধতির ব্যবহার অব্যাহত রাখলে খেলাটি ক্রমেই ধ্বংস হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেছেন পাকিস্তান দলের সাবেক এই উইকেটরক্ষক। ৩৭টি টেস্ট এবং ১৬৬টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেয়া এই ক্রিকেটার বলেন, তার বিবেচনায় ত্রুটিযুক্ত ইউডিআরএস পদ্ধতি পাতানো ম্যাচের হুমকির চেয়েও বেশি বিপজ্জনক। এটি আইসিসি ও আম্পায়ারদের পৃষ্ঠপোষকতায় ফিক্সিংয়েরই নামান্তর। তাই পুরোপুরিভাবে ত্রুটিমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আইসিসিকে অবিলম্বে এই পদ্ধতির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। লতিফ মন্তব্য করেন, ক্রিকেট বিশ্বের কয়েকটি দেশের পরিচালনা পরিষদ এই পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রচুর সময় নষ্ট করে। ইউডিআরএস পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সময় অপচয় বন্ধে ও আইসিসির পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। আগামীতে পরিপূর্ণভাবে ত্রুটিহীন করে এই পদ্ধতি চালু করার জন্য আইসিসি’র প্রতি অনুরোধ জানান লতিফ। ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মত ধনী দেশগুলোর ক্ষেত্রে সমপ্রচারকদের সহায়তা নিয়ে ইউডিআরএস পদ্ধতির ব্যবহার মেনে নেয়া যায়। তবে ওই মানের পদ্ধতি, বিশেষ করে হক-আই এবং হট স্পট ব্যবহারের যে বিপুল খরচ সেটিও এই পদ্ধতি ব্যবহারে খুব একটা উত্সাহিত করছে না। ট্রেন্টব্রিজে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টে আম্পায়ারদের বিশ্লে¬ষণকে নস্যাত্ করে দেয়ার জন্য আইসিসির এই উদ্যোগের সমালোচনা করেন পাকিস্তানী এই ক্রিকেটার। তিনি বলেন, নিম্নমানের ওই আম্পায়ারিং সিদ্ধান্তটির কারণে অস্ট্রেলীয়দের দমিয়ে না দিলে তারাই ম্যাচটি জিততে পারতো। নির্ভুল তথ্য দিতে না পারলে কখনো এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত নয় বলে মত প্রকাশ করেন রশিদ লতিফ।