তারুণ্যের পছন্দের ব্রুনো
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০১৩, ১৯:৫৯
ব্রুনো মার্সকে অনেকেই বর্তমান সংগীত জগতের অন্যতম প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব হিসেবে মনে করেন। অবশ্য তার গান শুনলে কথাটা সত্যিই মনে হবে সবার। একাধারে গায়ক, গীতিকার, সংগীত প্রযোজক ব্রুনোর আমেরিকান সংগীত জগতে প্রবেশ একটু ভিন্ন ভাবে। তার এই সংগীত আসা হয় মূলত প্রযোজক হিসেবে। তারপর তিনি অনেক বিখ্যাত শিল্পী, যেমন শন কিংস্টন, ফ্লো-রিডা প্রমুখ শিল্পীর জন্য গান লেখেন এবং গীতিকার হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যান। কিন্তু সেইসময় থেকেই তার প্রধান ইচ্ছা ছিল একজন গায়ক হওয়ার।
পপ, রক, অল্টারনেটিভ হিপ-হপসহ জনপ্রিয় সব গান নিয়ে বর্তমানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে আছেন শিল্পী ব্রুনো মার্স। গান গাওয়াই নয়, গান লেখাসহ মিউজিক প্রযোজক হিসেবেও এ শিল্পী পেয়েছেন সমান খ্যাতি। গত ১৯ জুলাই প্রকাশিত ব্রুনোর সর্বশেষ অ্যালবাম ‘জাস্ট দ্য ওয়ে ইউ আর’ অনেক দিন ধরেই রয়েছে মিউজিক টপ চার্টের প্রথম দশের তালিকায়। একাধিকবার টপ চার্টে শীর্ষে থাকার পাশাপাশি ব্রুনোর এ অ্যালবামটি এখনও বিলবোর্ড হট ১০০ এবং ইউকে সিঙ্গেল টপ চার্টের শীর্ষে রয়েছে। গানের অ্যালবামের পাশাপাশি এর মিউজিক ভিডিওর জনপ্রিয়তাও এখন তুঙ্গে। অ্যালবামের ‘জাস্ট দ্য ওয়ে ইউ আর’ গানটি জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বর্তমানে মুঠোফোনের রিংটোন হিসেবেও ব্যবহারকারীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। ‘ওহ, হার আইস, হার আইস মেইক দ্য স্টারস লুক লাইক দি আর নট সাইনিন’ গানটির এমন প্রথম লাইনেই রয়েছে বেশ চমক, যা শ্রোতাদের মন জয় করেছে দ্রুত। গানের ক্ষেত্রে আলোচিত বেশ কিছু কাজের পাশাপাশি কো-রাইটার হিসেবে ব্রুনো কাজ করেছেন কেনানের ‘উয়েভেন ফ্ল্যাগ’ গানটিতেও।
১৯৮৫ সালে ব্রুনো মার্সের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে। পুরো নাম পিটার জেন হার্নান্দেজ, তবে ভক্ত-শ্রোতাদের কাছে ব্রুনো মার্স হিসেবেই পরিচিত। সংগীত পরিবারের ছয় ভাইবোনের মধ্যে ব্রুনো ছোটবেলা থেকেই গান নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।
সংগীতজীবনের শুরুতে গান লেখা, সুর করাসহ বিভিন্ন কাজের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়েছেন। পুরো গায়ক হিসেবে প্রথম অ্যালবাম ‘ফার ইস্ট মুভমেন্ট’-এর কল্যাণে আলোচনায় চলে আসেন। এ ছাড়া কো-রাইটার হিসেবে ‘বিওবি’, ‘নাথিং অন ইউ’ ও ‘বিলিওনিয়ার’ গানের কল্যাণে জনপ্রিয়তার শীর্ষে চলে আসেন সহজেই। এ গানগুলো বিভিন্ন মিউজিক চার্টের শীর্ষ ১০-এ সাফল্যের সঙ্গে ছিল।
মনোনয়ন পেয়েছেন একাধিক সংগীতবিষয়ক পুরস্কারে। বেটা অ্যাওয়ার্ড, বেটা হিপ-হপ অ্যাওয়ার্ড, এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ড ও টিন চয়েস অ্যাওয়ার্ডের মতো পুরস্কারে মনোনয়ন পাওয়া ব্রুনো কাজ করে যেতে চান সংগীত নিয়ে।
বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র চালনায় পারদর্শী সম্ভাবনাময় তরুণ এ গায়ক নিজেকে সারা বিশ্বে সংগীতপ্রেমীদের কাছে তুলে ধরতে কাজ করে যাচ্ছেন। লক্ষ্য, আকাশ ছোঁয়ার এবং বিশ্বের ভক্ত-শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নেওয়ার। সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
একজন একক শিল্পী হিসেবে ব্রুনোর সংগীত জগতে অভিষেক ঘটে তার প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য অ্যালবাম ‘ইটস বেটার ইফ ইউ ডোন্ট আন্ডারস্ট্যান্ড’-এর মাধ্যমে, যা ২০১০ সালের মে মাসে প্রকাশিত হয়। অ্যালবামটি বিলবোর্ড হট ২০০ টপ চার্টে ৯৯তম স্থানে অবস্থান করে। তারপর সে বছরই অক্টোবরে প্রকাশিত হয় মার্সের দ্বিতীয় এবং পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যালবাম ‘ডুঅপস অ্যান্ড হুলিগানস’। অ্যালবামটি প্রকাশিত হওয়ার আগেই এর কয়েকটি গান সিঙ্গেলস আকারে বাজারে আসে এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তার মধ্যেই অন্যতম হলো ‘জাস্ট দি ওয়ে ইউ আর’। এই গানটি প্রকাশিত হয় ২০১০ সালের জুলাইতে। গানটি বিশ্বব্যাপী বিপুল জনপ্রিয়তা পায় এবং ‘বিলবোর্ড হট ১০’ চার্টের শীর্ষে অবস্থান করে। এই গানটির জন্য তিনি অর্জন করেন ‘বেস্ট মেল ভোকাল পারফর্মেন্স’ ক্যাটেগরিতে একটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড। একই অ্যালবাম থেকে প্রকাশিত আরেকটি সিঙ্গেলস ‘গ্রেনেড’ মার্সকে এনে দেয় ছয়টি ক্যাটেগরিতে গ্র্যামির মনোনয়ন।
তবে একই বছর গায়িকা অ্যাডেলের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে আর টিকতে পারেননি মার্স। সম্প্রতি তিনি হলিউডের মুভি সিরিজ ‘টোয়াইলাইট সাগা :ব্রেকিং ডন ১’-এ ‘ইট উইল রেইন’ নামে একটি গান গেয়েছেন।