টেকনাফে রেকর্ড পরিমাণ লবণ উত্পাদন

কক্সবাজারের টেকনাফে রেকর্ড পরিমাণ লবণ উত্পাদন হয়েছে। এ বছর প্রাকৃতিক পরিবেশসহ সবকিছু অনুকূলে থাকায় অন্য বছরের তুলনায় দ্বিগুণ লবণ উত্পাদন হয়েছে বলে লবণ চাষে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে খরচ অনুপাতে লবণের মূল্য না থাকায় চাষিদের মাঝে এক ধরনের অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী এবং মজুতদার হাজার হাজার মণ লবণ গুদামজাত করছে বলে জানা গেছে।

লবণ চাষিরা জানান, বিগত কয়েক মৌসুমের মধ্যে এ বছরই রেকর্ড পরিমাণ লবণ উত্পাদন হয়েছে। কৃষকদের অনেকে বলছেন,পরিবর্তনশীল জলবায়ু লবণ চাষের জন্য ইতিবাচক বার্তা এনে দিয়েছে। তাই তারা অন্য মৌসুমের তুলনায় দ্বিগুণ লবণ উত্পাদনে সমর্থ হয়েছেন।   

বিসিক সূত্র জানায়, উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ, নয়াপাড়া, নাজিরপাড়া, পৌরসভার জালিয়াপাড়া, চৌধুরীপাড়া, হ্নীলার দমদমিয়া, জাদীমুরা, মুচনী, লেদা, আলীখালী, রঙ্গিখালী, নাটুমরাপাড়া, ফুলের ডেইল, ওয়াব্রাং, মৌলভীবাজার, হোয়াইক্যংয়ের খারাংখালী, নয়াবাজার, ঝিমংখালী, মিনাবাজার, নোয়াপাড়া, কাঞ্জরপাড়া, উনছিপ্রাং, লম্বাবিল, বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর, দক্ষিণ শীলখারী ও উত্তর শীলখালী এলাকায় লবণ চাষ করা হয়েছে। এ বছর নতুন করে উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়ায় প্রায় ২শ একর জমি লবণ চাষের আওতায় এসেছে।

বিসিকের তথ্য মতে, ২০১৫-২০১৬ মৌসুমে টেকনাফ উপজেলায় ২ হাজার ৭শ একর জমিতে লবণ চাষ করা হয়। সে সময় টেকনাফে ৮৮ হাজার ২শ মেট্রিক টন লবণ উত্পাদন হয়। ২০১৬-২০১৭ মৌসুমে টেকনাফ উপজেলায় ২ হাজার ৮৫০ একর জমিতে লবণ চাষ করা হয়। সে সৌসুমে ৭৭ হাজার মেট্রিক টন লবণ উত্পাদন হয়। ২০১৭-২০১৮ মৌসুমে ৩ হাজার একর জমিতে চাষ করে ৭৪ হাজার মেট্রিক টন লবণ উত্পাদন সম্ভব হয়। ২০১৮-২০১৯ মৌসুমে ৩ হাজার ২২৭ একর জমি লবণ চাষের আওতায় এসেছে। চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত উল্লেখিত জমি থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৫শ মেট্রিক টন লবণ উত্পাদন হয়েছে বলে জানান বিসিক টেকনাফ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। তিনি গত মৌসুমের চেয়ে এবারে দ্বিগুণ লবণ উত্পাদন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

প্রসিদ্ধ লবণ ব্যবসায়ী পানখালী এলাকার খলিল আহমদ ও আলীখালী এলাকার সোনালী জানান, খরচ অনুপাতে লবণের দাম খুব কম। এ বছর লম্বা মৌসুম না হলে অনেক চাষির বারোটা বাজতো। আশাতীত উত্পাদন হলেও খরচ অনুপাতে লবণের দাম নেই জানিয়ে হ্নীলা লবণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছাবের খাঁন ও হোসাইন মো. আনিম দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, চাষি এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থে লবণ আমদানি বন্ধ রাখা উচিত। মিলাররা সিন্ডিকেট করে পরিকল্পিতভাবে লবণের মূল্য কমিয়ে দিয়েছেন জানিয়ে তাঁরা লবণ চাষিদের বৃহত্ স্বার্থে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী জানান, চাষিদের স্বার্থরক্ষায় লবণ শিল্পের জন্য একটি মাস্টার প্লান করা দরকার। তিনি লবণ চাষিদের উত্সাহ দানে বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থাসহ সরকারি-বেসরকারিভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।