মার্টিনোকে দায়িত্ব দিল বার্সেলোনা
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০১৩, ২২:০৬
আর্জেন্টিনার জেরার্ডো মার্টিনোকে দুই বছরের জন্য কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বার্সেলোনা। ক্যান্সারের কারণে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হওয়া টিটো ভিলানোভার স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা গতকাল মঙ্গলবার তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ ঘোষণা দেয়। প্যারাগুয়েতে কোচ হিসেবে ব্যাপক সুখ্যাতি পাওয়া মার্টিনো হলেন কাতালান দলটিতে চতুর্থ আর্জেন্টাইন কোচ।
মাত্র দিন দুয়েক আগেই ক্যান্সারের চিকিত্সার জন্য বার্সেলোনা মূল দলের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন টিটো ভিলানোভা। ক্লাবের নতুন কোচ কে হবেন সেই নিয়ে তখন থেকেই চলছিল জল্পনা কল্পনা। ভিলানোভার উত্তরসুরী হিসেবে শোনা যাচ্ছিল মাইকেল লাউড্রপ, আন্দ্রে ভিলাস-বোয়াস, হুয়ান ফ্রান্সিস ফেরেরা ‘রুবি’র নাম। তবে গত সোমবার রাশিয়ার ক্লাব আনঝি মাখাচকালা থেকে ডাচ কোচ গাস হিডিঙ্ক পদত্যাগ করলে গুঞ্জন জোড়ালো হয়ে ওঠে তার ব্যাপারে। তবে শেষ পর্যন্ত ক্লাবের ইতিহাসে চতুর্থ আর্জেন্টাইন কোচ হিসেবে মার্টিনোকে নিয়োগ দিল বার্সা কর্তৃপক্ষ।
বার্সেলোনা গতকাল তাদের ওয়েবসাইটে জানায়. ‘এফসি বার্সেলোনা জেরার্ডো মার্টিনোর সাথে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। পরবর্তী দুই বছর সেই বার্সেলোনার প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে চুক্তি এখনো সাক্ষরিত হয়নি। চুক্তি স্বাক্ষর এবং তদপরবর্তী বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার জন্য আগামী কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আমরা তাকে বার্সেলোনায় আশা করছি।’
‘টাটা’ ডাকনামে সমধিক পরিচিত ৫০ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইনের জন্ম লিওনেল মেসির শহর রোসারিওতেই। ১৯৮০ সালে ১৭ বছর বয়সে নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজের পক্ষে অভিষেকের পর এই ক্লাবের হয়ে খেলেন ৫০৫টি ম্যাচ। সমর্থক জরিপে ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় এই খেলোয়াড় জাতীয় দলের হয়ে নিজের একমাত্র ম্যাচটি খেলেন ১৯৯১ সালে। ১৯৯৬ সালে খেলা ছাড়ার দু’বছর পরে শুরু করেন কোচিং ক্যারিয়ার। প্যারাগুয়ে জাতীয় দলকে বিশ্বকাপে নিয়ে যান ২০১০ সালে। পরের বছর তার অধীনেই কোপা আমেরিকার ফাইনাল খেলে প্যারাগুয়ে। এরপরই যোগ দেন নিজের প্রিয় ক্লাব নিওয়েল’স এ। সেখানে মাত্র এক মৌসুম কাটানোর পরেই এবার মার্টিনো স্থলাভিষিক্ত হলেন ভিলানোভার।
বিখ্যাতদের পেছনে না ছুটে তুলনামূলক অখ্যাত মার্টিনোকে বার্সার কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগতই জানিয়েছেন তার স্বদেশী আর্জেন্টাইন সিজার লুই মেনোত্তি। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে বার্সেলোনার কোচের দায়িত্ব পালন করা মেনোত্তি বলেন, ‘মার্টিনো হচ্ছেন সেই গুটিকয় কোচের একজন যারা নাকি এই পেশাকে সম্মানিত করেছেন। যেখানে অন্য অনেকেই এই কাজটাকে অসম্মান করেছেন। তার বিশ্ব ফুটবলের সামনের সারিতে চলে আসাতে তাই আমি মোটেই অবাক নই। টাটা নিওয়েল’সকে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে সুন্দর ফুটবল উপহার দেয়া ক্লাবে পরিণত করেছেন। কারণ, সে ক্লাবকে সেই পুরনো স্টাইলে ফিরিয়ে এনেছে।’
অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে নিওয়েল’সে মাঠ মাতানো মার্টিনো তার দলকে খেলাতে চান আক্রমণাত্মক কৌশলেই। আর্জেন্টিনার ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য মেনোত্তি মনে করিয়ে দিয়েছেন সে বিষয়টিও, ‘খেলোয়াড় হিসেবে মার্টিনো যেমনটা ছিল, ঠিক সে বিষয়টিই সে তার খেলোয়াড়দের মধ্যে সঞ্চারিত করতে চায়। আর এই স্টাইলে খেলাতে গিয়ে, সে হয়তো কিছুটা সেকেলে হিসেবে গণ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা আধুনিক ফুটবলের ভক্ত তারা এটা বলতেই পারে।’
মার্টিনোর প্রতি নিজের আস্থার কথা জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনাও। মার্টিনোর খেলার স্টাইলের দারুণ ভক্ত ম্যারাডোনা বলেন, ‘আমি সাধারণত তার খেলাগুলো মিস করতে চাই না। কারণ, তার দল যেভাবে খেলে সেটা আমার দারুণ লাগে।’