শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
পাহাড় আর সাগরের টানে
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০১৩, ১৮:৪৫
শেখার কোন শেষ নেই। মানুষ বিভিন্ন মাধ্যমে শিখতে পারে। সেটা হতে পারে বইপড়ে অথবা বাস্তবে অবলোকন করে। প্রবাদে আছে- শেখার জন্য সুদূর চীন দেশে যাও। মানুষ প্রকৃতির অংশ। তাই প্রকৃতি থেকে মানুষের অনেক কিছু শেখার রয়েছে। যারা প্রকৃতি নিয়ে পড়াশোনা বা গবেষণা করেন তাদের জন্য এটা অপরিহার্য। কারণ তাদের কাজটিই হচ্ছে প্রকৃতির নানান বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান করা। সম্প্রতি এমনি এক ফিল্ট স্টাডিতে কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবান থেকে ঘুরে আসল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। তাদের স্টাডির বিষয় ছিল অবজারভেশন সার্ভে অর্থাত্ স্টাডি এরিয়ার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করা। ভ্রমণের সাথে তাদের উদ্দেশ্য ছিল সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও এর উপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনধারা পর্যবেক্ষণ করা।
প্রথমেই সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসে করে পরদিন দুপুরে পৌঁছাই চট্টগ্রাম। সেখান থেকে পাহাড় ঘেঁষা উঁচু-নিচু রাস্তা দিয়ে পাহাড়িকা পরিবহন বিকালে পৌঁছাল রাঙামাটি। সেখানে এক হোটেলে ওঠে প্রথমদিনে বিশ্রাম আর ঘুমেই কাটলো। পরে দিন সকালের নাস্তা সেরেই কাপ্তাই লেকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা। সারাদিনের জন্য ভাড়া করা হলো বড় একটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার। সারাদিন কাপ্তাই লেক ঘুরে এর আশেপাশের ভূ-প্রকৃতি, মৃত্তিকা ও আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলো সবাই। এছাড়া এখানকার দর্শনীয় স্থান রাজবন বিহার, সুবলং ঝরণা ও ঝুলন্ত ব্রীজ দেখে সবাই অভিভূত হয়েছিল। সারাদিন এখানেই শেষ হয়ে গেল। পরের দিন সবাই বের হলো আশেপাশের চাকমা সম্প্রদায়ের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে কিছু জানান জন্য। সেখানকার বিভিন্ন স্কুল, বাড়ি ও দোকানে গিয়ে লোকজনের সাথে কথা বলে তাদের তথ্য পাওয়া গেল। এর পর দুপুরের খাবার সেরে আড়াইটায় সবাই বাসে চড়ে বসল, উদ্দেশ্য আরেক পার্বত্য জেলা বান্দরবান। এখানকার উঁচু-নিচু রাস্তা থেকে নিচের দিকে তাকালে মাথা ঘুরে যাওয়ার অবস্থা হয়। সন্ধ্যা বান্দরবান পৌঁছে সবাই ক্লান্ত হয়ে ঘুম।
পরের দিন সকালে সবাই গভীর উদগ্রীব নিয়ে চড়ে বসল জীপে। উদ্দেশ্য নীলগিরির পাহাড়। এখান থেকে পাহাড়ে মিশে থাকা মেঘ হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায়। এক সময় সত্যি সবাই সেই কাঙ্ক্ষিত মেঘের একেবারে কাছে চলে আসল। সবাই হাত দিয়ে স্পর্শ করল মেঘ। এখানে নীলগিরি রির্সোটে পাহাড় আর মেঘের খেলা দেখা অনেকক্ষণ ধরে। এখান থেকে হোটেলে ফিরার পথে চিম্বুক পাহাড় শৈলপ্রপাত, স্বর্ণ মন্দির, মেঘলা ও নীলাচল পর্যটন স্পট পরিদর্শন। এখানেই শেষ হয়ে গেল আরেকটি ব্যস্ততম দিন।
পরের দিন গন্তব্য কক্সবাজার। পথিমধ্যে ডুলাহাজারী সাফারী পার্কের বায়োজিওগ্রাফি পর্যবেক্ষণ করে বিকালে সবাই পৌঁছাল কক্সবাজার। হোটেলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে সবাই সমুদ্র সৈকত দেখতে গেল। সেখানে সবাই মিলে পানিতে লাফ-ঝাপ, সৈকতে ফুটবল খেলা এবং সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত পর্যবেক্ষণ করে আবার হোটেলে। রাতে সমুদ্রের গর্জন শুনতে শুনতে আরেকটি দিনের পরিসমাপ্তি।
একটানা ঘুরতে ঘুরতে সবাই মধ্যে একটু ক্লান্তিবোধ এসে গেল। তাই পরেরদিন দুপুর পর্যন্ত সবাই যার যার মত করে সময় কাটাল। দুপুরে সবাই মিলে হিমছড়ি ঝর্ণা। এখান থেকে সবাই পর্যবেক্ষণ করল বিশাল সাগরের জলরাশি। তারপর ইনানী সৈকত। এখানে সাগরের সোর লাইন, সি ওয়েভ ব্রেকিং পর্যবেক্ষণ। যা এতদিন শুধু বইতে ছিল এখন বাস্তবে পর্যবেক্ষণ করল সবাই। এখান থেকে হোটেলে ফিরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লটারির মাধ্যমে পুরস্কার বিতরণ। যে যার মত পারফর্ম করল। এখানেই মূলত ভ্রমণের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়ে গেল।
পরের দিন বার্মিজ মার্কেটে সবাই মিলে কেনাকাটা করলো। বিকালে সিলেটের উদ্দেশ্যে বাসে চেপে বসা। অতঃপর দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে পরের দিন সিলেটে পৌঁছানো। এরি মধ্য দিয়ে শেষ হলো দীর্ঘদিনের শিক্ষা সফল। এর থেকে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভূ-প্রকৃতি সম্পর্কে শেখা হলো অনেক। যা আগামীদিনে সবার জন্য প্রেরণার উত্স হয়ে কাজ করবে। একই সাথে এটি সবার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।