ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি

শরীয়তপুর ও হবিগঞ্জের ৬ যুবক নিখোঁজ

লিবিয়া থেকে ইতালি যাবার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় শরীয়তপুরের চার যুবক ও হবিগঞ্জের দুই যুবক নিখোঁজ রয়েছে। তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানেন না পরিবারের লোকজন। তাই প্রত্যেক পরিবারে চলছে শোকের মাতম। এ বিষয়ে ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

শরীয়তপুর : ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবির ঘটনায় শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চার যুবক নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিচলিত হয়ে পড়েছেন। প্রত্যেকটি পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নিখোঁজ ওই চার যুবক হলেন নড়িয়া উপজেলার পাটদল গ্রামের মৃত হাসেম মোল্যার ছেলে সুমন মোল্যা, দক্ষিণ চাকধ গ্রামের গৌতম দাসের ছেলে উত্তম দাস, হারুন হাওলাদারের ছেলে জুম্মান হাওলাদার ও চাকধ গ্রামের মোর্শেদ আলী মৃধার ছেলে পারভেজ মৃধা। একই নৌকায় থাকা দক্ষিণ চাকধ গ্রামের আলাউদ্দিন মকদমের ছেলে শিশির মকদম ও শিশিরের মামা নলতা গ্রামের মিন্টু মিয়া তিউনিসিয়ার একটি আশ্রয় কেন্দ্রে আছেন।

নিখোঁজ যুবকদের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে তিউনিসিয়ার উপকূলের কাছে ভূমধ্যসাগরে ডুবে যাওয়া নৌকায় শরীয়তপুরের বেশ কয়েকজন যুবক ছিল। স্থানীয় মানবপাচারকারী দলের সদস্য কেদারপুর গ্রামের আক্কাছ মাদবরের সঙ্গে ওই যুবকদের লিবিয়া পৌঁছে দেওয়ার চুক্তি হয়। লিবিয়া পৌঁছে দিতে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। পরে লিবিয়া থেকে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার জন্য মাদারীপুরের আলাল হোসেন নামের এক দালালের সঙ্গে তাদের ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার চুক্তি হয়। আলাল হোসেন ওই দিন যুবকদের ইতালি পৌঁছে দেওয়ার জন্য নৌকায় তুলে দেন।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, এভাবে জীবনের ঝুঁকি নেয়া দুঃখজনক। ওই যুবকদের পরিবার যদি দালালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তাহলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।

হবিগঞ্জ : এদিকে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় হবিগঞ্জের নিখোঁজ দুই যুবক হলেন, সদর উপজেলার লোকড়া গ্রামের হাজী আলাউদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাইয়ুম ও আব্দুল জলিলের ছেলে আব্দুল মোক্তাদির। যদিও অপর নৌকায় থাকা তাদের সঙ্গী একই গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে নূরুল আলম ইতালি পৌঁছে গেছেন। এছাড়া সদর উপজেলার আষেঢ়া ভাটপাড়া গ্রামের মামুন মিয়া সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হয়ে বর্তমানে তিউনিসিয়া উদ্বাস্তু শিবিরে রয়েছেন। কাইয়ুম ও মুকতাদিরের পরিবারের লোকজন শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, কাইয়ুম, মুকতাদির, নূরুল আলম ও মামুন মিয়া ইতালি যাবার জন্য ৬/৭ মাস পূর্বে বাড়ি থেকে বের হয়ে দালালের মাধ্যমে প্রথমে লিবিয়া যায়। এরপর গত ৮ মে রাতে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে তাদের দুটি নৌকায় তোলা হয়। আব্দুল কাইয়ুম, আব্দুল মোক্তাদির ও মামুন মিয়া এক নৌকায় ছিলেন। ওই নৌকায় যাত্রী ছিল ৭৫ জন। অপর নৌকায় ছিলেন নূরুল আলম। ওই নৌকাটি সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছে গেলেও কাইয়ুম, মুক্তাদির ও মামুনকে বহনকারী নৌকাটি তিউনিসিয়া উপকূলে ডুবে যায়। মামুনের নিকট বড় বেলুন থাকায় তিনি পানিতে ভাসতে থাকেন। এ সময় মুক্তাদিরও তার হাতে ধরা ছিল। সাগরে সাঁতরানোর একপর্যায়ে মামুন নিজেকে রক্ষায় মুক্তাদিরকে ছেড়ে দেন। এরপর মুক্তাদির মারা গেছেন নাকি বেঁচে আছেন এর কিছুই বলতে পারেন না মামুন। এদিকে নূরুল আলম তার পরিবারকে ইতালি পৌঁছার খবর নিশ্চিত করেছেন।