এই ঈদেও সাধারণ শ্রোতা হয়ে থাকবেন সিনিয়র শিল্পীরা
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০১৩, ২০:০৬
গত কয়েক বছরের ঈদ অডিও বাজারের মতোই এবারের ঈদেও দর্শকদের ভূমিকায় থাকছেন সিনিয়র শিল্পীরা। প্রশ্ন আসতে পারে সিনিয়র শিল্পীরা তো আর সারাজীবন গাইবেন না। কিন্তু গুটিকতক জুনিয়র শিল্পীদের এইরকম অযৌক্তিক প্রশ্নের উত্তরে শুধু এটুকু বলতে হয় তা হলো, আমাদের দেশের দৃশ্যপটে অডিও বাজারের এই ধস খুব নাটকীয়ভাবে এসেছে। প্রকাশক-শিল্পীদের বৈরিতায় সিনিয়র শিল্পীরা বিমুখ হয়ে বসে আছেন। রিলিজ দিচ্ছেন না নতুন কোনো গান।
কারণ শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সিনিয়র শিল্পীদের শুধু নয়, শিল্পীদের তারা গানের পারিশ্রমিক দিতে ভুলেই গেছেন! এর পাশাপাশি দুয়েকটি প্রতিষ্ঠান নামকাওয়াস্তে শিল্পীদের পারিশ্রমিক দিচ্ছেন বলে তাতেই কিছু শিল্পী মুগ্ধ হয়ে ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে তা গ্রহণ করছেন।
এবারের ঈদ বাজারে রিলিজের আগেই খানিকটা বিতর্কের মুখে পড়েছে পড়শীর একক অ্যালবাম। একক অ্যালবামে হিন্দি গান ব্যবহারে এর আগে বিতর্কিত হয়েছিলেন সুরকার মাহমুদ সানী। তার সেই চেষ্টাটা খুব একটা ভালো ফল দেয়নি। এবারেও পড়শীর হিন্দি গান প্রকাশের খবরে ফেসবুকসহ বিভিন্ন ব্লগে তাকে নিয়ে নানান ধরনের বিরূপ মন্তব্য করেছে একাধিক দর্শক-শ্রোতা। এ ছাড়া এবারের ঈদ বাজারে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, দীর্ঘদিন পর আবারও আসিফের একক অ্যালবাম বের হচ্ছে। দেখা যাক মন্দার এই বাজারে কতটা উল্টোস্রোত ফেরাতে পারেন আসিফ। পাশাপাশি জি-সিরিজ, লেজার ভিশন, ফাহিম মিউজিক একাধিক অ্যালবামের ভেতরে ব্যান্ড অ্যালবাম বলতে এবারে উল্লেখ করার মতো অ্যালবাম হিসেবে রিলিজ হচ্ছে অবসকিওরের ‘ফেরা’। অবাক করার মতো বিষয় হলো বিডি মিউজিক ক্যাফেডটকম অবসকিওরের অ্যালবামটি রিলিজের আগে পুরো অ্যালবামটি পাইরেটেড লিংক আপলোড করে দিয়েছে। অথচ এই অ্যালবামটি রিলিজ হতে আরও দু’দিন বাকি। এ ছাড়া এবারের ঈদে ব্যান্ড অ্যালবাম নেই বললেই চলে। ঈদের অডিও বাজারের প্রবণতায় এবারে অনেকেই সেলফ প্রডিউস অ্যালবামও করছেন। কেউ কেউ অনলাইন মার্কেটিংয়ের মাধ্যমেই অ্যালবাম বের করছেন। এরই মধ্যে অনলাইন মার্কেটিং ‘রকমারি’র মাধ্যমে বাজারে ছেড়েছেন শিরোনামহীনের নতুন অ্যালবাম ও মানিকের একক ‘অবাক শহরে’। এ ছাড়াও খুব শিগগিরই বাজারে আসছে এবারের ঈদে সবচেয়ে বড় বাজেটের মিক্সড অ্যালবাম ‘অমিয়সুধা’। যাতে এ সময়ের জনপ্রিয় তরুণ শিল্পীরা অংশ নিয়েছেন। এ অ্যালবামের শিল্পীরা হলেন, কলকাতার সোমলতা, এলিটা, মালা, পড়শী, লুত্ফর হাসানসহ অনেকে। এই সকল নতুন প্রবণতায় আরও স্পষ্ট হচ্ছে যে মূল ধারার অডিও প্রকাশনা বলতে কাউকেই আর খুব একটা শিল্পীরা গ্রাহ্য করছে না। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে প্রিন্স মাহমুদের সুরে কুমার বিশ্বজিতের একটি একক অ্যালবাম বের হওয়ার কথা থাকলেও সুরকার ঈদকে সামনে রেখে তার মিক্সড অ্যালবামে বেশি মনোযোগী হয়ে গেছেন। ফলে কুমার বিশ্বজিত্ আপাতত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে প্রিন্স মাহমুদের সুরে তিনি তার সলো অ্যালবাম বের করবেন না। এমন ছোটখাটো অসঙ্গতির বাইরেও বাজারে গত কয়েক বছরের তুলনায় অ্যালবামের সংখ্যা এবারে বেশি। এটাই সবচেয়ে বড় আশা জাগানিয়া খবর। আর সবচেয়ে দুঃখের খবর হলো এবারের ঈদেও আইয়ুব বাচ্চু, জেমস, শাফিন, মাকসুদের মতো ব্যান্ড তারকারা থাকছেন স্রেফ দর্শক হিসেবে অডিও বাজারে। যাদের নতুন গান শোনার জন্য আজও মুখিয়ে আছেন অনেকে। শুধু কমপ্লিট মার্কেটিংয়ের অভাবে তাদেরকে শ্রোতাদের সামনে আনতে ব্যর্থ হচ্ছেন প্রকাশকেরা।