মির্জাপুরে চুরির ঘটনায় পাল্টাপাল্টি ১০ মামলা
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০১৩, ২১:৫০
একটি সিএনজি অটোরিকশা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার দুই গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অন্ততপক্ষে ১০টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে চলছে হামলা ও সংঘর্ষ। মাদ্রাসা ও মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দেয়ায় মুসুল্লিরা নামাজও আদায় করতে পারছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া একটি পরিবার অনেক দিন ধরে অবরুদ্ধ হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার দেওড়া গ্রামে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় দুই গ্রুপের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ লাঠিসোঠা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেও কোন কুলকিনারা করতে পারছে না বলে এলাকাবাসি জানিয়েছে।
জানা গেছে, গত ৫/৬ মাস পূর্বে দেওড়া গ্রামের শামীম হোসেনের একটি অটো সিএনজি চুরি হয়। এ ব্যাপারে সিএনজি চালক হাবিবুল্লাহ ও শামীম একই গ্রামের আনসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম ও সহিদসহ কয়েকজনকে আসামি করে মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই ঐ গ্রামে দুই গ্রুপ একে অপরকে আসামি করে একের পর এক এ পর্যন্ত ১০টি মামলা করেছে। এছাড়া চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে কয়েক দফা হামলা, ভাংচুরসহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং ডাকাতি, চুরি, পুকুরের মাছ লুটসহ নারী নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে।
সর্বশেষ কয়েক দিন পূর্বে সেলিম মেম্বার গ্রুপ আনসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম খানকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে সিএনজি চুরির অপরাধে পুলিশে সোপর্দ করায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। গত চার দিন ধরে দেওড়া উত্তরপাড়া গ্রামে মসজিদে ঠিকমত নামাজ আদায় এমনকি তারাবির নামাজও আদায় হচ্ছে না। মসজিদের ইমাম মাওলানা আইয়ুব খানকে বরখাস্ত করা হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে। মসজিদের পাশে গড়ে উঠা দারুদ সুন্নাত তাসলিমিয়া মাদ্রাসাটিও তালা মেরে দেয়া হয়েছে এরই জেরে। এব্যাপারে মির্জাপুর থানার সেকেন্ড অফিসার শ্যামল দত্ত বলেন, দেওড়া গ্রামের পরিস্থিতি এখন আর আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।