হত্যা নাকি আত্মহত্যা রহস্যের ধূম্রজাল

রাজধানীর উত্তরখানের জাপানেরটেকে এক বাসায় মা, ছেলে ও প্রতিবন্ধী মেয়ের মৃত্যুর পর রহস্যের ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা? মৃত্যুর পর সামনে চলে এসেছে মা জাহানারা বেগম মুক্তা ও ছেলে কাজী মুহিব হাসান রশ্মির দুটি চিরকুট। দুটি চিরকুটেই আত্মহত্যার কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু চিরকুট দুটি লেখা হয়েছে একটি পাতার দুটি পৃষ্ঠায়। আর এই দুইটি চিরকুটের হাতের লেখাও একই রকম। ফলে তাদের মৃত্যুর ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা সেই প্রশ্নই জোরালো হচ্ছে।

পুলিশের তৈরি করা লাশের সুরতহালের বর্ণনা দিয়ে উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হাফিজুর রহমান রিয়েল বলেন, ‘তিন রুমের বাসার একটি কক্ষের বিছানায় মা ও মেয়ের লাশ পড়ে ছিল। দুই জনের শরীরে, পেটে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এর পাশাপাশি দুই জনের গলায় কালো দাগও রয়েছে। দুই লাশের মাঝখানের একটি কাঁচের বোতল পড়েছিল। বোতলের ভিতর কোনো তরল পদার্থ ছিল না। মেঝেতে ছেলের লাশ পড়ে ছিল। নিহত মুহিবের গলায় ধারালো গভীর জখমের চিহ্ন রয়েছে। ধারালো কোনো অস্ত্র দিয়ে গলার সামনের দিকে এক পাশ থেকে অপর পাশ পর্যন্ত কাটা দাগ রয়েছে। মেঝের বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ রয়েছে। রক্ত শুকিয়ে গেছে। মেঝেতে একটি বটি পড়েছিল। বটিতে রক্তের দাগও রয়েছে।’

কী ছিল চিরকুটে?

লাশের সঙ্গে দুইটি চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। মুহিবের মায়ের লেখা চিরকুটে বলা হয়েছে, ‘আমাদের মৃত্যুর জন্য আমাদের ভাগ্য এবং আমাদের আত্মীয়-স্বজনের অবহেলা দায়ী। আমাদের মৃত্যুর পর আমাদের সম্পত্তি গরিব মানুষকে দান করা হোক। ইতি-জাহানারা বেগম মুক্তা।’ মুহিবের লেখা চিরকুটেও একই কথা লেখা ছিল।  এছাড়া পুলিশ মুহিবের ফেসবুকের আইডি থেকে বেশ কয়েকটি লেখার স্ক্রিনশট নিয়েছে। এদের মধ্যে একটি ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘এই সমাজে শিক্ষার দাম আছে, টাকা পয়সার দাম আছে, ভালো মানুষের দাম নাই। বিদায় সমাজ, তোমার কাছে আর আসবো না।’ উদ্ধার করা চিরকুট দুটির হাতের লেখা মিলিয়ে দেখছে পুলিশ। দুটি চিরকুটের হাতের লেখা একই রকম মনে হয়েছে পুলিশের কাছে।

রিয়েল বলেন, মুহিব সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করে চাকরি খুঁজছিলেন। সম্প্রতি তিনি ৪০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায়ও অংশ নেন। মুহিবের প্রতিবন্ধী বোনটিকে নিয়ে তাদের পরিবারে অশান্তি ছিল। মুহিবের বাবা ইকবাল হোসেন কুমিল্লায় পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত থেকে অবসর গ্রহণ করে গত বছর মারা যান। বাবার পেনশন উত্তোলন নিয়ে মুহিব মানসিক পীড়নের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। তিনটি লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে হত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানা যাবে।

রবিবার রাতে লাশ উদ্ধারের পর সোমবার রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। পুলিশের কাছে নিহতদের আত্মীয়-স্বজনরা জানিয়েছেন লাশ দাফনের পর তারা মামলা দায়ের করবেন। উত্তরখান থানার ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, মা ও ছেলের লেখা চিরকুটে একই ধরনের হাতের লেখা। বিষয়টি আত্মহত্যা নাকি হত্যা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতদের স্বজনরা মামলা না করলে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হবে।