২৫ লাখ টাকার জাল মুদ্রা উদ্ধার মহিলাসহ গ্রেফতার ৩
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৮
রাজধানীতে জাল নোট তৈরি ও সরবরাহের অভিযোগে দুই মহিলাসহ তিনজন গ্রেফতার হয়েছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নগরীর মিরপুর ও পল্টন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন ইব্রাহিম হাওলাদার (৩৫), নার্গিস আক্তার (২৭) ও শারমিন আক্তার (২০)। পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ডে নিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে পুলিশ জব্দ করে বাংলাদেশি ২৫ লাখ টাকার জাল নোট, প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের জাল টাকা বানানোর নিরাপত্তা সূতা, বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম সংবলিত বিশেষ কাগজসহ জাল টাকা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামাদি।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার আরো জানান, ডিবি পুলিশের এডিসি মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পল্টন এলাকা থেকে দুই লাখ টাকার জালনোটসহ ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করে। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী মিরপুরের কল্যাণপুরে একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে নার্গিস ও শারমিনকে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২৩ লাখ টাকার জালনোট ও জালনোট তৈরির সরঞ্জামাদি।
অভিযান নেতৃত্বদানকারী ডিবি এডিসি মশিউর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকা ছাপিয়ে ব্যবসা করে আসছিল। গত ঈদ-উল-আযহার সময় ডিবি পুলিশ জাল টাকার ছয়টি কারখানা নষ্ট করে দেয়, সে সময় গ্রেফতার হয় বেশ কয়েকজন। এরপর জাল টাকা তৈরির মূল হোতা জাকির মাস্টার ও কাওছার আত্মগোপন করে। এবার রজমান শুরু হওয়ার পর জাকির এবং কাওছার পলাশ নামে জাল টাকার একজন পাইকারি ব্যবসায়ীর কল্যাণপুরস্থ বাসায় মেশিন স্থাপন করে জাল টাকা তৈরি শুরু করে। আর এ টাকা বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিল তাদের সহযোগী সোহেল, সাগর, নূরুল হক, বাশার, মামুন, রাব্বি, রোজিনা, নার্গিস আক্তার, শারমিন আক্তার ও ইব্রাহিম।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইব্রাহিম জানায়, সে এবং পলাশ ১০/১২ বছর ধরে জাকির ও কাওছার মাস্টারের নিকট থেকে জাল টাকা কিনে বাজারে সরবরাহ করতো। এই কাজে সহায়তা করতো পলাশের দুই স্ত্রী নার্গিস ও শারমিন। পরবর্তী সময় তারা দ্রুত বেশি পরিমাণে জাল টাকা তৈরি করে বাজারজাত করার লোভে কল্যাণপুরের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে জাকির ও কাওছার মাস্টারের মাধ্যমে কারখানা স্থাপন করে। এডিসি মশিউর জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতরে এই চক্র বাজারে আনুমানিক ৫০ কোটি টাকার জাল নোট ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। ইব্রাহিম ইতিপূর্বে আরো দুইবার মাদক ও জালটাকা ব্যবসা করার কারণে গ্রেফতার হয়েছিল। এছাড়া পলাশ অন্য আসামিদের সঙ্গে ৫২ লাখ জাল টাকাসহ ২০১১ সালে ডিবি পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল। অপরদিকে পলাতক আসামি কাওছার ২০১১ সালে ধরা পড়া জাল টাকার অন্যতম প্রস্তুতকারক হুমায়ুনের ছোট ভাই। ২০১২ সালে ডেমরা থানাধীন বাঁশেরপুল এলাকাস্থ জাল টাকার গডফাদার জাকিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ তার স্ত্রী, শ্যালক ও অন্যান্য আসামিকে গ্রেফতার করে। এ সময় বিপুল পরিমাণ সামগ্রীসহ ও ৬৮ লাখ টাকার সমপরিমাণ জালনোট উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা আরো জানায়, এক লাখ জাল টাকা তৈরি করতে তাদের আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হলেও তারা তাদের সহযোগীদের নিকট ৬/৮ হাজার টাকায় তা বিক্রি করতো। যা পরবর্তী সময় বিভিন্ন হাত হয়ে ২০-২২ হাজার টাকায় বিক্রি হতো। গ্রেফতারকৃতদের অপর সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।