কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
ক্যাম্পাসে
ছাত্র-শিক্ষক
আড্ডা
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০১৩, ১৮:৪৭
শিক্ষকেরা স্বপ্ন দেখেন যে, তাদের শিক্ষার্থীরা এক সময় এই দেশের নেতৃত্ব দেবে, দেশকে নিয়ে যাবে সমৃদ্ধির দিকে। আর শিক্ষার্থীরা যেন সেই স্বপ্নের সাথে জাল বোনে যে, তারা শিক্ষকদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে
‘সর্বময় বিদ্যাশিক্ষার প্রতিষ্ঠানই হলো বিশ্ববিদ্যালয়’ বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে এই পংক্তিটা বাংলা একাডেমীর বাংলা অভিধানে পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বলতে গেলে এর শেষ খুঁজে পাওয়া ভার। বাংলা একাডেমীর ঐ সংজ্ঞার চেয়ে ছোটখাটো সংজ্ঞা হয়তো আর পাওয়া যাবে না। আর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা সে তো আরো বহুদূর। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার জন্য উপকারী। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যকার এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বেশি বেশি দেখা মিলবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় যেন জ্ঞান চাষের একখানি উর্বর জমি। আর তার মাঝে নৃবিজ্ঞান বিভাগ একটা ছোট্ট অংশ। পাখির নীড়ের মত মায়ায় ভরা একখানি আবাস। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের পথচলা ২০০৯-২০১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে। ছোট ছোট পা ফেলে এই বিভাগ চারটি শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের আপন করে নিয়েছে। এটি এখন দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী ও আটজন শিক্ষকের একটা পরিবার। হামিদা আক্তার (শিক্ষা ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন) মোঃ আইনুল হক, শামীমা নাসরিন, এন. এম. রবিউল আউয়াল চৌধুরী, আবদুর রহমান, রাবেয়া খাতুন, মোঃ আজমাইন মোহতাসিম মীর, মোঃ আসাদুজ্জামান এই আটজন শিক্ষকের দক্ষ পরিচালনায় বিভাগটি তার গন্তব্যের দিকে।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের চেয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের হিসেব একটু আলাদা। এই হিসেবটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের হিসেব। এক একজন শিক্ষক বন্ধু না হয়েও শিক্ষার্থীদের কাছে বন্ধুর মত। বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরিবার ছেড়ে এসেও যেন পরিবারের সাথে। শিক্ষার্থীর সাথে শিক্ষকদের এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণ কি এ রকম একটি প্রশ্নকে সামনে রেখে গিয়েছিলাম নৃবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের কাছে, তারা জানায়, এই সাবজেক্টাই নাকি এই রকম। সহজ কথায় মানুষ নিয়ে গবেষণা। আর এই গবেষণা করতে হলে ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্কটা বন্ধুত্বের হওয়া চাই। এই তিন বছরে বিভিন্ন স্থানে মাঠকর্ম গবেষণার কাজে ছাত্র-শিক্ষককে যেতে হয়েছে অনেক জায়গায়, এতে গবেষণার পাশাপাশি সম্পর্কটাও হয়েছে প্রশস্ত। বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এক সাথে অংশগ্রহণ এই সম্পর্কটা আরও কিছুটা এগিয়ে নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে গত তিন বছরে এই বিভাগই আয়োজন করেছে একাধিক সেমিনারের যা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানকে করেছে প্রশমিত। এই সুযোগ কিন্তু অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা সাধারণত পায় না। নৃবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে বলেছিলেন শিক্ষকদের সব ব্যাপারে সাহায্য প্রবণতার কথা।
এই নিয়ে বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী বেলাল হোসাইন বলেন,‘বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নৃবৈজ্ঞানিক কাজ শিক্ষক-ছাত্রের মাঝে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে দিয়েছে।’ ছাত্র-শিক্ষক এই দুই নিয়ে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষক তার অর্জিত জ্ঞান মুক্ত হস্তে তার শিক্ষার্থীকে দান করেন আর শিক্ষার্থী তা পরমানন্দে গ্রহণ করে। শিক্ষক-ছাত্রের মধ্যে সম্পর্কটা বন্ধুত্বের হলে এই দেয়া নেয়ার ব্যাপারটা হয়ে ওঠে পরিপূর্ণ। ‘বিভাগ আমাকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াও অনেক দিয়েছে, এই দেয়াটা পরিমাপের নয়।’ বলছিলেন ৩য় ব্যাচের শিক্ষার্থী সানজিদা জাহান।
বিভাগের শিক্ষক রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক না থাকলে শিক্ষা প্রদান ও গ্রহণ পরিপূর্ণ হয় না।’ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মোঃ আইনুল হক বলেন, ‘বিভাগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডই আমাদের মধ্যে এই রকম সম্পর্ক গড়তে সাহায্য করেছে।’ বিভাগ নিয়ে শিক্ষকেরা স্বপ্ন দেখেন যে, তাদের শিক্ষার্থীরা এক সময় এই দেশের নেতৃত্ব দেবে, দেশকে নিয়ে যাবে সমৃদ্ধির দিকে। আর শিক্ষার্থীরা যেন সেই স্বপ্নের সাথে জাল বোনে যে, তারা শিক্ষকদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে।