রনির দিনভর পদত্যাগ নাটক
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০১৩, ২৩:২৫
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনির পদত্যাগ নিয়ে দিনভর গুঞ্জন শোনা গেলেও অবশেষে তিনি পদত্যাগ করছেন না বলে জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘কখনো মনে হয়েছে পদত্যাগ করি, আবার কখনো মনে হয়েছে করব না। এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলাম। তাই পদত্যাগ করতে পারি বলে সকালে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছি। কিন্তু আমি স্পিকার ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছি। এখন আমি পদত্যাগ করব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
সংসদ ভবনে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক শেষে রনি সাংবাদিকদের আরো বলেন, দল চাইলে তিনি সংসদ সদস্য পদ ছাড়বেন। পদত্যাগের সিদ্ধান্তটি ছিল সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত। তার নির্বাচনী এলাকার জনগণ এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেই এ বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। এর আগে স্পিকারের কক্ষের বাইরে রনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার দলের একটি বড় অংশ সালমান এফ রহমানের পক্ষে কথা বলছে। এ কারণে নৈতিকভাবে আমার মনে হয়েছে আমার পদত্যাগ করা উচিত। যেহেতু এটি সাংবিধানিক বিষয়, এ কারণে আমি স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করতে এসেছি।’
গত শনিবার দুপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সময় ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিবেদক ইমতিয়াজ মোমিন ও ভিডিও চিত্রগ্রাহক মহসীন মুকুলকে বেধড়ক পেটান সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা ও তার সহযোগীরা। এরপর ইনডিপেনডেন্ট কর্তৃপক্ষ রনির বিরুদ্ধে মামলা করে। পরে রনি পাল্টা মামলা করেন। ইনডিপেনডেন্টের করা মামলায় রনি রবিবার বিচারিক আদালতে জামিন নেন। হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন সনি ও মুকুলও। এ ঘটনার পর রনি পদত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন ওঠে।
সংবিধানের ৬৭ (২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, কোনো সংসদ সদস্য স্পিকারের কাছে সইযুক্ত পত্রে পদত্যাগের কথা জানাবেন এবং স্পিকার তা গ্রহণ করলে ওই সদস্যের আসন শূন্য হবে।
শনিবারের ঘটনার পর বেসরকারি টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা এক বিবৃতিতে রনিকে বর্জনের জন্য টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায়। এছাড়া সোমবার প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা রনিকে গ্রেফতারের জন্য এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেন। তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলেরও দাবি জানানো হয়।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেন, রনির ঘটনা দুঃখজনক, অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। এজন্য এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে সংসদ ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও হানিফ উল্লেখ করেন। অবশ্য রনি আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের নেতা নন বলেও মন্তব্য করেন হানিফ। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও সোমবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, গণমাধ্যম ও রাজনীতিবিদের সম্পর্ক অবিভাজ্য ও অবিচ্ছেদ্য। গণমাধ্যমের প্রতি তার (রনি) এ আচরণ অশোভন ও অনভিপ্রেত।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গোলাম মাওলা রনি। অল্প দিনের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার খবর আসে গণমাধ্যমে। আয়কর বিবরণীতে সম্পদের তথ্যে গড়মিল পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনও তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। এর আগেও সাংবাদিকদের নিগৃহীত করার অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে। ২০০৯ সালে পটুয়াখালীর গলাচিপায় নদী দখল করে বিপণী বিতান তৈরির কথা বিভিন্ন দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে রনির সমর্থকদের হাতে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক নিগৃহীত হন। পরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলাও করেন তিনি। তবে তিনি আলোচনায় আসেন সৈয়দ আবুল হোসেনের মন্ত্রিত্ব পাওয়া নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে ‘গল্প’ বলে। ওই গল্পে তিনি হাস্যরস করে বলেন, দৌড় জিতে মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন আবুল হোসেন!