অপু তপুর বর্ষবরণ

অপু তপুকে বলল, চল আমরা পহেলা বৈশাখকে বরণ করি। তপু বলল, এমা তোর কী মাথা খারাপ! তুই কী হিন্দু? তুই কী বলছিস। পহেলা বৈশাখকে বরণ করলে কী হিন্দু হয়ে যায়? তুই জানিস না, যখন হিন্দুরা বিয়ে করে শ্বশুর বাড়িতে আসে তখন তাদেরকে বরণ করে নেয় না? অপু বলল, এই বরণ আর সেই বরণ কী এক কথা? ওসব কথা বাদ দে। এখন তো বিকাল, চল বাবা-মাকে নিয়ে বৈশাখী মেলায় যাই। তপু বলল, বৈশাখী মেলা কোথায় বসেছে? অপু বলল, আমাদের স্কুলের মাঠে। তপু বলল, চল বাবা-মার কাছে গিয়ে বৈশাখী মেলায় যাওয়ার কথা বলি। তারা দুজনে গিয়ে বাবা-মাকে তাদের মেলায় নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করল। বাবা-মা তাদের অনুরোধে মেলায় নিয়ে গেলেন। মেলায় গিয়ে অপু তপুর মন খুশিতে ভরে উঠল। মেলায় অনেক মানুষ। মনে হয় হাজার হাজার মানুষের উত্সব। সেই ভিড়ের মধ্যে ঢুকে বাবা তাদের দুজনকে বাঁশি, ঢোল, বেলুনসহ অনেক খেলনা কিনে দিলেন। মাকে কিনে দিলেন এক জোড়া সুন্দর স্যান্ডেল। মাঠের কোণে একটি খাবারের দোকান থেকে তারা মন্ডামিঠাইসহ অনেক কিছু খেল। তারপর তারা বাঁশি, ঢোল বাজিয়ে আনন্দ করতে করতে বাড়ি ফিরে এলো। বাবা তাদেরকে বলল, অনেক আনন্দ করেছ এবার পড়তে বস। অপু তপু পড়তে বসল। এক সময় তপু অপুকে বলল, আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। বৈশাখী মেলায় না গেলে আমি এ ভুল বুঝতে পারতাম না। মেলায় অনেক হিন্দু মুসলিমসহ সকল ধর্মের মানুষ উত্সবের মাধ্যমে বৈশাখকে বরণ করে নিচ্ছে। অপু বলল, ওসব কথা বাদ দে। বাবা বলেছে দুজনের মনে বৈশাখের এ আনন্দ ধরে রাখতে। তপু বলল, আমাদের মনে এখনো এ আনন্দ আছে এবং সব সময়ই থাকবে। তৃতীয় শ্রেণি বরিশাল জিলা স্কুল।