এগার মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছাত্রলীগের

নানা নাটকীয়তার পর দুই বছর মেয়াদি কমিটির প্রায় ১১ মাস পার হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। গতকাল সোমবার বিকাল চারটার দিকে ৩০১ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী এই কমিটির অনুমোদন দেন। কমিটিতে স্থান পেয়েছেন চাকরিজীবী, নিষ্ক্রিয়, বিবাহিত, অছাত্র, মাদক মামলার আসামি, হত্যা মামলার আসামিসহ নানা অপরাধীরা। এদিকে ঘোষিত কমিটিতে পদ না পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন সংগঠনটির পদ প্রত্যাশী শতাধিক নেতাকর্মী। ৩০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়েছেন আল নাহিয়ান খান জয়। সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন মোট ৬১ জন। সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মামুন বিন সাত্তার। এ পদে আছেন মোট ১১ জন। এছাড়া অন্যান্য পদে আছেন, প্রচার সম্পাদক শফিকুল আলম রেজা, দপ্তর সম্পাদক আহসান হাবিব, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হাসনাত সরদার হিমেল, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ লিমন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক খালিদ হাসান রবিন, সমাজ সেবা সম্পাদক শেখ স্বাধীন শাহেদ, ক্রীড়া সম্পাদক পান আল আমিন সিদ্দিক সুজন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. রাকিনুল হক চৌধুরী, পাঠাগার সম্পাদক জাভেদ হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পল্লব কুমার বর্মন, অর্থ সম্পাদক মো. রাকিব হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শামীম পারভেজ, স্কুল ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পুতুল চন্দ্র রায়, বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক সাদুন মোস্তফা, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শাকিল আহমেদ জুয়েল বাবু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক তাজ উদ্দিন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহ হীল বারী, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক ইমরান জমাদ্দার, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক আসিফ তালুকদার।

ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের  উপর হামলা, আহত ৭

পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে বিতর্কিত ও অবৈধ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা। একপর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে শুরু করার আগেই তাদের উপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শোভন-রব্বানীর অনুসারীরা। গতকাল রাত আটটার দিকে মধুর ক্যানটিনে এঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রলীগের হল কমিটির সাবেক নেতাসহ কমপক্ষে ৭ জন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকে বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করতে যান পদবঞ্চিত এসব নেতাকর্মী। পদবঞ্চিত এসব নেতাকর্মী সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের অনুসারী। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন সদ্য পদপ্রাপ্ত নেতাকর্মীরা।

মধুর ক্যান্টিনে মুখোমুখি অবস্থান নেন পদবঞ্চিত ও পদপ্রাপ্তরা। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন শুরু করতে গেলে পদপ্রাপ্ত নেতাকর্মীরা মুহুর্মূহ স্লোগান দিলে সংবাদ সম্মেলন শুরু করতে বাধা পায়। এই সময় পদপ্রাপ্তদের মধ্যে থেকে সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইনকে শিবির বলে আখ্যায়িত করা হয়। এটা শুনে জাকিরের অনুসারীরা সংবাদ সম্মেলন রেখে দাঁড়িয়ে এই কথার প্রতিবাদ জানান।

সংবাদ সম্মেলনের ব্যানার ছিঁড়ে ফেললে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় গ্রুপ একে অন্যের দিকে চেয়ার ছুঁড়ে মারতে থাকে। এতে পদবঞ্চিত সাত নেতাকর্মী আহত হন।

আহতরা হলেন- ছাত্রলীগের সাবেক উপ-অর্থ সম্পাদক ও ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা শিকদার, গত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাঈফ বাবু, ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক তানভীর ভুঁইয়া শাকিল, ডাকসুর সদস্য ও কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীন, সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা, ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক ও রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি বিএম লিপি আক্তার। এসময় চেয়ারের আঘাতে রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী দিশার মাথা ফেটে যায়। আহতদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।