রিমির ভাবনা

রিমির যখন প্রথম সাময়িকী সমাজ পরীক্ষা দেয়া শেষ হল, তখন আকাশ মেঘলা, দোতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ঝুরঝুর করে বৃষ্টিপাত শুরু হল। রিমির বান্ধবী ফারিয়া বলল, ‘এক কাজ কর, ব্যাগকে মাথার কাছে ধরে দৌড়ে চলে যা, কাছেই তোর বাসা। সমস্যা নেই।’ রিমি বলল, ‘যদি ওভাবে যাই, মামনি বাসায় বকবে। তাছাড়া সর্দি-জ্বর তো লাগতেই পারে।’ ফারিয়া বলল, ‘তাহলে অপেক্ষা কর! যেভাবে বৃষ্টি পড়া বাড়ছে, তুই তোর মাকে আসতে বল, তোর মা ছাতা নিয়ে এলে চলে যাস।’ রিমি বলল, ‘ফোন তো করতে হবে। কার কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে করি, মা তো আবার অপরিচিত নম্বর সহজে ধরেন না।’ ফারিয়া বলল, ‘তাহলে কী করবি? অপেক্ষা কর।’ রিমি বলল, ‘তুই কি থাকবি? এক সঙ্গে গল্প করব।’ ফারিয়া বলল ‘না,মা আসলেই চলে যেতে হবে।’ বাড়িতে ফারিয়ার সব সময় তাড়া থাকে। রিমি একা থাকলে কিছু হয় না তার কিন্তু তা করতে চায় না। সে আকাশের দিকে তাকায়, আকাশ ধীরে ধীরে ফাঁকা হচ্ছে। মেঘের দিকে তাকানোর পর কল্পনায় রিমি কল্পনার জগতে ভেসে যায়— সে ভাবতে থাকে, মেঘের আড়ালে লুকানো পরীর আজ খুব মন খারাপ। সে আজকে মেঘের রাজ্যে ঘুরে বেড়াতে চেয়েছিল, কিন্তু সূর্যমামার প্রচণ্ড তাপে তার পাখা পুড়ে গিয়েছে। তাই পরীর ডাক্তার পরীকে পাঁচদিন মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে বলেছে। তাই মেঘের পরী সূর্যমামার ওপর খুব রাগ করে মেঘদের সারাদিন বৃষ্টি নিয়ে চুপচাপ থাকতে নয়, তাদেরকেই বৃষ্টি হয়ে ঝরতে বলেছে। হঠাত্ রিমির খেয়াল হয়, বৃষ্টি থেমে গেছে। সে দ্রুত উঠে পড়ে চারদিকে তাকায়। অনেকে চলে যাওয়া শুরু করেছে। রিমি ঘড়িতে কয়টা বাজে তা দেখে। ব্যাগ নিয়ে হাঁটতে থাকে। শুধু ইলমি ও সাফা আছে। বাকিরা চলে গেছে। এমন সময় মা স্কুলে এসে ডাকে, ‘রিমি, এ্যাই রিমি।’ রিমি মাকে দেখে ছুটে চলে যায়।