পশ্চিম জোনের ৮২ রেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান নেই

রেলওয়ের পশ্চিম জোনে খুলনা থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ২৪৭ কিলোমিটার রেলপথে ১৩৭টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে ৮২টিই সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এ সকল রেলক্রসিংয়ে কোনো গেট বা গেটম্যান নেই। ফলে প্রায়শ ঘটছে প্রাণহানিসহ ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা। গত পাঁচ বছরে রেলক্রসিংগুলোতে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে অর্ধশত মানুষ। রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, যেসব সংস্থা রেললাইনের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করবে গেট তৈরি ও গেটম্যান নিয়োগের দায়িত্ব তাদের। প্রতিটি রেলগেটে গেটম্যান দেয়ার মত জনবল রেলের নেই। অপরদিকে সড়ক নির্মাণ ও তত্ত্বাবধায়নে থাকা সরকারি সংস্থাগুলো বলছে এ দায়িত্ব সম্পূর্ণ রেল বিভাগের। তারাই গেট বানাবে এবং গেটম্যান নিয়োগ দেবে। সূত্র জানায়, রেলওয়ের পশ্চিম জোনের রেলগেটগুলো একেকটি মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোতে একটি করে দায়সারা গোছের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে রেল বিভাগ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। সাইনবোর্ডগুলোতে লেখা রয়েছে, ‘এটি অবৈধ রেলগেট, এখানে কোনো গেটম্যান নেই, নিজ দায়িত্বে পারাপার হোন।’ অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, যে সকল গেটে গেটম্যান আছে তারাও ঠিকমত তাদের দায়িত্ব পালন করে না। রেলগেটগুলোতে ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় অনেক সময় গেট ফেলা হয় না। অভিযোগ রয়েছে, গেটম্যানরা অস্থায়ীভাবে কাজ করার জন্য অন্য কাউকে মাসোহারার বিনিময়ে দায়িত্ব দিয়ে থাকে। আবার দেখা গেছে, অনেক রেলগেটে রেল কর্তৃপক্ষের সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া গেটম্যানরা কাজ করছে। তাই দায়িত্ব সম্পর্কে তারা খুব বেশি সচেতন নয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, খুলনা মহানগরীর জনবহুল এলাকা নয়াবাটি, মুজগুন্নি, বিএল কলেজের সামনে, ফুলবাড়িগেট ও জাব্দিপুরে কোনো রেলগেট নেই। জোড়াগেট, বৈকালী, গোয়ালখালী, নতুন রাস্তার মোড়, মুহসিন মোড়, রেলিগেট, ফুলবাড়ি গেট প্রভৃতি স্থানে ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় নিয়মিত গেট ফেলা হয় না। এছাড়া যে সকল স্থানে কোনো গেটম্যান নেই সে সকল স্থানে ‘নিজ দায়িত্বে পারাপার হোন’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলানো রয়েছে। একই সাথে দেখা গেছে এ অঞ্চলের দৌলতপুর, আলমনগর, মুজগুন্নিসহ বিভিন্ন রেলক্রসিংয়ের ওপর নিয়মিত বাজার বসছে। সব সময় এসকল বাজার ক্রেতা-বিক্রেতায় পরিপূর্ণ থাকে। দৌলতপুর, রেলিগেট, জোড়াগেটসহ বিভিন্ন জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে রেললাইনের পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ বস্তি। রেলের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রয়েছে কয়েক বছর ধরে। রেলওয়ের খুলনার অপারেটিং বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে দর্শনা পর্যন্ত রেলওয়ের ট্রাফিক বিভাগের অধীনে রেলক্রসিং বা গেট রয়েছে ২৯টি। এরমধ্যে ১৫টিতে গেটম্যান আছে। এছাড়া বাকি ১৪টি গেটে গেটম্যান নেই। রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তদারকিতে থাকা অপর ১০৮টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে ৬৮টিতে কোনো গেটম্যান নেই। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। রেলওয়ে পশ্চিম জোনের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মোঃ রফিকুল আলম জানান, যে সংস্থা সড়ক তৈরি করবে সে সড়ক রেললাইন অতিক্রম করলে সেখানে গেট তৈরি ও গেটম্যান নিয়োগের দায়িত্ব তাদের। রেলের নিজস্ব গেটগুলোর অধিকাংশতেই গেটম্যান রয়েছে। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী রেজ্জাকুল ইসলাম বলেন, রেলগেট স্থাপন এবং গেটম্যান নিয়োগের দায়িত্ব সম্পূর্ণ রেল কর্তৃপক্ষের। এখানে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার কিছু করণীয় নেই। তবে যে সকল সড়ক রেল লাইন অতিক্রম করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেসব স্থানে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করতে পারে।