আবারও অভিনয়ে ফেরা

মডেলিং দিয়ে মোনালিসা ক্যারিয়ার শুরু করলেও ছোটবেলায় তিনি ছিলেন নাচের শিল্পী। এখন নাচের মুদ্রাগুলো বোধহয় একটু অবহেলায়ই পড়ে আছে মোনালিসার? প্রশ্ন শুনে মৃদু প্রতিবাদ করে মোনালিসা বলেন, ‘আমার নাচের মুদ্রাগুলোকে আমি অবহেলায় রাখিনি। মডেলিং, অভিনয় ও পড়াশোনার কারণে এখন নাচের চর্চাটা করা হয় অনিয়মিত। তবে কখনও বোধহয় নিয়মিতও হওয়া যাবে না এ মাধ্যমে। আসলে ক্যারিয়ারে আমার ‘ট্র্যাক’ চেঞ্জ হয়ে গেছে। নাচের শিল্পী হবো বলে নাচ শিখেছি। কিন্তু হয়েছি মডেল। তারপর এখন অভিনয়ও করছি টুকটাক। অবশ্য মডেলিং ও অভিনয়ের ক্ষেত্রে নাচের অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে।’ প্রায় এক দশক ধরে মোনালিসা নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে টিভি দর্শকদের মুগ্ধ করে রেখেছেন। অন্যরা যখন মডেলিংয়ের সিঁড়ি বেয়ে একের পর এক নাটকে কাজ করে অভিনেত্রী বনে গেছেন, তখন মোনালিসা হেঁটেছেন ভিন্ন পথে। যেই কাজে তিনি আনন্দ খুঁজে পান না, মোনালিসা তেমন কাজে খুব একটা জড়াননি নিজেকে। তার ভাষ্যে, ‘আমি মূলত নিজেকে মডেল ভাবতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কখনোই আমার মধ্যে এ ভাবনা কাজ করেনি যে, মডেল হিসেবে নিজের পরিচিতি কাজে লাগিয়ে জোর করে অভিনেত্রী হয়ে যাব। আমার অভিনয়ে আসাটা অনেকের অনুরোধ রাখতে গিয়ে। তবে কাজ করতে করতে এখন অভিনয়কেও ভালোবেসে ফেলেছি। তার মানে এই নয় যে, আমি গতানুগতিক সব কাজেই নিজেকে জড়াব। বিগত দিনেও নিজেকে জড়াইনি। আসলে আমি সবসময়ই চেষ্টা করেছি ভিন্নধর্মী কাজ করতে। যখন আমার কাছে কোনো নাটকের অফার আসে, তখন আমি দেখি এর গল্প ও চরিত্র আমার ভাবনার সঙ্গে মিলে কি না। আমি যেই চরিত্রটি লালন করতে পারব না, যেই গল্প আমার সঙ্গে মিলে না, আমি সেই কাজে কখনও জোর করে নিজেকে বসাতে চাইনি। আসলে জোর করে অভিনেত্রী হওয়ার চেষ্টা থেকে বরাবরই নিজেকে বিরত রেখেছি বলেই অল্প কিছু নাটকে কাজ করা হয়েছে।’ মোনালিসা এখন যতই নাটকে কাজ করুক না কেন, দর্শকসহ তার সহশিল্পীদের কাছেও তিনি একজন মডেল হিসেবেই বেশি পরিচিত। আর তাকে আজকের জনপ্রিয় মডেল হিসেবে তৈরি করেছেন দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান কয়েকজন বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাতা। তার ভাষ্যে, ‘আমি এ পর্যন্ত যে ক’জন নির্মাতার বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছি, সবার সাথে কাজ করেই আমি মজা পেয়েছি। আহমেদ ইউসুফ সাবের ও আফজাল হোসেন একসময় জিঙ্গেল বেইজড বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ করতেন। তাদের কাজ করে আমার ভালো লেগেছে। এই দুইজনই সব সময় নতুনত্বের সন্ধান করতেন। তারা চাইতেন কাজটা যেন চকচকে ও ঝকঝকে হয়। জিঙ্গেলের প্রতিও তাদের যথেষ্ট মনোযোগ ছিল। মোটকথা, কাজ দিয়ে দর্শকদের চমকে দেওয়ার জন্য তাদের চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। এরপর আমি বলব, অমিতাভ রেজা ও গোলাম হায়দার কিসলু’র কথা। দেশীয় বিজ্ঞাপনচিত্রের পটপরিবর্তনের জন্য তাদের অবদানের কথা এখন আর কারও অজানা নেই। আমি এ দু’জনের সঙ্গে কাজ করে বুঝতে পেরেছি যে, তারা জিঙ্গেলের চেয়ে থিমনির্ভর কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। মাঝে আমি ভারতের একাধিক নির্মাতার সঙ্গে কাজ করেছি। ভারতে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি ওদের সব কিছুই পরিকল্পনামাফিক হয়। কাজের পূর্বেই ওরা প্রয়োজনীয় সবকিছু রেডি করে রাখেন। শুটিংস্পটে শুধু এটুকু চিন্তা করেন, কীভাবে কাজটা অল্প সময়ের মধ্যে সুন্দর করে সম্পন্ন করা যায়। আর আমাদের দেশের তুলনায় ওদের টেকনিক্যাল সাপোর্ট অনেক উন্নত। ফলে ওদের পক্ষে অল্প পরিশ্রমে ভালো কাজ বের করে আনা সহজ হয়।’ বেশ কয়েক মাস বিরতির পর জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী মোনালিসা আবারও নাটকে অভিনয় শুরু করেছেন। সাগর জাহানের রচনা ও পরিচালনায় ‘সিকান্দার বক্স এখন বিরাট মডেল’ নামক ছয় পর্বের ধারাবাহিক নাটকে মোনালিসা অভিনয় করছেন। নাটকে নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। তারই স্ত্রী খেয়া চরিত্রে অভিনয় করছেন মোনালিসা। মোনালিসা বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণেই এই কয়েকটা মাস আমি অভিনয় থেকে বিরত ছিলাম। মূলত সাগর ভাইয়ের লেখা গল্প পছন্দ হওয়ায় কাজটি করছি। তা ছাড়া মোশাররফ ভাই আমার প্রিয় অভিনেতাদের একজন। তার সাথে কাজটি বেশ উপভোগ করছি আমি। এই নাটকে তানিয়া আপু, ফারুক ভাইও কাজ করছেন। সব মিলিয়ে নাটকটি দর্শকের কাছে বেশ উপভোগ্য হবে।’ আগামী ঈদে স্যাটেলাইট চ্যানেল বাংলাভিশনে ছয় পর্বের এই ধারাবাহিক নাটকটি প্রচার হবে। মূলত ‘সিকান্দার বক্স এখন বিরাট মডেল’ নাটকটি বাংলাভিশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রচারিত জনপ্রিয় নাটক ‘সিকান্দার বক্স এখন অনেক বড়’ নাটকেরই সিক্যুয়েল হিসেবেই নির্মিত হচ্ছে। মোনালিসা এই নাটকটি ছাড়া এনটিভির জন্য নৃত্যবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘নৃত্য আনন্দ ছন্দে’ পারফর্ম করবেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন জিয়া। এনটিভিতে ঈদের দিন রাত ৯টা ১৫ মিনিটে প্রচার হবে। দীর্ঘ বিরতির পরও মোনালিসা নাচের কোনো অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন, যা ঈদে দর্শকের জন্য থাকবে বাড়তি আনন্দ। প্রায় সব অভিনেতা বা অভিনেত্রীর স্বপ্ন থাকে বড় পর্দায় কাজ করার, আপনার সে রকম ইচ্ছা আছে কি? এমন প্রশ্নের জবাবে মোনালিসা বলেন, ‘আমি কেন জানি চলচ্চিত্রে কাজের আগ্রহ খুঁজে পাই না। মডেলিং ও নাটকে কাজ করেই ভালো আছি। আমি এ দুটি মাধ্যমেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই। আমি জানি চলচ্চিত্রে কাজ করলে বেশি অর্থ ও সুনাম হয়তো পাওয়া যাবে, কিন্তু তা আমি চাই না। আমার মনে হয়, কোনো মানুষ যদি তার অর্জিত অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারে, তবে তার মনে বাড়তি চাহিদা জায়গা করে নিতে পারে না। আমি হয়তো সেই সব মানুষদেরই একজন।’