মোবারক মাহে রমজান

আজ ১৪ রমজান। আমাদের মাঝ থেকে গত হওয়া ১৩টি রোজার ভুল-ভ্রান্তি সংশোধনের জন্য ও জীবনের সকল গোনাহের কথা স্মরণ করে প্রত্যেক নামাজান্তে এবং ইফতারীর পূর্বে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিশুদ্ধ তওবার মাধ্যমে রব্বুল আলামীনের দরবারে এখন থেকেই কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। ফিরে আসতে হবে সিরাতুল মুস্তাকীমের সহজ-সরল আলোকিত পথে। যে পথের শেষ ঠিকানা জান্নাতুল ফেরদাউস। যেখানে ঈদানদার রোজাদারগণ আল্লাহকে স্বচক্ষে দেখবেন এবং অনন্তকাল শান্তিতে বসবাস করবেন। এ ব্যাপারে আল্লাহতায়ালা কুরআনে বলেছেন- (মু’মিনদের গুণাবলী হচ্ছে এই) তারা তওবাকারী, ইবাদতকারী, শুকর গুজারকারী, দুনিয়ার প্রতি নিরাসক্ত, রুকু ও সিজদাহ্ আদায়কারী, সত্ কাজের আদেশ দানকারী ও মন্দকাজ থেকে নিষেধকারী এবং আল্লাহর দেয়া সীমাসমূহের হেফাজতকারী। সুতরাং সুসংবাদ দাও-মু’মিনদের (আত্-তাওবাহ্-১১২)। তারা আল্লাহর কাছে তওবাহ্ ও ক্ষমা প্রার্থনা করে না কেনো? আল্লাহ যে ক্ষমাশীল, দয়ালু (আল-মায়িদা-৭৪)। যারা তওবাহ্ করে নিয়েছে এবং নিজেদের অবস্থার সংশোধন করে নিয়েছে এবং আল্লাহ্র পথকে দৃঢ়ভাবে আঁঁকড়ে ধরে (আল্লাহ্র) আদেশ পালনকারী হয়েছে, তারা থাকবে মুসলমানদেরই সাথে। বস্তুত আল্লাহ্তায়ালা শীঘ্রই মু’মিনদের বড় প্রতিদান দেবেন (আন্-নিসা-১৪৬)। আল্লাহ্ তোমাদের জন্য সব কিছু পরিষ্কার করে বর্ণনা করে দিতে চান, আর তোমাদের পূর্ববর্তীদের হেদায়েতের পথ দেখাতে চান এবং তোমাদের ক্ষমা করতে চান, আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও বিজ্ঞানময় (আন্-নিসা-২৬)। সে দিন (কেয়ামতের দিন) আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন করে বর্ণনাকারী দাঁড় করবো। তখন অবিশ্বাসীদের অনুমতি দেয়া হবে না এবং তাদের তওবাও গ্রহণ করা হবে না (সূরা নাহল-৮৪)। রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, হে জনগণ! তোমরা আল্লাহ্র কাছে তওবাহ্ করো এবং গুনাহ্ মাফ চাও। আমি একদিনে একশতবার তওবাহ্ করি (মুসলিম)। হযরত আবু হুরায়রাহ্ (রা.) থেকে বর্ণিত রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা প্রতিরাতেই দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, আছে কি কেউ আমার কাছে দো’আ করার? আমি তার দো’আ কবুল করবো। আছে কি কেউ আমার কাছে প্রার্থনা করার? আমি তাকে তা দান করবো। আছে কি কেউ আমার কাছে মাফ চাওয়ার? আমি তাকে মাফ করবো (বুখারী)। সুতরাং নিজেকে পাপমুক্ত করতে হলে বিশুদ্ধ তওবার কোনো বিকল্প নেই। গোনাহ হতে মুক্ত হওয়ার ও জাহান্নামের আগুন থেকে পরিত্রাণ লাভের এই মোবারক মাসে তাই আমরা রসূলের (স.) আদর্শ পরিপূর্ণভাবে পালনের মাধ্যমে আল্লাহর রিজামন্দি হাছিল করতে অনুপ্রাণিত হই। সাথে সাথে আমাদের ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সকলেই রমজানের শিক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখি। আল্লাহ আমাদের সকলকে সেই তাওফীক দান করুন, আমীন। ই-মেইল: mzhazadi@yahoo.com