ইংল্যান্ডের লক্ষ্য হোয়াইটওয়াশ!
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০১৩, ২২:০৩
ইংল্যান্ডের প্রথম দুই টেস্ট জয়ের পর এমনিতেই চলমান অ্যাশেজ সিরিজ এখন অনেকটাই একতরফা। আর এই অবস্থান থেকেও কোন ছাড় দিবে না স্বাগতিকরা। গতকাল মঙ্গলবার এমনই চ্যালেঞ্জ জানালেন দলটির পেসার জেমস অ্যান্ডারসন। অজিদের ওপর কোন দয়ামায়া না দেখিয়েই বললেন, তাদের লক্ষ্য এখন হোয়াইটওয়াশ।
সেই ২০০৬-০৭ মৌসুমে অজি দলের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয় ইংলিশরা। আর সেটা ছিল দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসেরই এক কাল অধ্যায়। সেই দলটিতে এখনকার জেমস অ্যান্ডারসনও ছিলেন। দলের দুর্দশার চিত্রটা তাই ভালভাবেই জানা আছে তার। সেই স্মৃতি থেকেই জানালেন, এবার আর সেই অজি দলের বিপক্ষে সামান্য দয়া দেখাবে না ইংলিশরা, ‘সত্যি কথা হল, তাদের জন্য আমার কোন করুণা বোধ হচ্ছে না। আমাদের কাজ হল খেলা, আর জয় পাওয়া। আমরা প্রতিটি ম্যাচেই জয় চাই। এর মানে হল আমরা ৫-০ ব্যবধানেই জিততে চাই।’
নিজেদের সেই হোয়াইটওয়াশের স্মৃতিচারণা করে অ্যান্ডারসন বলেন, ‘সেই সময় থেকেই হোয়াইটওয়াশের স্মৃতি আমাদের সাহায্য করেছে। এটা কোন দলের জন্য গর্বের কোন ব্যাপার নয়। কেউই হার চায় না। হার থেকে শিক্ষা নেয়। সেই শিক্ষা থেকেই বলছি, আমরা জয় চাই প্রতিটা ম্যাচেই। আর নিজেদের পরিকল্পনা মতো খেলতে পারলে সিরিজ শেষে আমরা একটা ভাল অবস্থানে থাকতে পারবো।’
আর অজি দলের জন্য খারাপ সংবাদ হল অ্যান্ডারসনের মতে এই সিরিজে এখনো ইংল্যান্ড নিজেদের সেরা খেলা দেখাতে পারেনি। দ্রুত অস্ট্রেলিয়ান টেলেন্ডারদের আউট করতে না পারা, দ্রুত নিজেদের কয়েকটি উইকেট হারিয়ে ফেলা—অ্যান্ডারসনের এমন বক্তব্যের পিছনে যথেষ্ট যুক্তিও আছে।
আগামী ১ আগস্ট থেকে ম্যানচেস্টারে শুরু হতে যাচ্ছে অ্যাশেজের তৃতীয় টেস্ট। অ্যান্ডারসন জোর দিয়ে বলেন ৩-০ বা ৪-০ গোলে এগিয়ে গেলেও তার দল কোনভাবেই নির্ভার হবে না, ‘এখন যে ধরনের ক্রিকেট খেলছি তাতে আমি সন্তুষ্ট। কিন্তু এখনো আমাদের দলের মধ্যে উন্নতির অনেক জায়গা আছে। লর্ডসে দুই ইনিংসেই আমরা ৩০ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলেছিলাম। আর তাদের (অস্ট্রেলিয়া) দশম উইকেট জুটি ভাঙতেও আমাদের ঘাম ছুটে গেছে। তবে এর মধ্যে দলের অনেকেরই ব্যক্তিগত পারফরমেন্স বেশ ভাল ছিল। আমাদের দলগত পারফরমেন্সে উন্নতি আনতে হবে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এটাই আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আসবে।’
নিজের ঘরের মাঠ বলে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যাচ মানেই অ্যান্ডারসনের জন্য অন্যরকম এক অনুভূতি। অথচ এই মাঠে এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলার সৌভাগ্য হয়েছে অ্যান্ডারসনের। তাই অনেকদিন পর এখানে অ্যাশেজের ম্যাচ হতে যাওয়ায় বেশ উত্ফুল্ল এই তারকা বলেন, ‘ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যাচ খেলা আমার জন্য সব সময়ই আনন্দের। আট বছর হল এখানে অ্যাশেজের কোন ম্যাচ হয় না। তাই এবারের ম্যাচের জন্য আমি মুখিয়ে আছি।’
সবশেষে নিজেদের বোলিং আক্রমণের প্রশংসা করে অ্যান্ডারসন বলেন, ‘আমরা এখন বেশ ভাল বোলিং করছি। আমাদের মধ্যে এখন বেশ ভাল সমন্বয় রয়েছে। সব মিলিয়ে আমাদের পারফরমেন্স ভাল হচ্ছে। কিন্তু আমরা খুব বেশি নিজেদের কাজের মধ্যে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। নিজেদের দায়িত্বের বাইরে কিছু করছি না। আমাদের আক্রমণে ভিন্নতা আনাটা এখন জরুরি।’